দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
অলী-আউলিয়াগণের দরবারে এমন কিছু কারামত প্রকাশিত হয়, যা সাধারণ দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করা দুষ্কর; কিন্তু মুমিনের অন্তরে তা ঈমানের দীপ্ত আলো প্রজ্বলিত করে। এইসব প্রকাশিত কারামত নিছক গল্প নয়-এগুলো বিশ্বাস, ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিক শক্তির জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তেমনই এক বিস্ময়কর ও হৃদয় কাঁপানো ঘটনা আমাকে চিন?”- এক বাক্যে থেমে গেল বৃষ্টি: শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী-এর কারামত যা জড়িয়ে আছে বাবা ভান্ডারীর খোশরোজ শরীফকে ঘিরে।
আসুন, এই অলৌকিক ঘটনার গভীরে প্রবেশ করে এর অন্তর্নিহিত রহস্য ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অনুধাবনের চেষ্টা করি।
আমাকে চিন?- এক বাক্যে থেমে গেল বৃষ্টি
১৯৭৫ সালের ১৪ই অক্টোবর, বাংলা ২৭শে আশ্বিন। দিনটি ছিল হযরত মাওলানা সৈয়দ গালামুল রহামান বাবা ভান্ডারী রহমাতুল্লাহ আলাইহি-এর পবিত্র জন্মদিন- খোশরোজ শরীফ।
কিন্তু আগের রাত থেকেই প্রকৃতি যেন ভিন্ন এক আবহ ধারণ করে। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়, আর টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হয়ে থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছিল না। চারদিকে এক ধরনের নিস্তব্ধতা-যেন আনন্দের আয়োজনকে আড়াল করে রেখেছে মেঘের আবরণ।
সকাল গড়িয়ে প্রায় নয়টা। এমন সময় হঠাৎ বাবাজান, শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহ আলাইহি দরবারের গেটের সামনে এসে দাঁড়ালেন।
আমি সামনে পড়তেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন-
“ডেকোরেশন এখনো হয়নি কেন? গাছগুলোতে রঙিন বাল্ব লাগিয়ে সাজিয়ে দাও”
আমি কিছুটা সংকোচ নিয়ে উত্তর দিলাম-
“বৃষ্টি হচ্ছে, তাই এখনো সাজসজ্জার কাজ শুরু করা যায়নি।
আমার কথা শেষ হতেই তিনি এক বিশেষ জজবার হালে বললেন-
“আমাকে চিন?”
এই বাক্য উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে এক অভাবনীয় দৃশ্য চোখের সামনে উদ্ভাসিত হলো। তেনার মুখমণ্ডল হঠাৎ এমন এক তীব্র জ্যোতিতে দীপ্ত হয়ে উঠল, যেন শত সূর্যের আলো একত্রে ঝলসে উঠেছে! মুহূর্তের মধ্যেই সেই আলো আবার নিভে গেল।
ভয়ে ও বিস্ময়ে আমার শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগল। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম-সময়ের হিসাব যেন হারিয়ে ফেলেছিলাম।
এরপর বাবাজান হুজরায় প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিলেন।
কিছুক্ষণ পর যখন আমার চেতনা স্বাভাবিক হলো, তখন চোখ তুলে দেখি- আকাশ আর আগের মতো নেই। ধীরে ধীরে মেঘ সরে যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল, আর ঝলমলে রোদ চারদিক আলোকিত করে তুলল।
যে বৃষ্টি কিছুক্ষণ আগেও থামার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছিল না, তা যেন এক মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেল!
এরপর আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে ডেকোরেশনের কাজ সম্পন্ন হলো। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভক্তিভরে খোশরোজ শরীফের সমস্ত আয়োজন সুন্দরভাবে সমাপ্ত করা হলো।
বর্ণনাকারী: মাওলানা জহুরুল কাদের আজাদ, পিতা- মরহুম সৈয়দ বুলবুল হক, গ্রাম- মির্জাপুর, থানা- হাটহাজারী, জেলা- চট্টগ্রাম।
পরিশেষে
এই ঘটনা কেবল একটি স্মৃতিচারণ নয়; এটি আল্লাহর কুদরতের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। তাঁর প্রিয় বান্দাদের মাধ্যমে কখনো কখনো এমন অলৌকিক প্রকাশ ঘটে, যা মানুষের হৃদয়ে ঈমানকে দৃঢ় করে তোলে।
যেখানে যুক্তি থেমে যায়, সেখানে বিশ্বাস কথা বলে। আর সেই বিশ্বাসই আমাদের শেখায়- আউলিয়াদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা মানুষের অন্তরকে নূরের পথে পরিচালিত করে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই সত্য উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।








