দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
শুধু নামাজ, রোজা, হজ্ব বা যাকাত পালন করলেই যথেষ্ট নয়। সত্যিকারের ধার্মিকতা নির্ভর করে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যের ওপর। তিনিই আল্লাহর জাতি নূরের জ্যোতি; তিনিই হলেন ধর্ম; আর আমরা শুধুমাত্র তেনার অনুগ্রহ পাবার পরই সত্যিকারের ধার্মিক হয়ে উঠি।।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
“নামাজ, রোজা, হজ্ব ও যাকাত- এসব হলো কর্ম; আর দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম- তিনিই হলেন ধর্ম।” কেন তিনি এমন কথা বললেন? আসুন, সেই মহাসত্যটি জানি- এবং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেমে নিজেকে ডুবে থাকার শিক্ষা গ্রহণ করি।
কর্ম আছে, যদি ধর্ম নাই, নিঃসন্দেহে কাফের।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
“আপনারা যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, জালালী সাহেব ধার্মিক হতে হলে কোন মন্ত্র পড়া লাগবে, আমি বলব- কালেমায়ে তাওহীদ। আরবিতে বলে ‘তাওহীদ’, বাংলায় বলে ‘একত্ববাদ’, একরশিতে গাথা। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কালেমার নাম হলো কালেমায়ে তাওহীদ।
কালেমায়ে তাওহীদ-এর মধ্যে ২ (দুই)টা পার্ট আছে- (এক)টা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, আর ১ (এক)টা হলো ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এখন ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাদ দিলাম। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ গলার হার বানালাম, ৩০ পারা কোরআন শরীফ আমি মুখস্ত করলাম, ৫ (পাঁচ) ওয়াক্ত নামাজ আমি পড়ি, ১ (এক) মাস রোজা রাখলাম, ৩ (তিন) লক্ষ টাকা খরচ করে হজ্ব করে আসলাম, শতকরা আড়াই টাকা যাকাত দিই, দান-খয়রাত করতেছি, কিন্তু ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়লাম না-আমি ধার্মিক কি না?
আপনারা বলবেন- ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বাদ দিলে ধর্ম থাকে না। তাই আপনি ধার্মিক নন।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা আবার বলেন-
“এবার আমি জানতে চাই- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আমার মধ্যে নাই, ৩০ পারা কোরআন শরীফ আমার মধ্যে নাই, ৫ (পাঁচ) ওয়াক্ত নামাজ আমার মধ্যে নাই, ১ (এক) মাসের রোজা আমার মধ্যে নাই, ৩ (তিন) লক্ষ টাকার হজ্ব আমার মধ্যে নাই, শতকরা আড়াই টাকা যাকাত আমার মধ্যে নাই, পর্দা, পুশিদা, ঢিলা, কুলুখ আমার মধ্যে নাই। আমি পড়লাম ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি জ্ঞানি গুণী ভাই বাবার কাছে জানতে চাই, আমি ধার্মিক কিনা?
আপনারা বলবেন- ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়া মানেই ধর্মের পথে প্রবেশ করা। তাই আপনি ধার্মিক।।
তাহলে-
“মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলো ধর্ম।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হলো আমার কর্ম, ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলো ধর্ম; কোরআন আমার কর্ম।
‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলো ধর্ম; নামাজ আমার কর্ম।
‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলো ধর্ম; রোজা আমার কর্ম।
‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলো ধর্ম; দান-খয়রাত করা আমার কর্ম।”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
“কর্ম আছে, যদি ধর্ম নাই, নিঃসন্দেহে কাফের।”
পরিশেষে
ধর্ম হলো নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যে হৃদয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি প্রেম বিদ্যমান, সেই মানুষই প্রকৃত ধার্মিক। আর ধার্মিকের কর্ম হলো নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রেমে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বিলীন করা।








