---Advertisement---

“কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ: জাহেরি ও বাতেনী রহস্য। দয়াল বাবা জালালী মাওলা”

দয়াল বাবা জালালী মাওলা কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ-জাহেরি ও বাতেনী রহস্যৎ-সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোরআনের প্রতিটি শব্দে গভীর জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক হিকমত লুকিয়ে আছে, যা বোঝার মাধ্যমে একজন ঈমানদার আল্লাহর কালাম সম্পর্কে আরও গভীর উপলব্ধি ও সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

May 1, 2026 11:11 AM
“কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ: জাহেরি ও বাতেনী রহস্য বিষয়ে দয়াল বাবা জালালী মাওলার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা”
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ- জাহেরি ও বাতেনী রহস্য- বোঝা একজন ঈমানদারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোরআন শুধু তেলাওয়াতের গ্রন্থ নয়, বরং এটি আল্লাহর এমন এক কালাম, যেখানে প্রতিটি শব্দের মধ্যে গভীর জ্ঞান, হিদায়াত এবং আধ্যাত্মিক রহস্য লুকিয়ে আছে। কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ বিষয়টি বুঝতে পারলে একজন মানুষ বাহ্যিক (জাহেরি) এবং অভ্যন্তরীণ (বাতেনী) জ্ঞানের মধ্যে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারে।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা এই কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ইসলামী জ্ঞানের গভীর দিক উন্মোচন করেছেন। এই লেখায় আমরা সেই জাহেরি ও বাতেনী অর্থের রহস্য বুঝতে চেষ্টা করব।

কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ: জাহেরি ও বাতেনী ধারণা

কোরআনের শব্দগুলোর অর্থ, ব্যবহার ও গভীর তাৎপর্য সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা কোরআনের শব্দগুলোর মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর বাণী বুঝতে চেষ্টা করি। কোরআনের আয়াতগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করার বিদ্যাকে ‘তাফসির’ বলা হয়।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
“কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে- একটি হলো জাহেরি (বাহ্যিক) অর্থ, আর অন্যটি হলো বাতিনি (অন্তর্নিহিত) অর্থ।”

কোরআন কেবল পাঠের বিষয় নয়; এটি এমন এক ঐশী গ্রন্থ, যার প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে আছে জ্ঞানের আলো, তাওহীদের রহস্য এবং অন্তরের আলো জ্বালানোর ইঙ্গিত।

তাফসীরে জালালাইন ও কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-

বর্তমানে ফাজিল ক্লাসে একটি তাফসীর পড়ানো হয়, যার নাম তাফসীরে জালালাইন। এটি দুইজন মিলে লিখেছেন।

ইমাম জালালুদ্দিন মহল্লী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন ১৫ পারা।
ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন ১৫ পারা। এই তাফসীরটি মাদ্রাসায় পাঠ্য হিসেবে পড়ানো হয়।

ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এককভাবে একটি তাফসীর লিখেছেন। বাংলাদেশ নয়, পৃথিবী বিক্রি করলেও তেনার এই তাফসীর পাওয়া যাবে না। তাফসীরের নাম হলো তাফসীরে দুররে মানসুর।

তিনি মোট ৫০০ কিতাব লিখেছেন এবং শিয়া গ্রন্থ থেকে দলিল নিয়ে একটি হাদিসের কিতাব রচনা করেছেন, যা আলেম ক্লাসে পড়ানো হয়। কিতাবটির নাম হলো মিশকাত।

মিশকাত ও মিরকাতের আলোকে কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ

এই মিশকাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ যিনি লিখেছেন, তিনি জামানার মোজাদ্দেদ ছিলেন না, তবে আমাদের হানাফি মাজহাবের একজন ফকিহ ছিলেন।

তিনি ১১ লক্ষ হাদিসের হাফেজ ছিলেন।
তিনি ১৯ শত কিতাব এবং ৭ খানা তাফসীর রচনা করেছেন। তেনার নাম হলো- মোল্লা আলী ক্বারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি।

তিনি মিশকাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মিরকাত লিখেছেন। মিরকাতের খোদবার হাসিয়াতে তিনি উল্লেখ করেছেন-

“আল্লাহ পাকের কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে- একটি জাহেরি অর্থ, আর অন্যটি বাতেনী অর্থ।
যে মৌলভি জাহেরি অর্থ করবে কিন্তু বাতেনী অর্থকে বাদ দিবে, সে হলো ‘ফাসেকে মোরাকাব নায়েবে শয়তান’। তার কথায় মানুষ গোমরা হবে, পথভ্রষ্ট হবে, জাহান্নামি হবে।
আবার যে মৌলভি বাতেনী অর্থ করবে কিন্তু জাহেরি অর্থকে বাদ দিবে, সে-ও ‘ফাসেকে মোরাকাব নায়েবে শয়তান’। তার কথায় মানুষ গোমরা হবে, পথভ্রষ্ট হবে, জাহান্নামি হবে।”

চার তাহকীক ও কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থের বাস্তব ব্যাখ্যা

আর যে আলেমেদীন একটি শব্দকে দুটি অর্থ করে চারটি তাহকীক (ইবারাতুন নস, ইশারাতুন নস, দালালাতুন নস, ইকতিজাউন নস) সহ জনসমুদ্রে তুলে ধরেন, তিনি হলেন আল্লাহ পাকের হাবিবের নায়েব।

ঐ নায়েব সম্প্রদায় যদি কোনো গ্রাম, গলি, পাড়া বা মহল্লা দিয়ে যান, আল্লাহ ডাক দিয়ে বলেন-
“বন্ধু ও বন্ধু! (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার উম্মত নায়েবের মহাব্বতে আমি খোদা ৪০ দিনের জন্য আযাব ও গজব বন্ধ করে দিলাম।”

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-

“আমি জ্ঞানী, গুণী ভাই-বাবাদের কাছে জানতে চাই- এখন আমাদের এলাকায় কয়েকশত আলেম আছে, কিন্তু গজব বন্ধ হয় না কেন? আল্লাহ তো বলেন, ‘আলেম যে রাস্তায় যাবে, গজব বন্ধ হবে, রহমত ও বরকত হবে।’ আমি দেখছি, আলেম যে রাস্তায় যায়, গজব আরও বেড়ে যায়। উল্টা শুরু হয়ে গেছে। হাকিকতে, এখনও আমরা আলেমে দীন (নায়েবে নবী) হতে পারি নাই।”

পরিশেষে

কোরআনের একটি শব্দের দুটি অর্থ- জাহেরি ও বাতেনী রহস্য- শুধু একটি তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং এটি গভীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধির একটি পথ। দয়াল বাবা জালালী মাওলার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোরআনের একটি শব্দে দুটি অর্থ বোঝা ছাড়া ইসলামী জ্ঞানের পূর্ণতা অর্জন করা কঠিন। তাই কোরআনের জাহেরি ও বাতেনী অর্থকে একসাথে অনুধাবন করাই একজন সত্যিকারের জ্ঞানপিপাসু ঈমানদারের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment