নূর নবীজি ﷺ এর পিতা-মাতা নিঃসন্দেহে জান্নাতী: পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোয় উগ্র বাতিল ফেরকার ভ্রান্ত আকিদা খণ্ডন।

উগ্র বাতিল ফেরকারা কিছু খণ্ডিত হাদিসের অপব্যাখ্যা করে সাধারণ মুসলমানদের গোমরাহ করতে চায়। অথচ পবিত্র কুরআন, তাফসীরে কাবীর ও সহীহ মুসলিমের অকাট্য দলিলে প্রমাণিত যে- নূর নবীজি ﷺ-এর সম্মানিত পিতা-মাতা জাহেলিয়াতের তামাম অপবিত্রতা থেকে মুক্ত, তাওহীদপন্থী মোয়াহ্হেদ মুমিন এবং নিঃসন্দেহে জান্নাতী আভিজাত্যের সর্বোচ্চ সিংহাসনে আসীন।

September 12, 2026 7:30 AM
নূর নবীজি ﷺ এর পিতা-মাতা নিঃসন্দেহে জান্নাতী পবিত্র কুরআন ও হাদিসের দলিল
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

নূর নবীজি ﷺ এর পিতা-মাতা নিঃসন্দেহে জান্নাতী-এটিই হলো ওলামায়ে হক্কানী, রব্বানী, পবিত্র কুরআনের সর্বসম্মত তাফসীরকারক জমহুর মুফাসসিরীন, মুহাদ্দিসীন এবং বাতেনি জগতের একশত ভাগ নিরাপদ ও পরম মর্যাদাপূর্ণ ‘মাকামে আমীন’ প্রাপ্ত তামাম ওলী-আল্লাহগণের অকাট্য, ধ্রুব ও চূড়ান্ত ফয়সালা। যখন আরশ-কুরসী, লওহ-কলম এবং জান্নাত-জাহান্নাম কোনো কিছুই ছিল না, তখনও দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ছিলেন এবং তেনারই পবিত্র উসিলায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমগ্র কুল কায়েনাত সৃষ্টি করেছেন। অথচ বর্তমানের কিছু চরমপন্থী, উগ্র ও সংকীর্ণমনা বাতিল ফেরকা তেনারি পবিত্র পিতা খাজা আব্দুল্লাহ এবং মাতা মা আমেনা সম্পর্কে অত্যন্ত কুৎসিত ও বেয়াদবিপূর্ণ ফতোয়া ছড়াচ্ছে; তেনাদের এই চরম ধৃষ্টতা মূলত আকিদাগত বিকৃতি এবং প্রকাশ্য বাতেনি অন্ধত্বের এক করুণ বহিঃপ্রকাশ।
যে কলুষিত সমাজে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র পরিবারের মহান শান-মান এবং ওলী-আল্লাহগণের অলৌকিক কারামত নিয়ে কুৎসিত বিতর্ক তৈরি করা হয়, সেই সমাজে ঈমানের আসমানী আলো নিভে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। মূলত উগ্র সালাফী-ওহাবী মতাদর্শের এই নব্য ফেতনা সাধারণ সরলমনা মুসলমানদের অন্তর থেকে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি পরম ভালোবাসার রূহার্নী শিকড় কেটে দেওয়ার এক সুগভীর ও কুৎসিত কারিগরি চাতুরতা। অতএব, এই দীর্ঘ তথ্যবহুল ও গবেষণামূলক নিবন্ধে আমরা পবিত্র কুরআন, সহীহ হাদিস, জমহুর মুফাসসিরীন (সর্বসম্মত তাফসীরকারকগণ), মুহাদ্দিসীন, ফক্বীহ এবং মহান ওলী-আল্লাহগণের একশত ভাগ অকাট্য দলিলভিত্তিক ফয়সালার আলোকে চাক্ষুষ প্রমাণ করব যে- নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাক আব্বাজান খাজা আব্দুল্লাহ ও আম্মাজান মা আমেনা কেবল জান্নাতীই নন, বরং তেনারা জান্নাতের সর্বোচ্চ আভিজাত্যের রাজকীয় সিংহাসনে আসীন

পবিত্র কুরআনের নূরানী আলোয় নূর নবীজি ﷺ-এর পরিবারের মহান মর্যাদা

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে কারীমার জ্যোতির্ময় আলোয় বাতেনি ইশারায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে- নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র বংশধারা ও রূহার্নী বুনিয়াদ সর্বদা কুফর ও শিরকের তামাম পাপাচার থেকে মুক্ত, নিষ্কলঙ্ক এবং পরম পবিত্র।

তাফসীরে আব্বাসিয়া অনুযায়ী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর তাফসীর পর্যালোচনা

সূরা আশ-শু‘আরা ২১৯ নম্বর আয়াত—

বাংলা উচ্চারণ: “ওয়া তক্বাল্লুবাকা ফিস্-সাজিদীন”
এই আয়াতের তাফসীরে তামাম পৃথিবীর সর্বকালের সকল তাফসীরকারকদের সম্রাট, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তেনার ‘তানবীরুল মিকবাস ফী তাফসীরি ইবনি আব্বাস’ (যা সাধারণের মাঝে তাফসীরে আব্বাসিয়া নামে বহুল সমাদৃত) তাফসিরে নূর নবীজি ﷺ-এর পবিত্র বংশধারা সম্পর্কে যে বিশেষ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যা প্রাচীন নির্ভরযোগ্য তাফসীরসমূহে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত ও সংরক্ষিত হয়েছে। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় নূর নবীজি ﷺ-এর পবিত্র বংশধারায় এক নবী থেকে অন্য নবীর দিকে তেনার পরম্পরাগত ও জ্যোতির্ময় শুভাগমনের বিশেষ অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর তাফসীরি সূত্রে সরাসরি যে মূল আরবী বাণীটি বর্ণিত হয়েছে, তা নিম্নরূপ:
বাংলা উচ্চারণ: “মিং নাবিয়্যিন ইলা নাবিয়্যিন হাত্তা আখরাজতা নাবিয়্যা” 
অর্থ: “এক নবী থেকে অন্য নবী পর্যন্ত-অবশেষে আপনাকে নবী হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে ।”
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর ‘তাফসীরে দুররে মানসূর’-এর রেওয়ায়েত:
হাদিস ও তাফসীর শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি- যিনি স্বপ্নে ও জাগ্রত অবস্থায় নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ৭৫ বার দর্শন করার পরম আধ্যাত্মিক মাকামে আসীন ছিলেন-তিনি তেনার জগৎখ্যাত তাফসীরে দুররে মানসূর (আদ্-দুররুল মানসূ-রু ফিত্-তাফসীরি বিল-মা’সূ-র্) কিতাবে সূরা আশ-শু‘আরা ২১৯ নম্বর আয়াতের তাফসীরে রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
সেখানে হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা-এর নামে বর্ণিত হয়েছে যে, এই আয়াতের তাফসিরি ব্যাখ্যায় নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র বংশধারায় এক নবী থেকে অন্য নবীর মাধ্যমে তেনার শুভাগমনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে এই আয়াতের তাফসিরের মাধ্যমে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র বংশধারা সর্বদা কুফর ও শিরকের তামাম পাপাচার থেকে মুক্ত, নিষ্কলঙ্ক এবং পরম পবিত্র-তার এই বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ পায়।
জা আল হক্ব’ কিতাবের সুদৃঢ় কালামি যুক্তি:
আহলে সুন্নতের আকিদা সুরক্ষার অমর লৌহ-দুর্গ ‘জা আল হক্ব’ (১ম খণ্ড, নবীজি ﷺ-এর সম্মানিত পূর্বপুরুষগণের ঈমান পরিচ্ছেদ)-এর জগৎখ্যাত রচয়িতা, হাকীমুল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার কিতাবে নূর নবীজি ﷺ-এর সম্মানিত পিতা-মাতা যে পরম পবিত্র, সে সম্পর্কে এক পর্বতসম ওযনদার কালামি (যৌক্তিক) বিশ্লেষণ পেশ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত সেই প্রাচীন তাফসীরি ধারার আলোয় আহলে সুন্নতের ওলামাগণ ও সুফি গবেষকগণ নূর নবীজি ﷺ-এর মহান বংশীয় আভিজাত্য ও রূহার্নী পবিত্রতা অকাট্যভাবে প্রমাণ করেন।
‘জা আল হক্ব’ কিতাবের মূল সিদ্ধান্ত ও যুক্তি অনুযায়ী- যেহেতু পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবার ২৮ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট ফয়সালা দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে:
উচ্চারণ: “ইন্নামাল মুশ্রিকূনা নাজাসুন” 
অর্থ: “নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র ।”

এই আয়াত দ্বারা মুশরিকদের অপবিত্র (নাজাস) বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, আর অন্যদিকে খোদ আল্লাহ তাআলা সূরা আশ-শু‘আরার ২১৯ নম্বর আয়াতে নূর নবীজি ﷺ-এর পরম সম্মানিত পূর্বপুরুষদের ‘আস-সাজিদীন’ (সিজদাকারী) বলে ঘোষণা করেছেন; সেহেতু ইসলামের কালামি নিয়মে কোনো অপবিত্র কাফের বা মুশরিক ব্যক্তি আল্লাহর দরবারে খাঁটি তাওহীদী ‘সিজদাকারী’ হওয়ার বিন্দুমাত্র কোনো যোগ্যতা রাখতে পারে না।

অতএব, ‘জা আল হক্ব’ কিতাবের অকাট্য দালিলিক ফয়সালা ও সুদৃঢ় আকিদাগত মত অনুযায়ী, নূর নবীজি ﷺ-এর পাক জন্মদাতা আব্বাজান খাজা আব্দুল্লাহ এবং আম্মাজান মা আমেনা জাহেলিয়াতের মূর্তিপূজার তামাম পাপাচার থেকে একশত ভাগ মুক্ত তাওহীদপন্থী, মোয়াহ্হেদ মুমিন এবং নিঃসন্দেহে জান্নাতী আভিজাত্যের সর্বোচ্চ রাজকীয় সিংহাসনে আসীন।
‘তাফসীরে মাযহারী’-এর আধ্যাত্মিক ফয়সালা:
নকশবন্দিয়া সুফি ধারার জলিলুল কদর ফকীহ ও ওলী-আল্লাহ, হযরত ক্বাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার বিখ্যাত ও অমর ‘তাফসীরে মাযহারী’তে সূরা আশ-শু‘আরার ২১৯ নম্বর আয়াতের তাফসীরে ইসলামের জহিরী (বাহ্যিক) ও বাতেনি (আধ্যাত্মিক) উভয় ধারাকে পরম ইনসাফের সাথে উল্লেখ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ক্বাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই আয়াতের বাতেনি ইশারার আলোকে এক সুদৃঢ় আকিদাগত ও জোরালো মত পেশ করে ফয়সালা দিয়েছেন যে- নূর নবীজি ﷺ-এর পবিত্র বংশধারা তামাম পূর্বপুরুষ জাহেলিয়াতের মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে চিরতরে মুক্ত এবং এক আল্লাহর খাঁটি তাওহীদপন্থী আসীন ছিলেন।
বিশেষ করে, নূর নবীজি ﷺ-এর সম্মানিত আব্বাজান হযরত আব্দুল্লাহ ও আম্মাজান হযরত আমেনা কুফর ও শিরকের তামাম পাপাচার থেকে একশত ভাগ মুক্ত, নিষ্কলঙ্ক, পরম পবিত্র এবং নিঃসন্দেহে জান্নাতী আভিজাত্যের সর্বোচ্চ রাজকীয় সিংহাসনে আসীন। তেনাদের ঈমান ও নাজাত সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনো কুধারণা পোষণ করা চরম ভ্রষ্টতা ও গোঁড়ামি।
‘তাফসীরে কাবীর’-এর অকাট্য দালিলিক ফয়সালা:
হাদিস, তাফসীর ও কালাম শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান ইমাম, ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার জগৎখ্যাত কালজয়ী ‘তাফসীরে কাবীর’ মহাগ্রন্থে নূর নবীজি ﷺ-এর সম্মানিত পিতা-মাতা ও তামাম পূর্বপুরুষগণের ঈমান ও জান্নাতী আভিজাত্যের সপক্ষে এক পর্বতসম ওযনদার দালিলিক ফয়সালা খোদাই করেছেন। তিনি মূলত পবিত্র কুরআনের সূরা আশ-শু‘আরার ২১৯ নম্বর আয়াতের তাফসীরে রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বর্ণিত ধারাকে পরম সমর্থন জানিয়ে এই সুদৃঢ় আকিদাগত সিদ্ধান্ত পেশ করেছেন।
তিনি ইসলামের আদিম ‘ফাতরাত’ দর্শনের আলোকে প্রমাণ করেছেন যে- হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আসমানে তাশরীফ নেওয়ার পর থেকে শুরু করে নূর নবীজি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুনিয়াতে শুভ আগমনের মধ্যবর্তী পয়গম্বরহীন যুগ (যাকে আহলে ফাতরাত বলা হয়)- নূর নবীজি ﷺ-এর সম্মানিত আব্বাজান হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও রত্নগর্ভা আম্মাজান হযরত আমেনা রাদিয়াল্লাহু আনহা জাহেলিয়াতের মূর্তিপূজার অন্ধকার থেকে একশত ভাগ মুক্ত ছিলেন। তেনারা খোদ হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর আদি একত্ববাদী ও খাঁটি ‘দ্বীনে হানীফী-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত মুমিন ছিলেন
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই বাতেনি ইশারাটি প্রমাণের লক্ষ্যে পবিত্র কুরআনের যে মূল আয়াতটি দ্বারা অকাট্য ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, তেনার জাজ্বল্যমান রূপটি নিম্নরূপ:
উচ্চারণ: “ওয়া তক্বাল্লুবাকা ফিস্-সাজিদীন” 
অর্থ: “এবং সিজদাকারীদের মধ্যে আপনার আবর্তন ও স্থানান্তরকেও (তিনি অবলোকন করেন)।”

