---Advertisement---

শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর এক অলৌকিক সান্নিধ্যের কারামত।

April 1, 2026 1:00 PM
শাহনশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারীর এক অলৌকিক সান্নিধ্যের কারামত।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

শেষ নিঃশ্বাসের সময় পাশে ছিলেন শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এক অলৌকিক সান্নিধ্যের কারামত এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ও বিশ্বাস জাগানো ঘটনা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। কারণ অলী-আউলিয়াগণের জীবনে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা কেবল বাহ্যিক চোখে দেখা যায় না- অনুভব করতে হয় হৃদয়ের গভীরতায়। তেনাদের সান্নিধ্য কখনো দৃশ্যমান, কখনো অদৃশ্য; কিন্তু মুমিনের জন্য তা হয়ে ওঠে আশ্রয়, সান্ত্বনা ও রহমতের উৎস

এক অলৌকিক সান্নিধ্যের কারামত।

১৯৬১ সালে, একদিন ভাববিভোর অবস্থায় শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আমাদের বাড়িতে আগমন করেন। তখন গ্রীষ্মকাল।

বাড়ির আন্দর উঠোনে তিনি প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন। আমরা অনেকবার অনুরোধ করেও তেনাকে ঘরে আনতে পারিনি।

সেদিন আমার স্বামী, যিনি ‘মাস্টার সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন, সার্কেল অফিসার ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে তিনি এসে বিনীতভাবে অনুরোধ করলে শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ঘরে প্রবেশ করেন এবং শুধু কমলার দুটি কোষ গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে খাবারের আয়োজন করা হলে তিনি আর কিছু গ্রহণ না করেই উঠে চলে যান।

সেই রাত থেকেই মাস্টার সাহেবের তীব্র জ্বর শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই জ্বর টাইফয়েডে রূপ নেয়। প্রচণ্ড জ্বরের মধ্যে মাস্টার সাহেব বারবার বলতে থাকেন-
বড় মিয়া (শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সর্বক্ষণ আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি তেনাকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।”

চিকিৎসা ও সেবাযত্নে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সুস্থ হওয়ার পর মাস্টার সাহেব আবেগভরা কণ্ঠে বলেন-
বড় মিয়া (শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর মেহেরবানীতেই আমি বেঁচে গেছি; নতুবা আমার জীবনের আর কোনো আশা ছিল না।”

শুধু তাই নয়, মাস্টার সাহেবের জীবনের অন্তিম মুহূর্তেও এই অলৌকিক সান্নিধ্য তাঁর সঙ্গে ছিল। মৃত্যুশয্যায় শেষ বিদায়ের সময় তিনি বলেন-
দেখো, এই তো বড় মিয়া (শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এসেছেন, আমার পাশে বসে আছেন”

এই কথা বলতে বলতে তিনি সেদিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন, এবং ঠিক সেই অবস্থাতেই শান্তভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

[বর্ণনাকারী: বড় বোন সৈয়দা মোবাশ্বেরা বেগম; স্বামী: মরহুম আব্দুল মজিদ চৌধুরী মাস্টার; গ্রাম: শাহানগর; থানা: ফটিকছড়ি; জেলা: চট্টগ্রাম]

পরিশেষে

এই ঘটনাটি কেবল একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ নয়; এটি এক গভীর আধ্যাত্মিক সত্যের ইঙ্গিত বহন করে। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের রহমত ও সান্নিধ্য কখনো কেবল দৃষ্টির সীমায় আবদ্ধ থাকে না-তা ছড়িয়ে পড়ে অন্তরের গভীরে, জীবনের সংকটময় মুহূর্তেও হয়ে ওঠে আশ্রয়

এই কারমত আমাদের মনে করিয়ে দেয়- বিশ্বাসের শক্তি, ভালোবাসার টান এবং অলীদের প্রতি আন্তরিক সম্পর্ক মানুষের জীবনকে আলোকিত করে, এমনকি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তেও এনে দেয় প্রশান্তি ও নূরের পরশ

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন ঈমানি দৃঢ়তা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধি দান করুন। আমিন

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment