দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
ভালোবাসা হলো — মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি-এর এক অনন্য আধ্যাত্মিক সৃষ্টি, যা সুফি দর্শন ও মারেফতের জগতে এক পরম আলোর উৎস। রাহমাতাল্লিল আলামিন নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষা অনুযায়ী—মানুষ যখন নিজের নফস বা নশ্বর দুনিয়াবী ইচ্ছা ও চাহিদাগুলোকে পরম মাওলার খুশির জন্য কোরবানি দেয় এবং নিজের অস্তিত্বকে খোদার ইচ্ছার কাছে সম্পূর্ণ সঁপে দেয়, তখনই তার কলব বা হৃদয়ে খোদা প্রেমের আলো প্রকাশিত হয়। মাওলানা রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর এই কালজয়ী কবিতায় ভালোবাসাকে শুধু বাহ্যিক সুখের মাধ্যম হিসেবে দেখাননি; বরং এতে যে গভীর ত্যাগ, যাতনা, বিরহ এবং পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক অলৌকিক ঐশ্বরিক শক্তি লুকিয়ে রয়েছে, তা অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। মানুষের ঘুমন্ত আত্মাকে জাগিয়ে তোলার মতো এই মরমী কবিতা এবং এর ভেতরের আধ্যাত্মিক হাকিকত নিয়েই আমাদের আজকের এই বিশেষ ভক্তিপূর্ণ পোস্ট, যা পাঠ করলে ঈমানদারের অন্তর খোদা প্রেমে ব্যাকুল হয়ে উঠবে।
ভালোবাসা হলো
— মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি
ভালোবাসা হলো একটি বিশাল ঝুলন্ত সাগর,
পুরোনো গোপনতা দ্বারা পূর্ণ,
ডুবে যাওয়া হৃদয়ে পূর্ণ,
কেবল এক ফোঁটা ধরে রেখেছে কিছুটা আশা
এবং বাকি সব আতঙ্ক ছাড়া আর কিছুই না।
ভালোবাসা হলো যা মানুষকে করে প্রসন্ন।
ভালোবাসা হলো তা, যা আমাদের অস্তিত্বের সার্থকতা জাগিয়ে তোলে।
আমার জন্ম দিয়েছিলেন আমার মা যা বলি ভালোবাসা,
আমার সে মায়ের প্রতি আমার মতো আশীর্বাদ, শতো শুভ কামনা।
ভালোবাসা তখনই সর্বোত্তম, যখন তা থেকে দেখা দেয় কঠোর যাতনা।
যে ব্যথাকে এড়িয়ে বলে, সে ভালোবাসা কি তা বুঝতে পারে না।
সেই একজন বীর যে রয়েছে ভালোবাসার যাত্রায়;
নিঃসংশয়ে সে করতে পারে, তার জীবনটাকে আত্মসমর্পণ।
ভালোবাসা হলো শুরু হতে অমরত্ব পর্যন্ত।
প্রেমের সন্ধানকারীরা, চিরকাল অগণিত।
আগামীকাল, কিয়ামত দিবসের দিন।
যে কোন হৃদয় যেটি হবে ভালোবাসা শূন্য,
সেটি ছাড়পত্র পেতে হবে ব্যর্থ,
ভালোবাসা হলো, উদীয়মান সূর্যের আলকেমি
একটি মেঘের ভেতর এবং আমার অভ্যন্তরে, তা হলো শত সহস্র বজ্রপাত,
ভালোবাসার মহিমা, সমুদ্রের মতো ছড়িয়ে পড়ে,
নিমজ্জিত করে, উর্ধ্বের সমস্ত ছায়াপথগুলিকে।
ভালোবাসা হলো, একটি দর্পন,
তুমি তোমার প্রতিফলন ব্যতিত আর কিছুই দেখতে পাও না,
তোমার আসল চেহারা ছাড়া আর কিছুই দেখো না।
পরিশেষে
ভালোবাসা হলো — মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি-এর এই অমর ও কালজয়ী কবিতা আমাদের আধ্যাত্মিক শিক্ষাই দেয় যে, ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর নশ্বর মোহ পরিহার করে অবিনশ্বর স্রষ্টার মহব্বতে নিজের সত্তাকে বিলীন করে দেওয়ার নামই হলো আসল ইশকে হাকিকি। যখন একজন আশেক রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি এবং রাহমাতাল্লিল আলামিন নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র প্রেমের চাদর গায়ে জড়িয়ে কোনো কামেল মুর্শিদের সোহবতে নিজেকে সঁপে দেয়, তখনই তার কলব বা হৃদয়ে ভালোবাসার আসল পরমানন্দ চাক্ষুষ জাগ্রত হয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুনিয়ার মিথ্যা ও স্বার্থপর মায়া থেকে মুক্ত রাখুন এবং আমাদের অন্তরে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অন্তহীন মহব্বত এবং ওলীদের উসিলায় অন্তরের প্রকৃত আত্মশুদ্ধি ও খোদার খাঁটি ইশকে হাকিকি নসিব করুন। আমীন।