এই আয়াতের তাফসীরে ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কি ব্যাখা দিয়েছেন তা নিম্নরুপ:
উচ্চারণ: “আন্না জামী‘আ আ-বা-ই মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা কা-নূ মুসলিমীন্”
অর্থ: “নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তামাম পূর্বপুরুষগণ একশত ভাগ মুসলমান (তাওহীদপন্থী মুমিন) ছিলেন।”

তিনি স্পষ্ট অক্ষরে ফতোয়া দিয়েছেন যে- নূর নবীজি ﷺ-এর পবিত্র বংশধারা বাবা-দাদা বা পূর্বপুরুষ কখনোই কাফের কিংবা মূর্তিপূজক ছিলেন না। যেহেতু মুশরিকরা অপবিত্র এবং কাফেররা আল্লাহর দরবারে সিজদাকারী হতে পারে না; আর এই আয়াতে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পূর্বপুরুষদের ‘আস-সাজিদীন’ বা সিজদাকারী সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেহেতু তেনারা প্রত্যেকেই এক আল্লাহর খাঁটি ইবাদতকারী মুখলিস ও পরম পবিত্র বান্দা ছিলেন।
কানজুল ঈমান ও তাফসীরে নূরুল ইরফানের সুক্ষ্ম আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি:
এই মহিমান্বিত আয়াতের অনুবাদ করতে গিয়ে আলা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খান বেরলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার জগৎখ্যাত উর্দু তর্জমা ‘কানজুল ঈমান’-এ লিখেছেন“এবং নামাজিদের মধ্যে আপনার পরিদর্শনার্থে ভ্রমণকেও”। এই কালজয়ী অনুবাদের অধীনে হাকীমুল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার বিখ্যাত ‘তাফসীরে নূরুল ইরফান’-এর ২১৫ নম্বর টীকায় এই আয়াতের অত্যন্ত চমৎকার ৪টি তাফসীরি ও বাতেনি হাকিকত চাক্ষুষ উল্লেখ করেছেন, যা নিম্নরূপ:
    • ১ম অর্থ (তাহাজ্জুদ ও সাহচর্যের পরিদর্শণ): অর্থাৎ, হে রাসূল ﷺ! যখন আপনি রাতের শেষ অংশে তাহাজ্জুদ নামাজ সম্পন্নকারী সাহাবিদের অবস্থাদি পরিদর্শণ করার জন্য প্রদক্ষিণ করেন, তখন তা আমি পরম কুদরতে পর্যবেক্ষণ করি। 
    • ২য় অর্থ (নূরানী বংশধারার শুভ প্রকাশ – মূল বুনিয়াদ): অথবা, যখন আপনার পবিত্র নূর মোবারক আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে আরম্ভ করে হযরত আব্দুল্লাহ পর্যন্ত যুগে যুগে পবিত্র ঔরশে ও রত্নগর্ভা পবিত্র গর্ভগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আবর্তিত ও স্থানান্তরিত হচ্ছিল, তখন তা আমি দেখছিলাম।
    • ৩য় অর্থ (নামাযের ভেতরের কায়িক আমল): অথবা, নামাজ রত অবস্থায় আপনি যখন কিয়াম, রুকু ও সিজদাদি বারংবার সম্পন্ন করছিলেন, তখন তা আমার খাস কুদরতি নজরে আসীন ছিল।
    • ৪র্থ অর্থ (চক্ষু মোবারকের অলৌকিক মোজেজা): অথবা, নামাজ রত অবস্থায় আপনার চোখ মোবারকের বিচরণ প্রত্যক্ষ করছি; অর্থাৎ আপনার পবিত্র চক্ষু মোবারক সামনে ও পেছনে এক সমান দেখতে পায়।
হাকীমুল উম্মত মুফতি নঈমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর চূড়ান্ত কিতাবী সিদ্ধান্ত:
মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার তাফসীরে এই ৪টি মত আলোচনার পর অত্যন্ত জোরালোভাবে ফয়সালা দিয়ে বলেন- “তবে এই ৪টি অর্থের মধ্যে দ্বিতীয় অর্থটিই (নূরের বংশীয় আবর্তন) সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ও যুক্তিযুক্ত আসীন রয়েছে।”
তেনার সপক্ষে তিনি যে অকাট্য কিতাবী ও কারিগরি যুক্তি দিয়েছেন, তেনা চাক্ষুষ নিম্নরূপ:
“হাকীমুল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার ‘তাফসীরে নূরুল ইরফান’-এ এই মতভেদের নির্যাস টেনে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রামাণিক যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন-যেহেতু এই পবিত্র সূরা আশ-শু‘আরা একটি মাক্কী সূরা; অথচ হিজরতের পূর্বে মক্কী জীবনে তাহাজ্জুদ নামাজ সম্পন্নকারীদের অবস্থা রাতের বেলা গলিতে গলিতে ঘুরে পরিদর্শন করার কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ মিলে না। নবীজি ﷺ-এর এই পবিত্র প্রদক্ষিণ বা দাওরা শরীফ ছিল মূলত মদীনা মুনাওয়ারায়। অনুরূপভাবে, জামাতের সাথে নামাজ সম্পন্ন করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ও শরিয়তী বিধানও মদীনা পাকেই পূর্ণরূপে আরোপ করা হয়েছে। অতএব, এই মাক্কী আয়াতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে এই  সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে-এই আয়াত দ্বারা নূর নবীজি ﷺ-এর পবিত্র নূরের বংশীয় স্থানান্তরের কথাই ইঙ্গিত করা হয়েছে। এবং তেনার এই মহিমান্বিত নূরানী সিলসিলার পিতৃপুরুষ ও মাতৃকুল একত্ববাদী, মুমিন, মোয়াহ্হেদ এবং মহান আল্লাহর ইবাদত পরায়ণ সিজদাকারী ছিলেন; তেনাদের কেউ কখনো কাফের, মুশরিক বা ফাসেক ছিলেন না।”

