দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আমরা ‘গণ্ডমূর্খ’ শব্দটি দ্বারা বুঝি এমন ব্যক্তি, যিনি প্রচলিত অর্থে একেবারেই অশিক্ষিত, জ্ঞানহীন, সাধারণ মানুষ। তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা দুনিয়াবি জ্ঞানে বিশেষজ্ঞ নন। কিন্তু “ফানাফিল্লাহর স্তর অতিক্রমকারী গণ্ডমূর্খ, দুনিয়ার জ্ঞানী ব্যক্তির চেয়ে কোটি গুণে জ্ঞানী” আমরা এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।
ফানাফিল্লাহ অর্থ কী?
- “ফানা” অর্থ ধ্বংস বা বিলুপ্তি।
- “ফিল্লাহ” অর্থ আল্লাহর মধ্যে।
অর্থাৎ, এটি এমন একটি আধ্যাত্মিক স্তর, যেখানে একজন সাধকের ‘আমি’ বিলুপ্ত হয়ে যায়। সাধক নিজের অস্তিত্বের অনুভব হারিয়ে শুধু আল্লাহর অস্তিত্বে ডুবে যান। এককথায়, নিজ সত্তাকে ধ্বংস করে কেবল আল্লাহর অস্তিত্বে ডুবে যাওয়াকেই ফানাফিল্লাহ বলে।
খাজা বাবার পয়গাম
সুলতানুল হিন্দ, আতায়ে রসুল, খাজা গরিবে নেওয়াজ মঈনুদ্দীন চিশতী আজমেরী সাঞ্জারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
“একজন গণ্ডমূর্খও যদি ফানাফিল্লাহর স্তর অতিক্রম করে আসতে পারেন, তাহলে তিনি দুনিয়ার যে কোনো বিখ্যাত বিদ্বান ব্যক্তির তুলনায় কোটি গুণে জ্ঞানী হয়ে ওঠেন।”
দুনিয়াবি জ্ঞান বনাম আধ্যাত্মিক জ্ঞান
দুনিয়ার জ্ঞান আমরা অর্জন করি বই পড়ে, গবেষণা করে, তথ্য ও যুক্তি বিশ্লেষণ করে। এসব জ্ঞান মূলত বাহ্যিক যা আমাদের চারপাশের জগৎকে বুঝতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, যে ব্যক্তি ফানাফিল্লাহর স্তর অতিক্রম করেন, তিনি আল্লাহর সঙ্গে গভীর আত্মিক সংযোগ স্থাপন করেন। তেনার হৃদয়ে আলোর ঝর্ণাধারা বয়ে যায়। তিনি এমন এক জ্ঞানের অধিকারী হন, যা কেবল অনুভবের জগতে ধরা পড়ে- যুক্তি-তর্কের আয়ত্তে নয়। এই জ্ঞান তেনাকে করে আলোকিত, শান্ত এবং পরিপূর্ণ।
পরিশেষে
সুতরাং, কোনো ব্যক্তি গণ্ডমূর্খ হলে কী আসে যায়- যদি তিনি আল্লাহর প্রেমে নিজেকে বিলীন করে দিতে পারেন?










