দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
“হযরত শাহজালাল ও নিজামউদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সাক্ষাৎ এবং জালালী কবুতরের সূচনা” বাংলার ইতিহাসে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর আগমন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তিনি সিলেটে আগমনের পূর্বে দিল্লিতে অবস্থান করেন, যেখানে তেনার সাক্ষাৎ হয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত হযরত নিজামউদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সঙ্গে। এই সাক্ষাৎ ছিল এক আধ্যাত্মিক শক্তির নিগূঢ় মিলন। আসুন সেই সম্পর্কে জানি।
আধ্যাত্মিক শক্তির পরীক্ষা ও অলৌকিক ঘটনা
হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে, তিনি কিছুদিন দিল্লিতে অবস্থান করেন। সেই সময় দিল্লিতে ছিলেন একজন জগদ্বিখ্যাত আল্লাহর আউলিয়া, যেনার নাম হলো হযরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি। হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার আস্তানায় আসা-যাওয়া করতে লাগলেন। একদিন এক ভক্ত হযরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর কাছে গিয়ে বললেন, তাদের আস্তানায় একজন লোক এসেছেন। এ লোকের আধ্যাত্মিক শক্তি বেশ প্রবল এবং তার সংস্পর্শে আসলে দেহ ঠাণ্ডা হয়ে যায়, মনের দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়। অজানা জিনিসের ব্যাপারে তিনি না দেখেই বলে দিতে পারেন।
এ কথা শুনে হযরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি সিদ্ধান্ত নেন শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর আধ্যাত্মিক শক্তির পরীক্ষা করবেন। তিনি কিছু আগুন রুটির মধ্যে রেখে একটি কৌটায় খাবার হিসেবে পাঠালেন হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর কাছে। হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি কৌটা না খুলেই বুঝে যান এর মধ্যে কী আছে, কিন্তু তিনি কিছু না বলেই কৌটা খুলে সেই রুটি খেতে শুরু করেন। অবাক করা বিষয়, আগুন তেনার শরীরের কোনো ক্ষতি তো করেই নাই, বরং তা পরিণত হয় সুস্বাদু খাদ্যে। এ ছিল আধ্যাত্মিক শক্তির জলন্ত প্রমাণ।
জালালী কবুতরের সূচনা
এই অলৌকিক ঘটনা দেখে হযরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি অভিভূত হয়ে যান। তিনি নিজে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর কাছে এসে সাক্ষাৎ করেন, আলিঙ্গন করেন এবং নিজের পক্ষ থেকে ভালোবাসার স্মারক হিসেবে উপহার দেন এক জোড়া কবুতর।
হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি সেই কবুতর জোড়াকে ভালোবাসা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে সিলেটে নিয়ে আসেন। কালের পরিক্রমায় সেই কবুতরের বংশবৃদ্ধি ঘটে, এবং ধীরে ধীরে তারা পরিচিত হয়ে ওঠে “জালালী কবুতর” নামে যা আজও হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর মাজার শরীফে দেখা যায়।
পরিশেষে
মহান দুই জন আউলিয়ার এই মিলন ছিল এক অলৌকিক মুহূর্তের সাক্ষী, যেখানে পরীক্ষা ছিল প্রেম, আর প্রতিফল ছিল সম্মান। সেই মহামিলনের স্মৃতিচিহ্ন আজও সিলেটের আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় জালালী কবুতর রূপে, বহন করে আধ্যাত্মিকতার এক জীবন্ত ইতিহাস।