সূরা বাক্বারার ১২৪ নম্বর আয়াতের গভীর বাতেনি ইশারা:

হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর পবিত্র বংশধারা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:

উচ্চারণ: “ক্বলা লা ইয়ানালু ‘আহ্-দিয্-জ্বলিমীন্” 
অর্থ: “আল্লাহ বললেন, আমার প্রতিশ্রুতিতে জালেমদের (মুশরিকদের) শামিল করা হবে না ।” 

ইসলামের তামাম ওলামায়ে হক্কানী ও জলিলুল কদর মুফাসসিরীনগণের প্রামাণিক অভিমত হলো- মহান আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-কে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তেনার পবিত্র বংশধরদের মধ্য থেকেই আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ﷺ এই ধরাধামে পরম পবিত্র শুভাগমন করবেন। আর আল্লাহর সেই ঐশ্বরিক ফয়সালা অনুযায়ী, নবুওয়াতের সেই সম্মানিত বংশধারা সর্বদা শিরক ও জুলুমের তামাম পাপাচার থেকে একশত ভাগ মুক্ত থাকবে।
যেহেতু দয়াল নবীজি ﷺ-এর সম্মানিত পিতা-মাতা খোদ হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর সেই প্রতিশ্রুত ও সুরক্ষিত নবুওয়াতের বংশধারার মূল চাবিকাঠি ও জ্যোতির্ময় সিলসিলা আসীন ছিলেন, সেহেতু তেনারা কখনো আকিদাগতভাবে জালেম বা মুশরিক হওয়ার বিন্দুমাত্র কোনো অবকাশ নেই। বরং, তেনারা জাহেলিয়াতের মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, এক আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী (মোয়াহ্হেদ মুমিন) এবং নিঃসন্দেহে জান্নাতী আভিজাত্যের সর্বোচ্চ আসনে আসীন।

সহীহ হাদীসের অকাট্য দলিলে নূর নবীজি ﷺ-এর পবিত্র বংশীয় আভিজাত্য

উগ্র বাতিল ফেরকারা কিছু খণ্ডিত ও একক (আহাদ) হাদিসের আক্ষরিক অপব্যাখ্যা করে সাধারণ মুসলমানদের গোমরাহ করতে চায়। অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বয়ং তেনার পবিত্র বংশধারার নাজাত ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছেন।

ক. বংশধারার শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতার দলিল (সহীহ মুসলিম-হাদীস নম্বর: ২২৭৬)

