দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
বর্তমান যুগে শয়তানের কৌশল এত সূক্ষ্ম ও জটিল হয়ে উঠেছে যে অনেক মানুষ অজান্তেই বাতিলকে সত্য মনে করে গ্রহণ করছে। বাহ্যিক সৌন্দর্য, মিথ্যা যুক্তি, প্রবঞ্চনাময় চিন্তাধারা এবং দুনিয়ার চাকচিক্যের মাধ্যমে শয়তানের কৌশল মানুষের অন্তরকে বিভ্রান্ত করে দেয়। ফলে মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে ব্যর্থ হয় এবং অজান্তেই হকের পথ থেকে দূরে সরে যায়।
আজকের সময়ে শয়তানের কৌশল শুধু প্রকাশ্য গুনাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কখনও তা সুন্দর কথার আড়ালে, কখনও আধুনিকতার মোড়কে, আবার কখনও মিথ্যা যুক্তির মাধ্যমে মানুষের সামনে উপস্থিত হয়। এভাবেই শয়তানের কৌশল মানুষের বিবেককে দুর্বল করে দেয় এবং বাতিলকে সত্য বলে বিশ্বাস করাতে চেষ্টা করে।
কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের শিক্ষা দেয়, শয়তানের কৌশল বুঝতে পারলে মানুষ হক ও বাতিলের পার্থক্য সহজে চিনতে পারে এবং বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে সক্ষম হয়। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং আউলিয়ায়ে কেরামের সোহবত মানুষকে সত্যের পথে দৃঢ় রাখে। তাই একজন ঈমানদারের জন্য শয়তানের কৌশল সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
শয়তানের কৌশল: বাতিলকে সুন্দর করে দেখানো
শয়তানের কৌশল হলো মানুষের সামনে মিথ্যাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে তা সত্য ও আকর্ষণীয় বলে মনে হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
“শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের কাছে শোভনীয় করে তুলেছে।”
(সূরা আন-নাহল : ৬৩)
এটাই শয়তানের কৌশল- সে অসত্যকে সুন্দর রূপে প্রকাশ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
সন্দেহ সৃষ্টি করা শয়তানের কৌশল
মানুষকে পথভ্রষ্ট করার বড় শয়তানের কৌশল হলো সন্দেহ সৃষ্টি করা।
সে মানুষের অন্তরে প্রশ্ন তোলে-
- এটা কি সত্যিই ভুল?
- সবাই যদি করে, তাহলে খারাপ কেন?
- এত মানুষ কি ভুল হতে পারে?
এই সন্দেহ ধীরে ধীরে মানুষকে হক থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
দুনিয়ার মোহ সৃষ্টি করা শয়তানের কৌশল
আরেকটি বড় শয়তানের কৌশল হলো দুনিয়ার চাকচিক্যকে বড় করে দেখানো।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, জনপ্রিয়তা ও বাহ্যিক সফলতাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন এগুলোই সত্যিকারের সফলতা।
কিন্তু এগুলো সাময়িক; প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
ওলী আল্লাহদের থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া
শয়তানের কৌশল হলো মানুষকে ওলী আল্লাহদের সোহবত থেকে দূরে রাখা।
কারণ নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রকৃত অনুসারী হলেন ওলী আল্লাহগণ। তাঁরা মানুষকে হকের সঠিক পথ দেখান।
যখন মানুষ তাঁদের থেকে দূরে সরে যায়, তখন বিভ্রান্তি সহজে তাকে গ্রাস করে।
অহংকার সৃষ্টি করা শয়তানের কৌশল
সবচেয়ে ভয়ংকর শয়তানের কৌশল হলো অহংকার সৃষ্টি করা।
ইবলিস নিজেই অহংকারের কারণে ধ্বংস হয়েছে। আজও মানুষ নিজের জ্ঞান ও যুক্তিকে বড় মনে করে সত্য প্রত্যাখ্যান করে।
অহংকার মানুষের অন্তরকে অন্ধ করে দেয়।
শয়তানের কৌশল থেকে বাঁচার উপায়
শয়তানের কৌশল থেকে বাঁচতে হলে-
- নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যথাযথভাবে মানতে হবে
- কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরতে হবে
- ওলী আল্লাহদের সোহবত গ্রহণ করতে হবে
- অহংকার ত্যাগ করতে হবে
পরিশেষে
শয়তানের কৌশল হলো মানুষকে ধীরে ধীরে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে বাতিলকে সত্য বলে বিশ্বাস করানো।
যে ব্যক্তি নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যথাযথভাবে মেনে আউলিয়ায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে শয়তানের কৌশল বুঝে হকের পথে অটল থাকার তাওফিক দান করবেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে শয়তানের কৌশল থেকে হেফাজত করুন এবং হকের পথে অটল রাখুন। আমিন।








