---Advertisement---

ঈমানদারের মৃত্যু কিভাবে হবে?

October 3, 2025 1:32 PM
ঈমানদারের মৃত্যু কিভাবে হবে?
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

ঈমানদারের মৃত্যু একটি পবিত্র ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসাবে ইসলামে বর্ণিত হয়েছে। কোরআন ও হাদীসে “ঈমানদারের মৃত্যু কিভাবে হবে?”  ঈমানদারের মৃত্যুর সময় কী ঘটে এবং তাদের জন্য কী সুসংবাদ রয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা ঈমানদারের মৃত্যু কেমন হবে সে বিষয়ে আল্লাহর ওলি হযরত শিবলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। আসুন, আমরা সেই ঘটনাটি জানি- যা ঈমানদারের মৃত্যুর প্রকৃত ধারণা দেবে।

ঈমানদারের মৃত্যু

দয়াল বাবা জালালী বলেন- একজন আলেম আল্লাহর অলি শিবলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে গিয়ে বলল, “হুজুর, ঈমানদারের মৃত্যু কিভাবে হবে আপনি আমাকে বলেন।” আল্লাহর অলি শিবলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “বাবারে, ঈমানদারের মৃত্যুর খবর আল্লাহ সূরা ইউসুফের মধ্যে দিয়েছেন। যাও, সূরা ইউসুফ পড়লে পাবা।” আলেম বাড়ি গিয়ে কুরআন শরীফ খুলে সূরা ইউসুফ ৩ (তিন) বার তেলাওয়াত করলেন, কিন্তু ঈমানদারের মৃত্যুর কোন খবর পেলেন না।

এবার আলেম কুরআন শরীফ বন্ধ করে দৌড় দিয়ে আল্লাহর অলি শিবলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কাছে গিয়ে বলল, “হুজুর, সূরা ইউসুফ ৩ (তিন) বার করে তেলাওয়াত করেছি, কিন্তু ঈমানদারের মৃত্যুর খবর পেলাম না।” আল্লাহর অলি শিবলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “তোমাকে মৌলভী বললেও গোনা হবে, তোমাকে আলেম বললেও গোনা হবে।”

“তুমি কি দেখ না, মিশরের মেয়েরা বলে- ‘জুলেখা, তুমি আমাদের মেয়েদের ইজ্জত নষ্ট করে দিয়েছো। তুমি একজন বাদশার স্ত্রী হয়ে একজন গোলামের প্রেমে পাগল হয়েছো। আমরা মেয়ে জাত সমাজে মুখ দেখাতে পারি না।’ জুলেখা প্রতিবাদ করে না। ১ (এক) হাজার মেয়েকে দাওয়াত দিয়েছে, সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে বলে- ‘বোনগো, ধরো এই ছুরিটা আর এই লেবুটা আমি দিলাম। আমি যখন হুকুম করবো, তখন লেবু কেটে খাওয়া আরম্ভ করবে।’ এই বলে প্রত্যেক মেয়ের হাতে ১ (এক)টা লেবু আর ১ (এক)টা ছুরি দিল।”

জুলেখা ভিতর বাড়িতে গিয়ে ইউসুফ নবীকে বোরকা পরিয়ে মেয়েদের মজলিসে নিয়ে এসে ইউসুফ নবীর বোরকাটা খুলে বলে- ‘বোন, আমি এই গোলামের পাগল।’ ১ (এক) হাজার মেয়ে ইউসুফ নবীকে দেখে বাহবা শুরু করল। তারা বলতে লাগল-‘এ তো মানুষ নয়, এ তো ফেরেশতা।’ জুলেখা বলল- ‘তোমরা লেবু কাটো আর খানা খাও।’ ঐ মেয়েরা ইউসুফ নবীর দিকে চেয়ে লেবুর জায়গায় লেবু আছে লেবু কাটার পরিবর্তে ১ (এক) হাজার মেয়ে হাতের কব্জি পর্যন্ত আলাদা করে ফেলল। কিন্তু ব্যথা বা রক্তের কোন খবর ছিল না।”

ইউসুফ নবীর রূপ দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক ছটাক রূপ। ইউসুফ নবীর রূপ দেখে যেমন মিশরের মেয়েরা হাতের কব্জি পর্যন্ত আলাদা করে দিয়েছিল, তবুও রক্ত কিংবা ব্যথার কোন খবর ছিল না। তেমনি মদিনার কামালের ওয়ালা নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার উম্মতের মৃত্যুর সময় সামনে দণ্ডায়মান থাকবেন। আজরাইল যত কষ্টের সাথে মৃত্যু (মৌত) দিক না কেন, উম্মত দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে চেয়ে থাকবে, মৃত্যু (মৌত)-এর কোন খবরই পাবে না।

পরিশেষে

এ ঘটনা থেকে আমরা শিখি- ঈমানদারের মৃত্যুর সময় দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের নূরানী উপস্থিতি মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে মুক্ত রাখবে। যেমন মিশরের মেয়েরা ইউসুফ আলাইহিস সালামের রূপে মগ্ন হয়ে ব্যথার অনুভূতি হারিয়েছিল, তেমনি ঈমানদারও মৃত্যুর কষ্ট অনুভব করবে না; বরং নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের নূরানী সুরতের দিকে তাকিয়েই জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করবে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment