---Advertisement---

হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম কীভাবে নবী ও বাদশাহ হলেন।

October 30, 2025 5:04 PM
হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম কীভাবে নবী ও বাদশাহ হলেন।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম এর পুত্ররা তেনার কাছে জানতে চেয়েছিল তাদের মধ্যে কে নবী এবং বাদশাহ হবে। তখন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তাদের দুইটি প্রশ্ন করেন- এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েই “ঠিক হয়, কে হবে ভবিষ্যতের নবী ও বাদশাহ। আজ আমরা আলোচনা করবো “হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম কীভাবে নবী ও বাদশাহ হলেন”।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা “হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম কীভাবে নবী ও বাদশাহ হলেন” – সে বিষয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছেন। তেনার  বাণীতে প্রকাশ পায় এক অনন্য সত্য: আল্লাহ তাআলা যখন কাউকে ভালোবাসেন, তখন তাঁকে শুধু মর্যাদা নয়, দান করেন ন্যায়, জ্ঞান ও করুণার আলোও।

মূল ঘটনা

হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম এর ১৭ জন (মতান্তরে ১৯ জন) পুত্র ছিল। একদিন তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করল-“আমরা কি সবাই নবী হবো? আমরা কি সবাই বাদশা হবো?” কিন্তু কেউই নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছিল না। অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো চলো, আমাদের আব্বার কাছে যাই। তিনি যাকে নবী বা বাদশাহ বলবেন, সেই-ই হবেন

রাত গভীর। সবাই একসঙ্গে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম এর ঘরে উপস্থিত হয়ে তেনার বিছানার চারপাশে দাঁড়ায়। হঠাৎ ঘুম ভেঙে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করেন, পুত্ররা “তোমরা ঘুমাওনি? একসঙ্গে কী জন্য এসেছো?” পুত্ররা উত্তর দেয়, “আব্বা, আমরা আপনার কাছে একটা প্রশ্ন নিয়ে এসেছি।”

হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম বলেন, “কি প্রশ্ন নিয়ে এসেছো?” তারা বলে, “আমরা সব ভাইয়েরা কি নবী হবো?” হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম বলেন, “না।” তারা আবার প্রশ্ন করে, “আমরা সব ভাইয়েরা কি বাদশা হবো?” হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম বলেন, “তাও না।” তখন তারা বলে, “তাহলে আপনি বলে দিন, কে নবী হবে, কে বাদশাহ হবে।”

হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম বলেন, “তোমাদের দুইটি প্রশ্ন করব। যে সঠিক উত্তর দিতে পারবে, সে-ই হবে নবী এবং বাদশাহ।” তখন সকল পুত্র একসঙ্গে আর্জি করে, “আব্বা, আপনি প্রশ্ন করুন।”

প্রথম প্রশ্ন

“বল তো, দুনিয়াতে সবচেয়ে সস্তা জিনিস কোনটি?”
হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম এর পুত্ররা একজন একজন করে একেকটি জিনিসের নাম বলে উত্তর দিতে থাকে। তখন হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম, ছোট ছেলে, পিছন দিক দিয়ে গিয়ে পিতার কপালে চুমু দিয়ে দাড়ির মধ্যে হাত রেখে, গালে গাল লাগিয়ে বলেন

“আব্বা,
আমার ভাইয়েরা যে উত্তর দিয়েছে,
আমি সুলায়মানকে আমার আল্লাহ যে বিবেক দিয়েছে,
আমি সুলায়মাননের মন মানে না।
আপনি দাউদ নবী, সাঁতার পিনের বাদশাহ।
এখন যদি মরে যান, আপনার কাফন-দাফন না দিয়ে যদি প্রত্যেক মহল্লায় মহল্লায় ঘুরি,
আপনি দাউদ নবীকে কেউ ১টা টাকা দিয়ে কিনে নিবে না।

আব্বা, আমার মন বলে,
মুরদা জিনিসটার মতো এত সস্তা জিনিস আর জগতে কিছু দেখি না।”

হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম চিৎকার করে বলেন,
“হে সুলায়মান! তোমাকে এই জ্ঞান কে দিয়েছে? তোমাকে এই আকল কে দিয়েছে?
আমি ইন্তেকালের পরে তুমি নবী হবে।”

হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম এর অন্য সকল পুত্র বলে,
“আমাদের ছোট ভাই যে কথা বলছে, সত্য বলছে।”

তখন তারা আবার বলল,
“আব্বা, আপনি দ্বিতীয় প্রশ্নটা বলেন।”

দ্বিতীয় প্রশ্ন

“বল তো, দুনিয়াতে সবচেয়ে দূরের দেশ কোনটি?”
হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম এর পুত্ররা একজন একজন করে এক একটি দেশের নাম বলে উত্তর দিতে থাকে। শেষে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন-

“আব্বা,
আমার ভাইয়েরা যে জবাব দিছে,
আমি সুলায়মানকে আমার আল্লাহ যে জ্ঞান দিয়েছে,
আমি সুলায়মাননের মন মানে না।
আমার ভাইয়েরা যেসব দেশ বলেছে, সেখানে চিঠিপত্র পাঠালে খবর পাওয়া যায়।
কিন্তু আমি যদি এখন মারা যাই,
আর আপনি আমাকে বাড়ির পুকুর পাড়ে মাটির নিচে কবর দেন
কেয়ামত পর্যন্ত আমার কোনো খবর কেউ জানবে না

আমার মন বলে-
কবরের মতো এত দূর দেশ আর কোথাও নাই।”

হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম চিৎকার দিয়ে বলেন-

“হে সুলায়মান!
তোমাকে এই জ্ঞান কে দিয়েছে?
কে তোমাকে এই আকল দিয়েছে?
আমি ইন্তেকালের পরে তুমি সুলায়মান
শুধু নবী নও, তুমি বাদশাহও হবে।”

পরিশেষে

এই ঘটনাটি আমাদের শেখায়– নবী বা বাদশাহ হওয়ার জন্য হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম এর সত্যিকারের জ্ঞান, গভীর চিন্তা, হৃদয়ের সঠিক অনুভব এবং বুদ্ধিদীপ্ত উত্তরই প্রমাণ করে-
আল্লাহ যাকে চান, তাকেই হিকমত দিয়ে সম্মানিত করেন।
নবুয়ত ও বাদশাহি তাঁরই পক্ষ থেকে দান।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment