দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
গাউছে পাকের কারামত নিয়ে যুগে যুগে অসংখ্য ঘটনা মানুষের হৃদয়ে বিস্ময় ও ঈমানের অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। তেমনই একটি বহুল আলোচিত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির জীবনীতে, যেখানে মদের মটকা মুহূর্তেই সিরকায় পরিণত হওয়ার এক আশ্চর্য ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
জুমু’আর পথে ঘটে গেল অবিশ্বাস্য ঘটনা
একদিন গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি জুমু’আর নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তেনার সঙ্গে ছিলেন পুত্র আবদুর রাযযাক, আবদুল ওয়াহহাব ও ঈসা। পরবর্তীকালে আবদুর রাযযাক এই ঘটনাটি বর্ণনা করেন, যা গাউছে পাকের কারামত হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
পথে তেনারা দেখতে পেলেন, বাদশাহর তিনটি মদের মটকা বহনকারী বাহন তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছে। মদের দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছিল। বাহনগুলোর সঙ্গে কোতয়াল ও কাছারির লোকজনও উপস্থিত ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই শুরু হয় গাউছে পাকের কারামত-এর এক বিস্ময়কর অধ্যায়, যা উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে দেয়।
“তোমরা থামো”-কিন্তু কেউ কথা শুনল না
গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “তোমরা থামো।” কিন্তু তারা নির্দেশ অমান্য করে পশুগুলোকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে লাগল।
তখন তিনি পশুগুলোর দিকেই তাকিয়ে বললেন, “তোমরা থেমে যাও।”
সঙ্গে সঙ্গে পশুগুলো নিজ নিজ স্থানে এমনভাবে দাঁড়িয়ে গেল, যেন তারা পাথরে পরিণত হয়েছে। যতই টানা হোক বা প্রহার করা হোক, একচুলও নড়ল না।
শূলবেদনায় কাতর হয়ে তাওবা
হঠাৎ বাহনের সঙ্গে থাকা লোকদের প্রত্যেকেই তীব্র শূলবেদনায় আক্রান্ত হলো। যন্ত্রণায় তারা মাটিতে গড়াগড়ি করতে লাগল। সেই অবস্থায় তারা আল্লাহর জিকির, তাসবীহ এবং প্রকাশ্যে তাওবা-ইস্তিগফার করতে শুরু করল।
কিছুক্ষণ পর গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির দয়ায় তাদের কষ্ট দূর হয়ে গেল এবং তারা স্বস্তি ফিরে পেল।
মদ থেকে ছড়িয়ে পড়ল সিরকার সুগন্ধ
এরপর উপস্থিত সবাই বিস্ময়ে লক্ষ্য করল-মদের দুর্গন্ধ আর নেই। তার পরিবর্তে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সিরকার সুগন্ধ।
লোকেরা মটকাগুলো খুলে দেখে হতবাক হয়ে গেল। যেগুলোতে আগে মদ ছিল, সেগুলো এখন সম্পূর্ণরূপে সিরকায় পরিণত হয়েছে।
গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির নির্দেশে পশুগুলোও আবার স্বাভাবিকভাবে চলতে শুরু করল। উপস্থিত মানুষ আবেগে আপ্লুত হয়ে গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির প্রশংসা করতে লাগল, আর গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি মসজিদের দিকে অগ্রসর হলেন।
বাদশাহর জীবনেও এলো পরিবর্তন
এই ঘটনার সংবাদ যখন বাদশাহর কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি গভীরভাবে বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি ভয়ে কেঁদে ফেলেন এবং বহু হারাম কাজ পরিত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তিনি গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির দরবারে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত বিনয় ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
শেষকথা
গাউছে পাকের কারামত হিসেবে প্রচলিত এই ঘটনাটি বহু মানুষের কাছে আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার উৎস। এতে আল্লাহর অলীদের মর্যাদা, তাওবার গুরুত্ব এবং মানুষের জীবনে পরিবর্তনের সম্ভাবনার এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র ফুটে ওঠে। এমন বর্ণনাগুলো মুসলিম ঐতিহ্যে সম্মান ও ভক্তিভরে সংরক্ষিত হয়েছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলোচিত হয়ে আসছে।