পবিত্র হাদীস শরীফের অকাট্য ও জাজ্বল্যমান দালিল প্রমান করে যে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র বংশধারা এবং তামাম পূর্বপুরুষগণের ঈমানী আভিজাত্য এক অপরাজেয় সত্য হিসেবে সিলমোহরকৃত আসীন রয়েছে। তেনারই ধারাবাহিকতায় ইসলামের প্রধানতম বিশুদ্ধ কিতাব সহীহ মুসলিম শরীফ-এ হযরত ওয়াসেলা ইবনুল আসকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি জগতকাঁপানো অকাট্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যা নূর নবীজি ﷺ-এর পবিত্র পূর্বপুরুষদের মহান জান্নাতী আভিজাত্যের প্রধানতম স্তম্ভ:
উচ্চারণ:
“ইন্নাল্লাহুস্‌তাফা কিনানাতা মিন ওয়ালাদি ইসমাঈলা, ওয়াস্‌তাফা কুরাইশান মিন কিনানাতা, ওয়াস্‌তাফা মিন কুরাইশিন বানী হাশিমিন, ওয়াস্‌তাফানী মিন বানী হাশিম।”
 অর্থ:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা হযরত ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধারা থেকে ‘কেনানা’-কে মনোনীত করেছেন, কেনানা থেকে ‘কুরাইশ’-কে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে ‘বনু হাশেম’-কে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশেম থেকে আমাকে (হযরত মুহাম্মদ ﷺ-কে) মনোনীত করেছেন
এই নূরানী ফয়সালার সুদৃঢ় আকিদাগত ও বাতেনি হাকিকত:
ইসলামী শরীয়ত, ইলমে হাদীস এবং উচ্চতর কালাম শাস্ত্রের অকাট্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী-মহান আল্লাহ তাআলা কখনো কোনো কাফের, মুশরিক, মূর্তিপূজক বা জাহান্নামীর রক্ত, ঔরস ও বংশধারাকে ইসলামের সর্বোচ্চ (মনোনীত ও পরম পবিত্র) বংশধারা হিসেবে তামাম ওম্মতের সামনে চাক্ষুষ ঘোষণা করতে পারেন না।
আরবী ব্যাকরণের বালাগাহ্ অনুযায়ী, ঐশ্বরিক ‘মনোনয়ন’ সর্বদা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সর্বোচ্চ পবিত্রতার ওপর ভিত্তি করেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। যেহেতু স্বয়ং রব্বুল আলামীন নূর নবীজি ﷺ-এর এই ধারাবাহিক পূর্বপুরুষদের বংশধারাকে একের পর এক ‘মনোনীত’ ও পবিত্র সাব্যস্ত করেছেন; সেহেতু তেনাদের পবিত্র সিলসিলায় নূর নবীজি ﷺ-এর মহান আব্বাজান বা আম্মাজানকে আকিদাগতভাবে জালেম, কাফের বা মুশরিক বলার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। বরং তেনারা প্রত্যেকেই জাহেলিয়াতের তামাম পাপাচার থেকে একশত ভাগ মুক্ত, তাওহীদপন্থী এবং নিঃসন্দেহে জান্নাতী আভিজাত্যের সর্বোচ্চ রাজকীয় সিংহাসনে আসীন

খ. জাহেলিয়াতের পঙ্কিলতা থেকে মুক্তির দলিল (দালাইলুন নবুওয়াত)

সীরাত ও হাদীস শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, ইমাম বায়হাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার জগৎখ্যাত ‘দালাইলুন নবুওয়াত’ কিতাবে এবং ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার বিখ্যাত ‘আল-খাসাইসুল কুবরা’ কিতাবে নির্দিষ্ট রেওয়ায়েত পরম্পরায় এক পরম তাৎপর্যপূর্ণ অকাট্য হাদীস সংবলিত করেছেন। তেনাদের সংরক্ষিত সেই মহান বর্ণনায় নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং তেনার পবিত্র বাণীতে এরশাদ করেছেন:
উচ্চারণ: “খারাজ্তু মিন্ নিকা-হিন্, ওয়া লাম্ আখ্রুজ্ মিন্ সিফা-হিন্, মিল্ লাদুন আ-দামা ইলা- আন্ ওয়ালাদানী- আবী- ওয়া উম্মী” 
 অর্থ: “আমি সর্বদা পবিত্র বৈবাহিক বন্ধনের (নিকাহ) মাধ্যমেই দুনিয়াতে প্রকাশ বা শুভাগমন করেছি, জাহেলিয়াতের কোনো প্রকার অবৈধ পাপাচারের (ব্যভিচার) মাধ্যমে আমার প্রকাশ ঘটেনি; সৃষ্টির আদি পিতা হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে আমার সম্মানিত আব্বাজান ও আম্মাজান এর মাধামে আমার শূভ আগমন হওয়া পর্যন্ত (এই পবিত্র ধারাবাহিকতা সর্বদা জারি ছিল)।”

ইমামগণের বর্ণিত এই ধারাবাহিক হাদীসের বাতেনি মর্মার্থ ও নূরানী হাকিকত অনুযায়ী, দয়াল নবীজি ﷺ আরও স্পষ্টভাবে সাব্যস্ত করেছেন যে- সৃষ্টির আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে তেনার সম্মানিত আব্বাজান খাজা আব্দুল্লাহ এবং আম্মাজান মা আমেনা পর্যন্ত তামাম পবিত্র পিতা-মাতার মাধ্যমে তিনি এই ধরাধামে শুভ আগমন। জাহেলিয়াতের কোনো প্রকার শিরক, কুফর, মূর্তিপূজা, ব্যভিচার বা বাতেনি অপবিত্রতা তেনার সেই জ্যোতির্ময় নূরানী সিলসিলাকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পারেনি।
এই নূরানী ফয়সালার সুদৃঢ় আকিদাগত ও বাতেনি হাকিকত:
ইসলামের কালামি যুক্তি ও তাফসীর শাস্ত্রের চূড়ান্ত মানদণ্ড অনুযায়ী-যদি (নাউযুবিল্লাহ) নূর নবীজি ﷺ-এর সম্মানিত পিতা-মাতা আকিদাগতভাবে কাফের বা মুশরিক হতেন, তবে তেনাদেরকে স্বয়ং রাসূলে আকরাম ﷺ কখনোই নিজের বাণীতে পরম আভিজাত্যে ‘পবিত্র’ বলে চাক্ষুষ ঘোষণা করতেন না।
কারণ, পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ২৮ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ফয়সালা দিয়ে কাফের ও মুশরিকদের আকিদাগতভাবে অপবিত্র- নাজাস বলে সাব্যস্ত করেছেন। সেহেতু ইসলামের যৌক্তিক বুনিয়াদে কোনো অপবিত্র বা নাপাক সত্তা আল্লাহর রাসূলের পবিত্র শুভাগমনের মাধ্যম হতে পারে না। অতএব, নূর নবীজি ﷺ-এর এই অকাট্য ও জাজ্বল্যমান বাণী অনুযায়ী, তেনার সম্মানিত আব্বাজান ও আম্মাজান জাহেলিয়াতের তামাম পাপাচার থেকে একশত ভাগ মুক্ত, পরম পবিত্র মুমিন এবং নিঃসন্দেহে জান্নাতী আভিজাত্যের সর্বোচ্চ আসনে আসীন।

