---Advertisement---

গাউছে পাকের কারামত: শৈশবেই জুতা দেখে বলে দিলেন কে জান্নাতি, কে জাহান্নামি।

গাউছে পাকের কারামত শৈশবে এক বিস্ময়কর ঘটনার কথা উল্লেখ আছে। তিনি মসজিদে মুসল্লিদের জুতা দুই ভাগে সাজিয়ে জান্নাতি ও জাহান্নামি নির্ধারণ করেন। এই ঘটনা তেনার অলৌকিক প্রজ্ঞা ও আধ্যাত্মিক মর্যাদার একটি বহুল আলোচিত দৃষ্টান্ত হিসেবে ইসলামী ইতিহাসে উল্লেখিত, যা আজও গভীরভাবে স্মরণ করা হয়।

June 11, 2026 8:08 PM
গাউছে পাকের কারামত শৈশবে জুতা দেখে জান্নাতি ও জাহান্নামি নির্ধারণ
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

আল্লাহর ওলীগণের জীবন অলৌকিক শিক্ষা, তাকওয়া ও অনুপ্রেরণামূলক ঘটনায় সমৃদ্ধ। গাউছে পাকের কারামত নিয়ে মুসলিম সমাজে যুগ যুগ ধরে অসংখ্য আধ্যাত্মিক বর্ণনা প্রচলিত রয়েছে, যা ওলী-প্রেমিকদের হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভক্তির সঞ্চার করে। হযরত গাউসুল আজম বড়পীর সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর শৈশবের নানা বিস্ময়কর ঘটনা আজও ঈমানদারদের হৃদয়কে আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত করে

শৈশবের একদিন হযরত গাউসুল আজম রহমতুল্লাহি আলাইহি মসজিদে মুসল্লিদের জুতা দুই ভাগে সাজিয়ে রেখে উপস্থিত সবাইকে বিস্মিত করেছিলেন। পরে এই ঘটনার ব্যাখ্যা শুনে অনেকেই তেনার অসাধারণ আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞা ও আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ মর্যাদার পরিচয় উপলব্ধি করেন। গাউছে পাকের কারামত হিসেবে সুপরিচিত এই বিস্ময়কর ঘটনাটি নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো

গাউছে পাকের শৈশবের বিস্ময়কর ঘটনা

হযরত গাউসুল আজমের পিতা সৈয়দ আবু সালেহ মূসা জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি জিলান শহরের এক মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব পালন করতেন। একদিন হযরত বড়পীর সাহেব পিতার সঙ্গে মসজিদে যাওয়ার জন্য জিদ ধরলেন। পিতা স্নেহভরে তেনাকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে গেলেন। কিন্তু শিশু হওয়ায় তেনাকে সকলের পেছনে বসিয়ে দিলেন।

মুসল্লিগণ আপন আপন জুতা মসজিদের বাইরে রেখে নামাজে দাঁড়ালেন। নামাজ শুরু হওয়ার পর হযরত বড়পীর রহমতুল্লাহি আলাইহি সুযোগ পেয়ে বাইরে এসে জুতাগুলোকে দুই ভাগে সযত্নে সাজিয়ে রাখলেন।

নামাজ শেষে মুসল্লিগণ জুতা খুঁজতে গিয়ে বিস্মিত হলেন। অবশেষে দুটি আলাদা স্তূপ থেকে নিজেদের জুতা খুঁজে পেলেন। উপস্থিত কেউ কেউ শিশু আবদুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহির এই আচরণকে খামখেয়ালি মনে করে সমালোচনা করতে লাগলেন।

এ দৃশ্য দেখে পিতা সৈয়দ আবু সালেহ মূসা জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি ক্রোধান্বিত হয়ে গাউসুল আজম  রহমতুল্লাহি আলাইহিকে চপেটাঘাত করলেন। তখন গাউছে পাক রহমতুল্লাহি আলাইহি অত্যন্ত শান্তভাবে বললেন-

“আব্বাজান! আমি তো কোনো খারাপ কাজ করিনি। আমি দেখছি-বেহেশ্তি এবং দোজখি উভয় প্রকার লোকের জুতা একসঙ্গে আছে। তাই সযত্নে বেহেশ্তিদের জুতা এক স্থানে এবং দোজখিদের জুতা অন্য স্থানে পৃথক করে রেখেছি। এতে আমার এমন কী অন্যায় হয়েছে?”

এই কথা শুনে উপস্থিত লোকজন হতবাক হয়ে গেলেন। বিস্ময়ে তাঁরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, “এই শিশু একদিন নিশ্চয়ই উচ্চ মর্যাদার একজন মহান ওলী হবেন।”

পরিশেষে

হযরত গাউসুল আজম, পীরানে পীর সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ইলম, তাকওয়া ও আধ্যাত্মিক প্রভাব আজও অগণিত মানুষের হৃদয়ে অম্লান। ভক্ত ও অনুসারীদের কাছে এই ঘটনাটি তাঁর শৈশবের বিস্ময়কর কারামতগুলোর একটি হিসেবে সুপরিচিত এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে বর্ণিত হয়ে আসছে

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ওলী আল্লাহগণের প্রতি যথাযথ সম্মান, ভালোবাসা ও অনুসরণের তাওফিক দান করুন। আমীন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment