দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
এক কেতলি পানিতে থামল কলেরা- শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর কারামত সম্পর্কে আলোচনা করব। এ ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারব- আল্লাহর ওলীদের জীবনে এমন কিছু বিষয় ঘটে, যা মানুষের সাধারণ বোধশক্তিকে বিস্মিত করে। তেনাদের একটি দোয়া কখনো অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয় হয়ে ওঠে। যখন সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখনই তেনাদের মাধ্যমে আল্লাহ রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। তেমনই এক হৃদয়বিদারক, অথচ আশাজাগানিয়া ঘটনা তুলে ধরছেন এক প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
ঘটনার বর্ণনা
সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম
পিতা- সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি
ফরহাদাবাদ দরবার শরীফ, গ্রাম- ফরহাদাবাদ
থানা- হাটহাজারী, জেলা- চট্টগ্রাম।
তিনি বলেন-
“সাতাত্তর সালের চৈত্র মাসের ওরশ শরীফের সময়কার ঘটনা। সেই সময় আমাদের পরিবারে প্রায় সবাই কলেরায় আক্রান্ত হয়েছিল। চারদিকে যেন শোক আর আতঙ্কের ছায়া- কেউ অসুস্থ, কেউ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
ওরশের দিন সন্ধ্যা প্রায় সাতটার সময় আমি শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমতুল্লাহি আলাইহির হুজরায় উপস্থিত হলাম।
তিনি আমাকে দেখেই বললেন-
‘মামা সাহেব, কখন এসেছেন? কেমন আছেন? এখানে আসুন, বসুন।’
আমি সংকোচ বোধ করছিলাম, কিন্তু তিনি বারবার অনুরোধ করায় তেনার নির্দেশ পালন করে কিছুক্ষণ বসলাম। এরপর পাশে একটি বেতের সোফায় গিয়ে বসলাম।
সুযোগ বুঝে বিনয়ের সাথে বললাম-
‘বাবাজী, আমাদের ঘরে সবাই কলেরায় আক্রান্ত। আপনি একটু মেহেরবানি করুন।’
তিনি শান্তভাবে বললেন-
‘আরো একটু আগে আসলেন না কেন?’
এরপর পাশে থাকা পানি ভর্তি একটি কেতলি হাতে দিয়ে বললেন-
‘এই পানি সবাইকে পান করাবেন। আল্লাহর কৃপায় ভালো হয়ে যাবে।’
আমি আনন্দ ও আশায় পূর্ণ হৃদয়ে সেই কেতলি নিয়ে আহমদ ফকিরকে সাথে নিয়ে দ্রুত বাড়িতে পৌঁছালাম।
কিন্তু বাড়িতে গিয়ে যে দৃশ্য দেখলাম, তা হৃদয় ভেঙে দেওয়ার মতো-
আমার বড় কন্যার এক মেয়ে ইতিমধ্যে ইন্তেকাল করেছে।
মুহূর্তটি ছিল গভীর বেদনার, তবুও আমি ভেঙে না পড়ে সঙ্গে সঙ্গে হুজুরের দেওয়া তাবারুক পানি পরিবারের সবাইকে পান করালাম।
অলৌকিকভাবে, সেই পানি পান করার পরপরই একে একে সবার অবস্থা ভালো হতে শুরু করল।
যারা মৃত্যুর মুখে ছিল, তারা সুস্থতার পথে ফিরে এলো।
তিনি আরও বলেন-
‘শাহানশাহ মাইজভান্ডারীর মেহেরবানী না হলে, আল্লাহই ভালো জানেন-আর কতজনকে হারাতে হতো।’”
পরিশেষে
এই ঘটনা আমাদের শেখায়- আল্লাহর ওলীরা শুধু দোয়া করেন না, বরং তেনাদের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত মানুষের জীবনে নেমে আসে। যেখানে চিকিৎসা ও প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়, সেখানে তেনাদের তাবারুক ও দোয়া হয়ে ওঠে শেষ আশার আলো।
আসুন, আমরা তেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করি এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করি-কারণ তেনাদের মাধ্যমেই আমাদের জীবনে রহমতের দ্বার উন্মুক্ত হয়।