মহান ওলী-আল্লাহ ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত এবং হক্কানী ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত আকীদা

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকীদা এবং তামাম ওলামায়ে হক্কানী ও রব্বানীগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো- নূর নবীজি ﷺ-এর আব্বাজান ও আম্মাজান শুধু জান্নাতীই নন, বরং তেনারা জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আহলে সুন্নতের ইমামগণ তেনাদের নাজাতের পক্ষে ৩টি প্রধান কারিগরি ও বাতেনি পথ সাব্যস্ত করেছেন, যা নিম্নরুপ আলোচনা করা হলো:

১. দ্বীনে হানীফ (আহলে ফাতরাত) তেনারা এমন এক যুগে তাশরীফ এনেছিলেন, যখন কোনো নতুন নবী বা স্বাধীন শরীয়ত পৃথিবীতে বিদ্যমান ছিল না। তেনারা জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর তাওহীদী ও নিষ্কলঙ্ক আকিদার ওপর সম্পূর্ণরূপে অটল ছিলেন। আর ইসলামের কালামি নিয়ম হলো, যার কাছে নতুন কোনো দাওয়াত পৌঁছেনি, সে মূলত আদি তাওহীদের আলোকেই নাজাতপ্রাপ্ত।

২. ইহয়ায়ে আবাবাইন (পুনরুজ্জীবন) মহান আল্লাহ তেনার হাবীবের শান ও মান তামাম ওম্মতের সামনে সমুন্নত করতে তেনার সম্মানিত পিতা-মাতাকে হজ্জাতুল বিদার সময় পুনরায় জ্যান্ত বা পুনরুজ্জীবিত করে নবীজির নূরানী রেসালাতের ওপর ঈমান প্রকাশের এক খাস আসমানী সুযোগ দান করেছেন। তা সুন্নি আকিদার বিচারে নূর নবীজি ﷺ-এর এক অনন্য ও অকাট্য খাস মোজেযা।

দলিল:

কিতাব: আস-সাবিক ওয়াল-লাহিক 
মহান সংকলক: হাফেয আবু বকর আল-খতীব আল-বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার সংকলিত সূত্রে হযরত মা আয়েশা সিদ্দীকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে এই পুনরুজ্জীবনের হাদীসটি মূল সনদসহ বর্ণিত রয়েছে।

কিতাব: আল-খাসাইসুল কুবরা 
জগৎখ্যাত রচয়িতা: হাদীস ও তাফসীর শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি তেনার এই কিতাবে এবং এই বিষয়ের ওপর তেনার খাস ও সুনির্দিষ্ট কিতাব ‘নাশ্রুল ‘আলামাইনিল মুনীফাইন ফী ইহ্য়ায়িল আবাবাইনিশ্ শারীফাইন’-এ এই হাদীসের বর্ণনাসূত্র ও বাতেনি হাকিকত অকাট্যভাবে সাব্যস্ত করেছেন।

কিতাব: আত-তাযকিরাহ ফী আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমূরিল আখিরাহ 
জগৎখ্যাত রচয়িতা: জগৎখ্যাত মুফাসসির ও ফকীহ, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি তেনার এই বিখ্যাত গ্রন্থে এই ঘটনাটি সবিস্তারে উল্লেখ করে নবীজি ﷺ-এর এই খাস মোজেযাকে আহله সুন্নতের আকিদার অংশ হিসেবে ফয়সালা দিয়েছেন।

কিতাব: ‘আন-নাসিখ ওয়াল-মানসূখ’ 
মহান সংকলক: হাফেয আবু হাফস ওমর ইবনে শাহীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার কিতাবেও প্রাচীন বর্ণিত সনদে এই মোজেযার বিবরণটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংরক্ষিত আসীন প্রমাণিত হয়েছে।

৩. সাধারণ ক্ষমা ও নাজাতের ঐশ্বরিক আইন। পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট ও অকাট্য ঐশ্বরিক আইন: সূরা আল-ইসরা, আয়াত ১৫ ওয়া মা কুন্না মু‘আয্যিবীনা হাত্তা নাব‘আছা রাসূলা অর্থ- আমি রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দিই না। যেহেতু তেনাদের অন্তর্বর্তী যুগে মক্কার জমিনে কোনো প্রকাশ্য রাসূল চাক্ষুষ বিদ্যমান ছিলেন না, সেহেতু ঐশ্বরিক ইনসাফের নিয়মে তেনারা আযাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও জান্নাতী আভিজাত্যের আসনে আসীন।

উগ্র বাতিল ফেরকার ভ্রান্ত কুযুক্তির ব্যাকরণগত, হাদিসগত ও ঐতিহাসিক জবাব

উগ্র সালাফী ও ওহাবী মতবাদের লোকেরা সাধারণত সহীহ মুসলিম শরীফের একটি খণ্ডিত হাদীসের আক্ষরিক অপব্যাখ্যা করে সাধারণ মুসলমানদের ঈমান হরণ করতে চায়। তেনারা একটি রেওয়ায়েতকে ঢাল বানিয়ে দাবি করে যে- এক ব্যক্তি নবীজি ﷺ-কে তেনার পিতার পরকাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে নবীজি নাকি এরশাদ করেছিলেন, “নিশ্চয়ই আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে আসীন” (নাউযুবিল্লাহ)।
তবে ইসলামী শরীয়ত, ইলমে হাদীসের উচ্চতর কারিগরি বুনিয়াদ এবং আহলে সুন্নতের আকিদাগত মানদণ্ডে-এই বাহ্যিক বর্ণনাকে সামনে রেখে সরল অর্থে নূর নবীজি ﷺ-এর সম্মানিত পিতা-মাতাকে জাহান্নামী সাব্যস্ত করা কোনোভাবেই হালকাভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, এই স্পর্শকাতর বিষয়ের অন্তরালে আরবী ভাষার বালাগাহ্ (অলঙ্কার শাস্ত্র), পবিত্র কুরআনের অকাট্য নীতিমালা, হাদীসের বিভিন্ন গোপন বর্ণনাবৈচিত্র্য (ইলমুল ইলাল) এবং স্বয়ং নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র বংশীয় সুউচ্চ মর্যাদার পর্বতসম ওযনদার দলিল আসীন রয়েছে, যা একত্রে বিবেচনা করা প্রতিটি ঈমানদারের জন্য পরম ফরজ দায়িত্ব। আসুন, উগ্র বাতিল ফেরকার তামাম কুযুক্তির মহাপ্রাচীর চিরতরে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আরবী ইলমের আলোয় গভীরভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করি।

