দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এমন একজন মহান আউলিয়া, যেনার মাজার শরিফ কেবল একটি পবিত্র স্থানই নয়। এটি ভক্ত হৃদয়ের নির্ভরতা, শান্তির উৎস এবং বহু অলৌকিকতার কেন্দ্রবিন্দু। আজ আমরা জানব “জমজম কূপ থেকে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর পুকুরে স্বর্ণমুদ্রার অলৌকিক আগমন”। আসুন, সেই আশ্চর্য ঘটনাটির পেছনের বিশ্বাস ও ভালোবাসার গল্পটি জানি।
বিশ্বাসের শক্তিতে জমজম কূপে স্বর্ণমুদ্রা বিসর্জন
সিলেট জেলার চান্দাইটিলা গ্রামের দুই ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, আব্দুল মনসুর ও আব্দুল ওহাব, ছিলেন হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর ভক্ত। তাঁরা হজ পালন করার উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কায় গমন করেন এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হজ সম্পন্ন করেন। হজ শেষে যখন দেশে ফেরার সময় এলো, তখন তাঁরা দেখতে পেলেন যে তাঁদের কাছে বেশ কিছু স্বর্ণমুদ্রা অবশিষ্ট রয়েছে। ফিরে আসতে এত পরিমাণ মুদ্রার প্রয়োজন পড়বে না। পায়ে হেঁটে কিংবা উটে চড়ে আসতে হবে এতটা রাস্তা, পদে পদে আছে ডাকাতের উৎপাত, মুদ্রাগুলো যেকোনো সময় ছিনতাই হয়ে যেতে পারে। তাই যাত্রাপথে এই মূল্যবান মুদ্রাগুলো বহন করা ঝুঁকিপূর্ণ।
এই সময় তাঁদের মনে পড়ে যায় হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর মাজারসংলগ্ন পুকুরের কথা। তাঁরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন যে, জমজম কূপের সাথে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর মাজারের পুকুরের সংযোগ রয়েছে। তাঁরা বিশ্বাস করেন, যদি জমজম কূপে এই স্বর্ণমুদ্রা ছেড়ে দেওয়া যায়, তাহলে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর উসিলায় তা মাজার শরিফের পুকুরে পৌঁছে যাবে। এই বিশ্বাসে তাঁরা একটি বাটিতে স্বর্ণমুদ্রা ভরে, তাতে নিজেদের নাম-ঠিকানা লিখে যমযম কূপে ছেড়ে দেন এবং নিশ্চিন্ত হৃদয়ে যাত্রা শুরু করেন প্রিয় জন্মভূমি সিলেটের পথে।
অলৌকিকভাবে মাজারের পুকুরে স্বর্ণমুদ্রার আগমন
এরই মধ্যে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর মাজার শরিফের খাদেম মাজারসংলগ্ন পুকুরটি পরিস্কার করতে গিয়ে তিনি একটি বাটি দেখতে পান। বাটির ভেতর তিনি দেখতে পান স্বর্ণমুদ্রা এবং একটি কাগজে লেখা নাম ও ঠিকানা। বিষয়টি অলৌকিক ও রহস্যময় মনে হওয়ায় খাদেম সাহেব বাটিটি সংরক্ষণ করে রাখেন। দুই মাস পর, আব্দুল মনসুর ও আব্দুল ওহাব হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর মাজার শরিফে উপস্থিত হয়ে খাদেমের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। সব শুনে খাদেম সাহেব তাঁদের হাতে সেই বাটিটি তুলে দেন। দেখা যায়, এটি সেই বাটি যেটি তাঁরা জমজম কূপে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এত বড় অলৌকিকতার সাক্ষী হয়ে, দুই হাজী আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কৃতজ্ঞতাবশত তাঁরা মাজারে দুটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
পরিশেষে
এই ঘটনা কেবল একটি অলৌকিক কাহিনি নয়, এটি দৃঢ় বিশ্বাস, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আউলিয়াগণের আধ্যাত্মিকতার জীবন্ত প্রমাণ। হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর মাজার আজও সেই আশ্রয়স্থল, যেখানে বিশ্বাস নিয়ে ফেলা প্রতিটি কান্না আসমানে পৌঁছে যায়।
আল্লাহর ওলিরা যেন সেই আলো, যারা অন্ধকার পথেও আলো জ্বেলে দেন।
“যদি তুমি বিশ্বাস নিয়ে চাও, আল্লাহ অবশ্যই পথ খুলে দেন। আর তাঁর প্রিয় ওলিরা সেই পথে ছড়িয়ে দেন রহমতের আলো।”









