আমার মেথররা উপোষ-বিশ্বওলী শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর কারামত।

আমার মেথররা উপোষ-বিশ্বওলী শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর কারামত।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

মানবতার প্রতি গভীর মমতা, দয়া ও দায়িত্ববোধে আল্লাহর ওলী-আউলিয়াগণ পরিপূর্ণ। তেনাদের অন্তর্দৃষ্টি এতটাই প্রখর যে, মানুষের অদেখা কষ্টও তেনাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায় না। কখনো একটি বাক্যই ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলে, উন্মোচন করে অবহেলার কঠিন বাস্তবতা। তেমনই এক হৃদয়স্পর্শী ও শিক্ষণীয় ঘটনা- “আমার মেথররা উপোষ”- বিশ্বওলী শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর কারামত এখানে তুলে ধরা হলো।

কেউ জানত না-তবুও তিনি জানলেন

মাঘ মাসের ওরশ শরীফের সকল কাজকর্ম প্রায় শেষ। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা ধীরে ধীরে যার যার ঘরে ফিরে গেছেন। যারা বাকি ছিলেন, তারাও ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা লোকজনও ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে এখানে-সেখানে ঘুমিয়ে পড়েছেন। চারপাশে এক নীরবতা-যেন সবকিছু স্তব্ধ।

ঠিক এমন সময়, সকাল প্রায় ১০টার দিকে-
বিশ্বওলী শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমতুল্লাহি আলাইহি হুজরা থেকে হঠাৎ বেরিয়ে এসে উচ্চস্বরে ডাকতে লাগলেন-
“বক্তেয়ার মিয়া! বক্তেয়ার মিয়া!”

বক্তেয়ার মিয়া বলেন-
“আমি তখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে গভীর ঘুমে ছিলাম। হুজুরের ডাক শুনে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। তাড়াতাড়ি উঠে তেনার কাছে হাজির হলাম।”

তিনি বলেন-
“হুজুরকে দেখলাম অশ্রুসজল চোখে, দুঃখভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলছেন-
‘আমার মেথররা সারারাত উপোষ রয়েছে কেউ তাদের খোঁজখবর নেয়নি।’”

এই কথা শুনে আমি গভীর লজ্জা ও অনুশোচনায় ভেঙে পড়লাম।
হাত জোড় করে বললাম-
“বাবাজান, বড় ভুল হয়ে গেছে। আমাদের ক্ষমা করুন। আর কখনো এমন হবে না। এখনই ব্যবস্থা করছি।”

হুজুর নীরবে ভেতরে চলে গেলে আমরা আর এক মুহূর্ত দেরি করিনি। দ্রুত মেথরদের ডেকে এনে সম্মানের সঙ্গে খাবারের ব্যবস্থা করলাম।
তাদের কাছে আমাদের ভুল স্বীকার করলাম এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলাম।

অবাক করার বিষয়-
এই ঘটনা সম্পর্কে কেউই হুজুরকে কিছু জানায়নি। তবুও তিনি যেন অন্তরের দৃষ্টিতে সবকিছু অবলোকন করেছিলেন।

এই ঘটনাটি হক মঞ্জিলের প্রথম ১০ই মাঘের ওরশ শরীফ, ১৯৭৫ সালের এক স্মরণীয় শিক্ষা।

পরিশেষে

এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর ওলী-আউলিয়াগণ ইলমে গায়েব জানেন। কেউ কিছু না বললেও তেনারা মানুষের কষ্ট ও অবহেলার বিষয় অনুভব করতে পারেন। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহ যাঁকে ইচ্ছা করেন, তাঁর অন্তরে বিশেষ নূর দান করেন, যার মাধ্যমে তিনি অদেখাকেও দেখতে সক্ষম হন।

👉 এখানে চাপ দিয়ে ফ্রিতে Monetag অ্যাকাউন্ট খুলুন

© ২০২৬ golammorshedjalali.com • সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

💰 বিজ্ঞাপন ও মনিটাইজেশন: Monetag | 🌐 হোস্টিং: Putul Host

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Related Stories

Leave a Comment