দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
ইসলামের ইতিহাসে ওলী আল্লাহগণের বহু আধ্যাত্মিক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যা যুগে যুগে মানুষের হৃদয়ে বিস্ময়, অনুপ্রেরণা এবং আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে বুযুর্গানে দ্বীনের জীবনীতে এমন অসংখ্য ঘটনা পাওয়া যায়, যেখানে আল্লাহর বিশেষ রহমত, করুণা ও অনুগ্রহের প্রকাশ ঘটেছে।
তেমনি একটি বহুল আলোচিত ঘটনা হলো ইলমে লাদুন্নীর ৭০টি দরজা উন্মুক্ত হওয়ার ঘটনা, যা গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই ঘটনাটি শুধু একটি ঐতিহাসিক বর্ণনাই নয়; বরং আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান, রূহানী মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক উচ্চতার প্রতীক হিসেবেও অনেকের কাছে সমাদৃত। নিচে সেই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি তুলে ধরা হলো।
ইলমে লাদুন্নীর ৭০টি দরজা উন্মুক্ত হওয়ার ঘটনা
আব্দুর রাযযাক, আব্দুল ওহাব ও ইব্রাহীম বলেন-৫৫৭ হিজরীতে তারা আযজ গেইটে অবস্থিত গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির মাদ্রাসায় তেনার খেদমতে উপস্থিত হন। সে সময় তিনি আনজির (ডুমুর ফল) আহার করছিলেন।
হঠাৎ তিনি আহার বন্ধ করে গভীর রূহানী তন্ময়তায় নিমগ্ন হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় সেই অবস্থায় থাকেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা বিস্ময়ের সঙ্গে সেই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে থাকেন।
কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন:
“এইমাত্র আমার অন্তরে ইলমে লাদুন্নীর ৭০টি দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দরজা এত প্রশস্ত, যেন আসমান ও জমিনের মতো বিশাল।”
এই কথাটি উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে এটি গাউসে পাক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর মহান রূহানী মর্যাদা এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য বর্ণনা হিসেবে পরিচিত।
ইলমে লাদুন্নী বলতে কী বোঝায়?
“ইলমে লাদুন্নী” হলো সেই বিশেষ জ্ঞান, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বন্ধুদের অন্তরে নিজ ইচ্ছায় দান করেন। এটি সাধারণ শিক্ষা বা বই-পড়াশোনার মাধ্যমে অর্জিত হয় না; বরং এটি আল্লাহর এক বিশেষ রহমত ও নূর। ইসলামী আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে এই জ্ঞানকে আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক মহান অনুগ্রহ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
পরিশেষে
ইলমে লাদুন্নীর ৭০টি দরজা উন্মুক্ত হওয়ার এই ঘটনা ইসলামী আধ্যাত্মিক সাহিত্যে বহুল আলোচিত একটি বর্ণনা। এটি গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির মর্যাদা ও রূহানী অবস্থান সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে এবং আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতা ও অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
‘‘আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে গাউসে পাকের রূহানী দৃষ্টির মাধ্যমে উপকারী জ্ঞান, বিশুদ্ধ আকীদা ও নেক আমলের তাওফিক দান করুন। আমীন।”







