দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষের হৃদয়ে দুটি বিপরীতমুখী শক্তির লড়াই চলছে-একটি হলো রূহ বা আত্মা, আর অন্যটি হলো নফস বা কুপ্রবৃত্তি। স্রষ্টার পরম সান্নিধ্য পেতে হলে নফসের গোলামি থেকে রূহানী মুক্তি পাওয়া প্রতিটি আধ্যাত্মিক পথিকের জন্য প্রথম এবং প্রধান শর্ত। আজ আমরা জানবো ওলী-আউলিয়াদের দেখানো পথে কীভাবে রিপুকে দমন করে আল্লাহর প্রিয় হওয়া যায়।
ইমাম গাজ্জালীর দর্শনে নফস ও আত্মশুদ্ধি
হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনারি অমর দর্শনে শিখিয়েছেন যে, সুফি সাধনার মূল লক্ষ্য হলো নফসের রশি টেনে ধরা এবং কলবকে স্বচ্ছ আয়নার মতো করে তোলা। তেনার মতে,নফসের গোলামি থেকে রূহানী মুক্তি পেতে হলে কঠোর আধ্যাত্মিক সাধনা (রিয়াজত) এবং নফসের কুপ্রবৃত্তিগুলোকে চাক্ষুষ শনাক্ত করে তা পরিশুদ্ধ করতে হয়। যখন নফস আম্মারাহ (মন্দ কাজে প্ররোচনাকারী) থেকে নফস মুতমাইন্নাহ (প্রশান্ত আত্মা)-তে রূপান্তরিত হয়, তখনই বান্দা আল্লাহর খাঁটি প্রিয়জন হতে পারে।
ওলীগণের জীবনে নফস দমনের অলৌকিক শিক্ষা
মাওলানা রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর মতো ওলী-আউলিয়াদের জীবনী চাক্ষুষ প্রমাণ করে যে, তেনারা নফসের প্রতিটি চাহিদাকে স্রষ্টার খুশির জন্য কুরবানি দিয়েছেন। সুফি সাধকদের মতে, রূহ যত বেশি শক্তিশালী হয়, নফস তত দুর্বল হয়ে পড়ে। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই শিক্ষা অনুযায়ী- প্রকৃত বীর সে নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়, বরং প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি যে রাগের মাথায় নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। নফসের গোলামি থেকে রূহার্নী মুক্তি পেতে হলে ওলীগণের সান্নিধ্য এবং তেনাদের বাতলে দেওয়া জিকিরের নূরানি শক্তি একশত ভাগ প্রয়োজন।
নফস দমনের ৩টি রূহানী চাবিকাঠি
নিঃস্বার্থ ত্যাগ: নিজের নফসের সাময়িক আকাঙ্ক্ষার চেয়ে মহান আল্লাহর হুকুম এবং ওলী-আল্লাহদের শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া।
আত্ম-সমালোচনা: প্রতিদিন নিজের ভুলগুলো স্বচক্ষে খুঁজে বের করা, নিজের নফসের সাথে হিসাব মেলানো এবং মহান আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তওবা করা।
গোপন জিকির: অন্তরের অস্থিরতা দূর করে রূহার্নী শক্তি বহুগুণ বাড়াতে কামেল মুর্শিদের বাতলে দেওয়া জিকিরে সর্বদা মগ্ন থাকা।
উপসংহার: স্রষ্টার প্রিয় হওয়ার পরম পথ
পরিশেষে বলা যায়, নফসের গোলামি থেকে রূহানী মুক্তি পাওয়াই হলো আধ্যাত্মিক জগতের পরম বিজয়। মাওলানা রুমি ও ইমাম গাজ্জালী মতো ওলীগণের দেখানো পথে জীবন গড়লে আমরাও স্রষ্টার প্রিয় হওয়ার রূহার্নী স্বাদ লাভ করতে পারি। দয়াল আল্লাহ আমাদের সবাইকে ওলীগণের উসিলায় সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে থেকে নফসকে বশ করার তৌফিক দান করুন। আমীন।










