---Advertisement---

যে মহাসৌভাগ্যের কারণে জমিন কখনোই বৃদ্ধ হবে না।

November 3, 2025 6:01 PM
যে মহাসৌভাগ্যের কারণে জমিন কখনোই বৃদ্ধ হবে না।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন আল্লাহর জাতি নূরের জ্যোতি। তেনার শরীর মোবারক থেকে যা কিছু বের হয় তাও নূর। এমনকি তেনার পায়খানা ও প্রসাব মোবারকও জগতের কোন মানুষের মত নয় ‍সেটিও নূর। তাইতো তেনার মর্যাদা সবকিছুর ঊর্ধ্বে

দয়াল বাবা জালালী মাওলা সেই মহাসৌভাগ্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যার কারণে জমিন কখনোই বৃদ্ধ হবে না। তিনি এ বিষয়ে হৃদয়স্পর্শী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। আসুন, সেই আলোচনা সম্পর্কে আমরা জানি।

জমিন কখনোই বৃদ্ধ হবে না।

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনার পথে যাত্রা করছেন। তিনি সওয়ার ছিলেন তেনার উটনী কাসওয়া-এর ওপর। হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে বললেন সাহাবারা।

সাহাবীগণ বললেন- “ইয়া রাসুলাল্লাহ!” নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন- “আমার হাজত হয়েছে, আমি প্রস্রাব করব।”

সাহাবীগণ সঙ্গে সঙ্গে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উটনির পিঠ থেকে নামিয়ে দিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেশাব করতে যাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পরে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে তাকিয়ে দেখলেন ৮ হাজার ১৪ জন সাহাবি তেনার পিছু নিয়েছেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উদ্দেশে বললেন- “সাহাবীরা তোমরা কোথায় যাচ্ছ? আমার তো হাজত হয়েছে, আমি পেশাব করতে যাচ্ছি।” সমস্ত সাহাবি দাঁড়িয়ে থাকলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাচ্ছেন, যাচ্ছেন, কিন্তু প্রস্রাব করার জন্য বসতে পারছেন না।

আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে উদ্দেশ করে বললেন-
“হে জিব্রাইল! আমার বন্ধু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কষ্ট পাচ্ছেন, আর আমি খোদার সহ্য হয় না। হে জিব্রাইল! সৃষ্টি জগতের সমস্ত সৃষ্টির শরম এক পাল্লায় রাখলে আর আমার বন্ধুর সরম মোবারক এক কোটি ভাগ করে একটি ভাগ অপর পাল্লায় রাখলে, আমার বন্ধুর সরমের ওজনই বেশি হয়ে যাবে। জিব্রাইল! আমার বন্ধু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কষ্ট পাচ্ছেন, তুমি যাও, জাবালে নূর, জাবালে সুর ও হেরা পর্বত দিয়ে আমার বন্ধু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য একটি এস্তেঞ্জাখানা বানিয়ে দাও।”

জিব্রাইল আলাইহিস সালাম সঙ্গে সঙ্গে তিনটি পাহাড় দিয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য একটি পেশাবখানা বানিয়ে দিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে হাজত সারলেন।

জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আরজ করলেন-
“হে মাবুদ! আমার বেয়াদবি মাফ করুন! আমি আদম আলাইহিস সালামের কাছে ৭ আসমানের জিব্রাইল ৪২ বার গেছি। ও খোদা! আদমে সানী নূহ আলাইহিস সালামের কাছে ৩১১ বার গেছি। ও খোদা! ইবরাহিম খলিলুল্লাহর কাছে ৪১৩ বার গেছি। মুসা কালিমুল্লাহর কাছে ২০৯ বার গেছি। আমি অন্য সকল নবী আলাইহিস সালামগণের কাছেও গেছি। আপনার বন্ধু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় হিজরত করে মদিনার দিকে রওনা হয়েছেন দিনে এবং রাত্রে, পাহাড়ে এবং জঙ্গলে- আজ হতে অধ্যবধি আপনার বন্ধু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে ৭২ হাজার বার গেছি।

ও খোদা! আদম আলাইহিস সালাম এর কাছে গেলাম- তেনার প্রসাব-পায়খানা দেখলাম। আদমে সানী নূহ আলাইহিস সালাম এর কাছে গেলাম তেনার প্রসাব-পায়খানা দেখলাম। ইবরাহিম খলিলুল্লাহর কাছে গেলাম, তেনার প্রসাব-পায়খানা দেখলাম। মুসা আলাইহিস সালাম এর কাছে গেলাম তেনার প্রসাব-পায়খানা দেখলাম। দাউদ আলাইহিস সালাম এর কাছে গেলাম তেনার প্রসাব-পায়খানা দেখলাম। সোলায়মান আলাইহিস সালাম এর কাছে গেলাম তেনার প্রসাব-পায়খানা দেখলাম। ও খোদা সমস্ত নবী আলাইহি সালামগণের প্রসাব-পায়খানা দেখলাম।

ও খোদা! এই জীবনে ৭২ হাজার বার আপনার বন্ধু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে গিয়েছি, কোনোদিন আপনার বন্ধুর প্রসাব-পায়খানা মোবারক আমি দেখিনি। এখন আমি প্রসাবখানা বানিয়ে দিয়েছি, আপনার বন্ধু কি প্রসাব করছেন না পায়খানা করছেন- আমাকে একটু আদেশ দিন, আমি একটু তদারক করি।”

আল্লাহ বললেন-“যাও না জিব্রাইল।”
জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এসে দেখলেন- মাটি শুকনো, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রসাব করছেন না, পায়খানা করছেন তার কোনো চিহ্ন নেই।

তখন জিব্রাইল আলাইহিস সালাম বললেন- “আল্লাহ! আপনার বন্ধু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেশাব করছেন না, পায়খানা করছেন- তার কোনো চিহ্ন নেই।”

আল্লাহ বললেন-“হে জিব্রাইল, তুমি জমিনকে জিজ্ঞেস করো।”

জিব্রাইল আলাইহিস সালাম জমিনকে জিজ্ঞেস করলেন-
“জমিন! আমি জাবালে নূর, জাবালে সুর ও হেরা পর্বত দিয়ে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য একটি এস্তেঞ্জাখানা বানিয়ে দিলাম। আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পায়খানা করছেন না পেশাব করছেন-আমি তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।”

জমিন বিনম্র কণ্ঠে বলল—
“হে জিব্রাইল! আল্লাহ চাইলে অবশ্যই আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অন্য কোনো গ্রহেও পাঠাতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ ও বিশেষ দয়া করে তেনাকে আমার বুকেই প্রেরণ করেছেন।

নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রসাব ও পায়খানা মোবারক যাতে কোনো প্রাণী খেয়ে অপবিত্র না করে, সেই জন্য আমি জমিন- আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হাজত করেন, তখন আমি ফাঁক হয়ে যাই। আর যখন তিনি হাজত সারেন, তখন আমি আবার মিলিয়ে যাই।

আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রসাব ও পায়খানা মোবারক ভক্ষণ করার মহাসৌভাগ্যের কারণে কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত সৃষ্টি বৃদ্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু আমি জমিন কখনোই বৃদ্ধ হব না।”

পরিশেষে

আল্লাহর হাবীব নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরীর মোবারক থেকে যা কিছু বের হয়, তা রহমত ও বরকতে ভরপুর। এ বরকতের কারণেই কিয়ামত পর্যন্ত সব সৃষ্টি বৃদ্ধ হবে, কিন্তু জমিন কখনোই বৃদ্ধ হবে না

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment