দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
চলন্ত ট্রেন থেমে গেল- আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর অলৌকিক কারামত” আজ আমরা আলোচনা করব সেই অলৌকিক কারমতটি সম্পর্কে, যা আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর জীবনের এক অনন্য কারামতের নিদর্শন। এ কারামতটি আজও তেনার ভক্তদের অন্তরে ঈমানের আলোকে জ্বালিয়ে তোলে, দৃঢ় বিশ্বাসে পরিপূর্ণ করে হৃদয়কে।
চলুন, আমরা গভীরভাবে জানি ও উপলব্ধি করি সেই অলৌকিক কারামত, যা প্রমাণ করে দেয়- আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের মাধ্যমে কিভাবে নিজের কুদরতের পরিচয় দেন।
আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এর অলৌকিক কারামত
একবার আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি তেনার কিছু ভক্ত-অনুসারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার জন্য আগেভাগেই ট্রেনের টিকিট কাটেন। সবাই যথাসময়ে স্টেশনে পৌঁছে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে, মাগরিবের ওয়াক্ত হয়ে যায়। আ’লা হযরত ক্বেবলা তখন সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“চলো, মাগরিবের নামাজ আদায় করে নিই।”
কিন্তু কিছু ভক্ত চিন্তিত হয়ে বললেন,
“বাবা, যদি নামাজে দাঁড়াই, তবে ট্রেন তো চলেই যাবে!”
আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি দৃঢ়ভাবে উত্তর দিলেন,
“ইনশাআল্লাহ, আমাদের ছাড়া ট্রেন যাবে না।”
তেনারা সবাই নামাজে দাঁড়িয়ে পড়লেন। ট্রেন তখন হুইসেল দিয়ে স্টেশন ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু তেনারা ভ্রুক্ষেপ না করে ফরজ, সুন্নত ও নফল নামাজ শেষ করে তাসবীহ-তাহলিলে মগ্ন থাকেন।
কিছুক্ষণ পর, স্টেশন ম্যানেজার, রেলকর্মী এবং ট্রেনের চালক দৌড়ে এসে আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এর সামনে হাজির হন। একজন ভক্ত বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“কী ব্যাপার? আপনারা এত ব্যস্ত হয়ে আসছেন কেন?”
তখন রেলের একজন কর্মকর্তা বললেন,
“হুজুর, ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ার পর কাছের একটি সেতুতে গিয়ে থেমে গেছে। সামনেও যাচ্ছে না, পিছনেও আসছে না। ইঞ্জিন পরীক্ষা করে দেখা গেল, যান্ত্রিক কোনো সমস্যা নেই। ট্রেনে থাকা যাত্রীরা বলাবলি করছে, ব্রেলী শরীফের কোনো অলিয়ে কামেল নামাজে মগ্ন ছিলেন, ট্রেন বোধহয় তাঁর ইশারাতেই থেমে গেছে।”
তারা আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এর পায়ের কাছে পড়ে ক্ষমা চাইতে লাগল।
“হুজুর, আমাদের ভুল হয়ে গেছে। ক্ষমা করে দিন।”
আ’লা হযরত ক্বেবলা শান্তভাবে বললেন,
“আমি কেন ট্রেন থামাবো? আমি তো শুধু আমার আল্লাহর ইবাদত করছিলাম। যদি ট্রেন থেমে থাকে, তবে সেটা আমার আল্লাহর হুকুমেই থেমেছে।”
এরপর তিনি বললেন,
“আল্লাহ চাইলে ট্রেন চলবে। আপনারা যান, ট্রেনটিকে ফেরত নিয়ে আসুন।”
তারা ট্রেনে গিয়ে চেষ্টা করল সামনে চালাতে- কিন্তু ট্রেন এক ইঞ্চিও এগোল না। অবশেষে পেছনের দিকে চালানোর চেষ্টা করলে ট্রেন চলতে শুরু করল এবং ধীরে ধীরে স্টেশনে ফিরে এল।
আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এবং তেনার ভক্তরা ট্রেনে উঠে বসতেই ট্রেন পুনরায় চলা শুরু করল।
পরিশেষে
চলন্ত ট্রেনের থেমে যাওয়া ছিল আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর এক স্পষ্ট কারামত- যা প্রমাণ করে, আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের মাধ্যমে ইচ্ছামতো কুদরত প্রকাশ করেন। এটি শুধু একটি অলৌকিক ঘটনা নয়; বরং এক অবিনশ্বর সত্য, যা যুগে যুগে ঈমানদারদের অন্তরে বিশ্বাস, ভালোবাসা ও আস্থার আলো জ্বালিয়ে দেয়।









