দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
বর্তমান যুগে হক ও বাতিলের পার্থক্য বোঝা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজকের ফিতনার সময়ে সত্য ও মিথ্যা এমনভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপিত হয় যে অনেকেই হক ও বাতিলের পার্থক্য সহজে বুঝতে পারে না। বাহ্যিক চাকচিক্য, চমকপ্রদ যুক্তি এবং বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারা অনেক সময় বাতিলকে সত্যের রূপে প্রকাশ করে।
একজন ঈমানদারের জন্য হক ও বাতিলের পার্থক্য জানা জরুরি। কারণ এই জ্ঞান মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে এবং সত্যের পথে অটল থাকতে সাহায্য করে। কুরআন, সুন্নাহ এবং আউলিয়ায়ে কেরামের শিক্ষা আমাদের সঠিক পথ চিনতে সহায়তা করে।
অন্তরের অন্ধত্ব হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝতে বাধা দেয়
মানুষ যখন গুনাহ, অহংকার এবং দুনিয়ার মোহে নিমজ্জিত হয়, তখন তার অন্তর আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ফলে সে সামনে সত্য দেখেও তা উপলব্ধি করতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“নিশ্চয়ই চোখ অন্ধ হয় না; বরং অন্ধ হয় অন্তর, যা বক্ষের মধ্যে রয়েছে।”
(সূরা-হাজ্জ : ৪৬)
অন্তর অন্ধ হয়ে গেলে মানুষ হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝতে ব্যর্থ হয়।
দুনিয়ার চাকচিক্য হক ও বাতিলের পার্থক্য আড়াল করে
শয়তান বাতিলকে এমনভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করে, যাতে তা আকর্ষণীয় মনে হয়। ফলে মানুষ বাহ্যিক সৌন্দর্যে বিভ্রান্ত হয়ে সত্য থেকে দূরে সরে যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“শয়তান তাদের কার্যকলাপকে তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে তুলেছে।”
(সূরা আন-নাহল : ৬৩)
এভাবেই মানুষ হক ও বাতিলের পার্থক্য ভুলে যায়।
ওলী আল্লাহদের সোহবত হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে
হক ও বাতিলের পার্থক্য বোঝার জন্য ওলী আল্লাহদের সোহবত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওলী আল্লাহগণ হলেন আল্লাহর প্রিয় বন্ধু। তাঁদের জীবন কুরআন ও সুন্নাহর বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তাঁদের সান্নিধ্যে অন্তর পরিশুদ্ধ হয় এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
“নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রকৃত অনুসারী হলেন ওলী আল্লাহগণ। তাঁরা মানুষকে হকের পথের সঠিক দিশা দেখান এবং অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেন।”
অহংকার মানুষকে হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝতে দেয় না
অনেক মানুষ সত্য জানার পরও অহংকারের কারণে তা গ্রহণ করতে পারে না।
ইবলিস আল্লাহর নির্দেশ জানত, কিন্তু অহংকারের কারণে তা মানেনি। ঠিক তেমনি অহংকার মানুষকে হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝেও তা গ্রহণে বাধা দেয়।
হক ও বাতিলের পার্থক্য বোঝার উপায়
যে ব্যক্তি হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝতে চায়, তাকে কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে-
- নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যথাযথভাবে অনুসরণ ও মানা
- ওলী আল্লাহদের সোহবত গ্রহণ করা
- কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
- অহংকার ত্যাগ করা
- গুনাহ থেকে দূরে থাকা
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যথাযথভাবে মানা মানেই হকের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকা। তেনাকে অনুসরণ করলে মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সহজে বুঝতে পারে এবং সরল পথে অটল থাকতে সক্ষম হয়।”
পরিশেষে
হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝতে না পারার মূল কারণ হলো অন্তরের অন্ধত্ব, অহংকার, দুনিয়ার মোহ এবং সত্যের সঙ্গ থেকে দূরে থাকা।
যে ব্যক্তি নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যথাযথভাবে মেনে আউলিয়ায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে হক ও বাতিলের পার্থক্য বোঝার তাওফিক দান করবেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হক ও বাতিলের পার্থক্য বুঝে হকের পথে অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।