১. প্রথমে মূল হাদিসটি হুবহু দেখা যাক:

আনাস ইবনে মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

হাদ্দাস্‌সানা- আবূ বকর ইবনু আবী শাইবাহ, হাদ্দাস্‌সানা- আফ্ফানু, হাদ্দাস্‌সানা- হাম্মাদু ইবনু সালামাহ, ‘আন্ ছাবিতিন, ‘আন্ আনাসিন, আন্না রাজুলান্ ক্বালা: ইয়া রাসূলাল্লাহি, আইনা আবী? ক্বালা: ‘ফিন্-নার।’ ফালাম্মা ক্বাফ্ফা দা‘আহু, ফাক্বালা: ‘ইন্না আবী ওয়া আবাকা ফিন্-নার।

অর্থ:

“হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কোথায়?’ তিনি বললেন, ‘জাহান্নামে।’ অতঃপর যখন সে ফিরে যেতে লাগল, তখন তিনি তাকে ডাকলেন এবং বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমার পিতা ও তোমার পিতা জাহান্নামে।”
-সহীহ মুসলিম, হাদিস ২০৩।

২. রেওয়ায়েতের শব্দগত পার্থক্য: ইমাম সুয়ূতীর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা:

এই বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী আলোচনাগুলোর একটি পাওয়া যায় হাদিস ও তাফসীর শাস্ত্রের সম্রাট, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর জগৎখ্যাত আকিদা গ্রন্থ ‘মাসালিকুল হুনাফা ফী ওয়ালিদাইল মুছত্বফা’।
তিনি তেনার কিতাবে সুনির্দিষ্ট হাদীস তত্ত্বের আলোকে উল্লেখ করেন যে, ছাবিত আল-বুনানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা-এর পবিত্র সূত্রে রাবী হাম্মাদ ইবনে সালামাহ যে রেওয়ায়েত করেছেন, কেবল তেনাতেই এসেছে-“ইন্না আবী- ওয়া আবা-কা ফীন্-না-র্” নিশ্চয়ই আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে (নাউযুবিল্লাহ)। কিন্তু পরম বিস্ময়কর বিষয় হলো, হুবহু একই সনদে ও একই উস্তাদের সূত্রে ইমাম মা‘মার ইবনে রাশিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রামাণিক বর্ণনায় ‘আমার পিতা’ (ইন্না আবী) নামক বিতর্কিত বাক্যটি আরবী পাঠে চাক্ষুষ আসীনই নেই! সেখানে দয়াল নবীজি ﷺ-এর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণীটি হুবহু নিম্নরূপ বর্ণিত হয়েছে:
উচ্চারণ: “ইযা- মারার্তা বিক্বাব্রি কা-ফিরিন্ ফাবাশ্শিরূহু বিন্-না-র্” 
অর্থ: “তুমি যখন কোনো কাফেরের কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন তাকে জাহান্নামের সংবাদ (সতর্কবাণী) প্রদান করো।”

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই ভিন্ন ভিন্ন রেওয়ায়েতগুলোর সুক্ষ্ম তুলনামূলক ও অ্যাকাডেমিক পর্যালোচনা করেছেন এবং ইসলামের প্রধানতম মূলনীতি রক্ষা করার কারণে ইমাম মা‘মারের বর্ণনাকে হাম্মাদের বর্ণনার তুলনায় বহু গুণ অধিক শক্তিশালী ও প্রামাণিক বিবেচনা করার অকাট্য যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে-একই ঘটনার বিভিন্ন রেওয়ায়েতে যে শব্দগত পার্থক্য আসীন রয়েছে, তেনার অন্তরালে মূলত হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর একক বর্ণনার স্মৃতিবিভ্রম (ওহাম) জড়িয়ে রয়েছে। তাই জমহুর মুহাদ্দিসীনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মা‘মারের শব্দ-নিষ্কলঙ্ক বর্ণনাটিই সুন্নি আকিদা সুরক্ষার জন্য একশত ভাগ অকাট্য, প্রমিত এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ আসীন সাব্যস্ত হয়েছে

৩. ‘আব’ শব্দের অর্থ কি শুধু জন্মদাতা পিতা?

না। আরবী ভাষায় ‘আব’ শব্দের ব্যবহার প্রসঙ্গভেদে প্রত্যক্ষ পিতা, পূর্বপুরুষ এবং পিতৃস্থানীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রেও হতে পারে। পবিত্র কুরআনে হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম-এর সন্তানদের বক্তব্যে এসেছে-“আমরা আপনার উপাস্য এবং আপনার পিতা-পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের উপাস্যরই ইবাদত করব।” -(সূরা আল-বাক্বারা, ২:১৩৩)।
এখানে হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম-এর প্রত্যক্ষ পিতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন তাঁর চাচা। অতএব, আরবী ভাষার দৃষ্টিতে ‘আব’ শব্দের ব্যবহার সবসময় শুধু প্রত্যক্ষ জন্মদাতা পিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ-এমন কথা বলা যায় না।

৪. হাদীসে কি সরাসরি চাচা আবু লাহাবকে উদ্দেশ্য করা হয়েছিল?

