---Advertisement---

হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর মেওয়া ফল খাওয়ার ইচ্ছা এবং এক রহস্যময় ঘটনা।

October 29, 2025 1:56 PM
হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর মেওয়া ফল খাওয়ার ইচ্ছা এবং এক রহস্যময় ঘটনা
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর জীবনের শেষ সময়ে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। বেহেশতে থাকার সময়ে তিনি যে মেওয়া ফল খেতেন, তিনি জাহিরি ভাবে পর্দা করার আগে সেই ফল খাওয়ার ইচ্ছে জাগে তাঁর মনে। কিন্তু দুনিয়াতে তো বেহেশতের ফল পাওয়া যায় না! এই ইচ্ছা থেকেই শুরু হয় এক রহস্যময় ঘটনা- যেখানে দেখা যায় হযরত শিষ আলাইহিস সালাম-এর সেজদা, জিব্রাইল আলাইহিস সালাম-এর আগমন, এবং বেহেশতের হুরের মাধ্যমে এক অলৌকিক বার্তা পৌঁছে যায় হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর দরবারে।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বর্ণনা করেছেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর জীবনের এক গভীর ও রহস্যময় ঘটনা- যা মানব ইতিহাসে এক অনন্য আধ্যাত্মিক অধ্যায় হিসেবে আলো ছড়ায়। আসুন, দয়াল বাবা জালালী মাওলার বর্ণনায় সেই অলৌকিক ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি জানি।

হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর মেওয়া ফল খাওয়ার ইচ্ছা

হযরত আদম আলাইহিস সালাম বেহেশতে ছিলেন ১৩০ বছর। ১৩০ বছরের সময় মা হাওয়া কে আল্লাহ আদম আলাইহিস সালাম এর বাম পাজরের হাড় থেকে বানিয়েছেন। হযরত আদম আলাইহিস সালাম অসুস্থ কাত হয়ে শুয়ে আছেন। চিত হয়ে বলছেন, “আমার ছেলেমেয়া কোথায়?” তেনার সন্তান ছিল ৩৫৯ জোড়া। হযরত শিষ আলাইহিস সালাম এবং হাবিল ছাড়া বাকি সন্তানেরা জোড়ায় জোড়ায় এসেছে। হযরত আদম আলাইহিস সালাম সকল সন্তানদের ডাক দিয়ে বলেন, “সন্তানেরা, আমি বেহেশতে ছিলাম।” ছেলেমেয়ে বলে, “জি, আপনি বেহেশতে ছিলেন তো?” তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম বলেন, “বেহেশতে আমি মেওয়া ফল খেয়েছি।” সন্তানরা বলে, “হ্যাঁ, খেয়েছেন তো।” হযরত আদম আলাইহিস সালাম বলেন, “এখন আমার খুব মনে চায় মেওয়া ফল খেতে। আমি বিদায় নেওয়ার আগে তোমরা আমাকে মেওয়া ফল খাওয়াও, তা না হলে আমি তোমাদের মাফ দেবো না।” হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর সন্তানেরা বলে, “বাবা, এটা কি বললেন? তিনি বেহেশতে ছিলেন, বেহেশত থেকে মেওয়া ফল খেয়েছেন, এখন আমরা মেওয়া ফল কোথায় পাব?”

হযরত শিষ আলাইহিস সালাম এর সেজদা

হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর ছোট সন্তান হযরত শিষ আলাইহিস সালাম পিছনের দিকে একটা দৌড় দিয়েছে। দৌড়ে গিয়ে হেরা গুহায়, যেই খানে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিল্লা দিবে, সেই খানে গিয়ে শিষ আলাইহিস সালাম সেজদায় পড়ে গেছে। সেজদার মধ্যে পড়ে হযরত শিষ আলাইহিস সালাম বলে, “মাবুদ, আমার আব্বা বেহেশতে ছিল, বেহেশতে মেওয়া ফল খেয়েছে, এখন দুনিয়াতে মেওয়া ফল পাবো কোথায়? ও খোদা, তোমার নামের সঙ্গে যে নূরানী নাম মোবারক মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ঐ নামের গোলামী খাতায় নাম লিখলাম, ঐ নামের গোলাম হইলাম। এই আমি সেজদা দিলাম। কিয়ামত হবে আমাকে মেওয়া ফল না দিলে আমি মাথা উঠাবো না।”

জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এর আগমন

আল্লাহ বলেন, “জিব্রাইল, আমার বন্ধু (দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আছে শিষের মাথায়। আবার আমার বন্ধু (দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর গোলামী খাতায় নাম লিখেছে। তুমি একটা কাজ করো, সে তো পাগল মানুষ, মাথা তো উঠাবেনা। জান্নাতুল ফেরদৌসে গিয়ে সর্বসেরা হুরের সর্দার এর মাথায় এক টুকরি মেওয়া ফল দিয়ে শিষের সামনে নিয়ে যাও।” এবার জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এক টুকরি মেওয়া ফল হুরের সর্দার, যে মেয়েটি আছ, তার মাথায় দিয়ে শিষের সামনে আনছে। আল্লাহ নবীদের নবুয়ত দান করেননি ৪০ বছরের আগে। শিষ আলাইহিস সালাম ১৩ বছরের ছেলে, এই ছেলের সামনে তো জিব্রাইল আসতে পারে না। এখন আল্লাহ বলেন, “জিব্রাইল, তুমি দূর থেকে কথা বলো, শিষকে বলো মাথা তুলতে, তার দোয়া আমি কবুল করছি, মেওয়া ফল পাঠাইছি।” এখন জিব্রাইল আলাইহিস সালাম বলে, “শিষ, মাথা তুল, তোমার দোয়া আল্লাহ কবুল করছে, মেওয়া ফল পাঠাইছে।”

মেওয়া ফল ও হুরের আগমন

এখন হযরত শিষ আলাইহিস সালাম মাথা তুলতেই দেখে, “মাগো, অপরূপ সুন্দরী একজন মহিলা মেওয়া ফলের টুকরি মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।” হযরত শিষ আলাইহিস সালাম আবার সেজদায় গেছে। জিব্রাইল আলাইহিস সালাম বলে, “মাবুদ, তোমার শিষ তো আবার সেজদায় গেছে।” আল্লাহ বলে, “বুঝছি, তুমি বলো, শিষ আগে যাবে, মেয়ে যাবে পিছে পিছে।” এখন হযরত শিষ আলাইহিস সালাম যায় আগে, আগে, মেয়েটা যায় পিছে পিছে।

হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর আরজি

হযরত আদম আলাইহিস সালাম কাত হয়ে শুয়ে আছেন, চক্ষু বন্ধ। জিব্রাইল আলাইহিস সালাম গিয়ে বলে, “আদম, চিৎ হয়ে চেয়ে দেখ, তোমার শিষের মাধ্যমে তোমার জন্য আমার আল্লাহ মেওয়া ফল পাঠাইছে।” হযরত আদম আলাইহিস সালাম চিৎ হয়ে নজর করে দেখে, “বেহেশতের সর্দার, যে হুরটা, তার মাথায় মেওয়া ফলের টুকরি।” হযরত আদম আলাইহিস সালাম সুপরিচিত মেয়েটি, কারণ তিনি বেহেশতে ছিলেন, তিনি দেখছেন। হযরত আদম আলাইহিস সালাম বলে, “আল্লাহ, এই বেহেশতের মেয়ে, হুরের সর্দার, কীভাবে দুনিয়াতে এলো?” মাবুদ, তুমি বলো, তুমি বিমারির দোয়া কবুল করো। আমি নবীর পাঠ বাদ দিলাম। আমি বিমারী, তোমার কাছে আরজি করি, ও খোদা, আমার দোয়া কবুল করো। আনছো, মেয়ে, বেহেশতের হুর নিওনা, যদি রাখবা, আমি আমার শিষের বউ বানাবো।”

পরিশেষে

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন, “বেহেশত হতে যে মেয়েটি দুনিয়ায় এসেছে, যদি কেউ বলে, ‘মেয়েটি আমাদের মতো মানুষ, মাটির মানুষ,’ তার ঈমান থাকবেনা। মেয়েটি নূরের তৈরি। আল্লাহর বন্ধু (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিষ আলাইহিস সালাম এর মাথা হতে নূরের পেট হয়ে আসছে, মা আমেনার পেটে।”

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment