দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে তাঁর প্রিয় বন্ধুদের মাধ্যমে অসংখ্য নিদর্শন প্রকাশ করেছেন। এসব ঘটনা মানুষের অন্তরে ঈমানকে দৃঢ় করে এবং আল্লাহর ওলীগণের মর্যাদা সম্পর্কে নতুন করে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। ইতিহাসে সংরক্ষিত গাউসে পাকের কারামত সমূহের মধ্যে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে, যা আজও মানুষকে বিস্মিত করে।
তেমনি একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা বর্ণিত হয়েছে ইস্পাহানের এক ব্যক্তিকে নিয়ে। যার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে এমন এক মাথাব্যথায় ভুগছিলেন, যা কোনো চিকিৎসাতেই ভালো হচ্ছিল না। অবশেষে তিনি আশ্রয় নিলেন আল্লাহর প্রিয় ওলী, হযরত গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির দরবারে। এরপর যা ঘটেছিল, তা ছিল সত্যিই বিস্ময়কর।
ইস্পাহানের অসহায় স্বামীর আরজি
একবার ইস্পাহান থেকে এক ব্যক্তি গাউসে পাক রহমতুল্লাহি আলাইহির দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন,
“বাবা! আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছে। বহু চিকিৎসা করিয়েছি, বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেছি, কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছে না। আমরা খুবই কষ্টে আছি।”
লোকটির আকুতি শুনে গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন,
“এটি সাধারণ কোনো অসুস্থতা নয়। এর পেছনে একটি জ্বীনের প্রভাব রয়েছে। সেই জ্বীনের নাম ‘খানেস’। সে চরনদ্বীপে অবস্থান করে।”
এরপর গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি লোকটিকে বললেন,
“তুমি বাড়িতে ফিরে তোমার স্ত্রীর কানে এই কথাটি বলো-
‘হে খানেস! তোমাকে বাগদাদ থেকে হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তুমি যেন আর এখানে না আসো। অন্যথায় ধ্বংস হয়ে যাবে।’”
লোকটি পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির নির্দেশ গ্রহণ করলেন। তাঁর হৃদয়ে দৃঢ় আস্থা ছিল যে, আল্লাহর এই প্রিয় ওলীর নির্দেশে অবশ্যই কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
অলৌকিকভাবে মিলল শিফা
বাড়িতে ফিরে তিনি হুবহু সেই কথাগুলো স্ত্রীর কানে উচ্চারণ করলেন। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তন দেখা দিল।
যে মাথাব্যথা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে দুর্বিষহ কষ্ট ও দুশ্চিন্তার মধ্যে রেখেছিল, গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির নির্দেশ অনুযায়ী তা সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে গেল। এটি ছিল গাউসে পাকের কারামত-এর এক বিস্ময়কর নিদর্শন।
কিছুদিন পর সেই ব্যক্তি আনন্দিত হৃদয়ে পুনরায় গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন-
“বাবা! আমি আপনার নির্দেশ অনুযায়ী আমল করার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমার স্ত্রীর সেই মাথাব্যথা আর কখনো ফিরে আসেনি। আমাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হয়ে গিয়েছে।”
গাউসে পাকের কারামত থেকে শিক্ষা
এই ঘটনাটি গাউসে পাকের কারামত হিসেবে সুপরিচিত। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বন্ধুদেরকে এমন বিশেষ মর্যাদা দান করেন, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার সাধিত হয় এবং সত্যের নিদর্শন প্রকাশ পায়।
পরিশেষে
গাউসে পাকের কারামত সম্পর্কিত এই ঘটনাটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহ তাআলার ক্ষমতার কোনো সীমা নেই। তিনি যখন চান, তখন তাঁর বন্ধুদের মাধ্যমে এমন সব ঘটনা প্রকাশ করেন, যা মানুষের চিন্তা-ভাবনার সীমাকেও অতিক্রম করে যায়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরে তাঁর প্রিয় ওলী-আল্লাহদের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দান করুন, তাঁদের আদর্শ ও জীবনাচরণ অনুসরণ করার তাওফিক নসীব করুন এবং আমৃত্যু ঈমানের উপর অটল ও অবিচল থাকার সৌভাগ্য দান করুন। আমীন।