আরবী ভাষার উচ্চতর অলঙ্কার শাস্ত্র (বালাগাহ্) এবং সীরাত ইতিহাসের চুলচেরা বিশ্লেষণে এই অকাট্য ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত জোরালো আসীন যে-সহীহ মুসলিমের সেই বর্ণনায় নূর নবীজি ﷺ ‘আবী’ (আমার পিতা/পিতৃব্য) শব্দ দ্বারা তেনার আপন জন্মদাতা আব্বাজান হযরত আব্দুল্লাহকে বোঝাননি; বরং তেনার জহিরী রক্তসম্পর্কীয় আপন চাচা আবু লাহাবকে উদ্দেশ্য করেছিলেন।
ইসলামের ইতিহাসে ও পবিত্র কুরআনের সূরা আল-লাহাব-এর অকাট্য অহি মোবারকের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে, আবু লাহাব সরাসরি কাফের এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী আসীন। যেহেতু নূর নবীজি ﷺ তেনার পবিত্র শৈশবেই পিতৃহীন আসীন ছিলেন এবং আরবের তৎকালীন প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী আপন চাচাকে ‘আবু’ বা পিতৃব্য সম্বোধন করা এক সুপ্রসিদ্ধ নিয়ম আসীন; সেহেতু প্রশ্নকারী ব্যক্তির দুঃখ দূর করতে এবং এক সর্বজনীন কাফেরের উদাহরণ দিতে গিয়ে নবীজি ﷺ তেনার জহিরী চাচা ও প্রকাশ্য জাহান্নামী আবু লাহাবের দিকেই এই বাতেনি ইশারা করেছিলেন। অতএব, ‘জা আল হক্ব’ কিতাবের অকাট্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী-উগ্র বাতিল ফেরকারা এই হাদীসের জাহেরী শব্দের অপব্যাখ্যা করে নূর নবীজি ﷺ-এর পরম পবিত্র তাওহীদপন্থী জন্মদাতা আব্বাজান খাজা আব্দুল্লাহ এবং রত্নগর্ভা আম্মাজান মা আমেনাকে যে জাহান্নামী ফতোয়া দেয়, তেনা সম্পূর্ণ বাতিল, গোঁড়ামি এবং আহলে সুন্নতের আকিদাবিরোধী এক পরম চক্রান্ত মাত্র

সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

উপরের সবকিছু বিচার করলে আপনার প্রবন্ধের শেষ কথা এমন হওয়া উচিত:

সহীহ মুসলিমের বর্ণনাটি অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই; বরং এর ব্যাখ্যা নিয়ে আলেমদের আলোচনাই মূল বিষয়। একই ঘটনার বিভিন্ন রেওয়ায়েতে শব্দগত পার্থক্য রয়েছে- যা ইমাম সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। আরবি ভাষায় ‘আব’ শব্দের ব্যাপক ব্যবহারও প্রতিষ্ঠিত। পাশাপাশি ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী ও ইমাম সুয়ূতীসহ একাধিক আলেম নবীজি ﷺ-এর পবিত্র বংশধারা ও তাঁর পিতা-মাতার নাজাতের পক্ষে আলেমি যুক্তি পেশ করেছেন।

অতএব, একটি হাদিসের একক শব্দকে কেন্দ্র করে নবীজি ﷺ-এর পিতা-মাতাকে অবমাননাকরভাবে জাহান্নামী সাব্যস্ত করা এবং এ বিষয়ে আলেমদের দীর্ঘ আলোচনা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা ইনসাফপূর্ণ পদ্ধতি নয়।

শেষ কথা: ধর্মীয় অবক্ষয় ও বর্তমান বাস্তবতা

আজকের সমাজে ইসলামের লেবাসধারী কিছু নামধারী উগ্র আলেম নামায-রোজার দোহাই দিয়ে যুবসমাজের কলব থেকে নবী-পরিবার, আহলে বাইত এবং ওলী-আল্লাহদের মহব্বত চাক্ষুষ কেড়ে নিতে চায়। এটিই হলো বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অবক্ষয় ও বাস্তবতা। যে মুসলমানের কলবে নূর নবীজি ﷺ-এর পিতা-মাতার প্রতি বিন্দুমাত্র অসম্মান বা সন্দেহ লুকিয়ে থাকবে, তারা তামাম জিন্দেগীর নামায, রোযা ও ইবাদত-বন্দেগী আল্লাহর দরবারে ধুলোয় মিশে যাবে।
পরম সত্যের বুনিয়াদে আহলে সুন্নত ওয়াল জামা‘আতের অকাট্য ও চূড়ান্ত শেষ কথা হলো- নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্মানিত পিতা-মাতা নিঃসন্দেহে জান্নাতী এবং তেনারা সৃষ্টির আদি থেকে পরম পবিত্র নূরের ধারক আসীন ছিলেন। জান্নাতের সবুজ চত্বরে তামাম ওলী-আল্লাহগণের মাথার রাজকীয় তাজ ও মুকুট হিসেবে তেনাদের মহিমান্বিত মাকাম চাক্ষুষ জাজ্বল্যমান।
উগ্র বাতিল ফেরকা ও ওহাবী-সালাফীদের তামাম চতুর কুযুক্তি, খণ্ডিত অপব্যাখ্যা এবং মনগড়া সংকীর্ণ ফতোয়া-আশেকদের ঈমানী মহব্বত ও কিতাবী দলিলের পর্বতসম ফুৎকারে এক সেকেন্ডে আসমানে কর্পূরের মতো উড়ে যায়। আমরা সর্বদা আমাদের জবান এবং কলবকে পাক নবী-পরিবারের পরম নূরানী আদব ও আভিজাত্য দিয়ে সচল রাখব, কারণ তেনাদের ভালোবাসার মাঝেই উম্মতের ইহকালীন ও পরকালীন প্রকৃত নাজাত ও পরম মুক্তি নিহিত রয়েছে

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment