দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
“হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম ও হুদহুদ পাখির বিস্ময়কর ঘটনা” কোরআনে বর্ণিত আছে যা আমাদের জন্য চিন্তা-গবেষণার দ্বার উন্মুক্ত করে। হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম ছিলেন এমন একজন নবী, যিনি নবুয়তের পাশাপাশি বাদশাহত্বও লাভ করেছিলেন। তিনি শুধু মানুষেরই শাসক ছিলেন না, বরং পশু-পাখি ও জিনদের ওপরও আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা লাভ করেছিলেন। আমরা সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন—
হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম ও হুদহুদ পাখির বিস্ময়কর ঘটনাটি এমন এক অলৌকিক কাহিনি, যা আমাদের জ্ঞান ও ঈমান উভয়কেই জাগ্রত করে। তিনি এ ঘটনার গভীর তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন- যেখানে প্রকাশ পেয়েছে নবুয়তের জ্ঞান, আল্লাহর কুদরত এবং সৃষ্টির মধ্যে নিহিত রহস্য। আসুন, সেই আশ্চর্য হুদহুদ পাখি ও হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম-এর ঘটনার মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে আরও সমৃদ্ধ করি।
হুদহুদ পাখি ও হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম এর কথোপকথন
একদিন হুদহুদ পাখি হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম এর দরবারে গিয়ে বলল, “আসসালামু আলাইকুম।” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম হুদহুদ পাখিকে দেখে কাত হয়ে গেলেন। হুদহুদ পাখি জিজ্ঞেস করল, “হুজুর, কাত হলেন কেন?” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, “তুমি কী?” তখন হুদহুদ বলল, “হুজুর, আমি একটা পাখি।” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, “আল্লাহু আকবর! কী পাখি তুমি?” হুদহুদ জবাব দিলো, “আমি হুদহুদ পাখি।” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, “ভাগ! তোমাকে দেখে ভয় লাগে।” হুদহুদ বলল, “হুজুর, ভয় পান কেন? ওয়ালা ক্বাদ কাররমনা বানী আ’দম।” সতের হাজার নয়শত নিরানব্বইটি মাখলুকাতের মধ্যে বনি আদমকে আল্লাহ সম্মান দিয়েছে, ইজ্জত দিয়েছে, বুদ্ধি দিয়েছে, বিবেক দিয়েছে, সর্বশ্রেষ্ঠ করে বানিয়েছে।
হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম হুদহুদকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কী জন্য এসেছো মানুষের কাছে?” হুদহুদ বলল, “আসছি, আপনি নবী না বাদশা?” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, “তোমার কী দরকার?” হুদহুদ বলল, “আহ! রাগ করেন কেন? আপনি নবী না বাদশা?” তখন হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, “আমি নবী এবং বাদশাও।” হুদহুদ বলল, “আপনার নবুয়তের প্রতি সালাম, কিন্তু আপনি একজন বেক্কল বাদশা!” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম তলোয়ার নিয়েছে। হুদহুদ বলল, “হুজুর, তলোয়ার নামান! আপনার উজির কতজন?” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, “একজন কম তিন হাজার। হুদহুদ বলল, “আপনার সৈন্য বাড়াবেন না?” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, “দরকার হয় না।” হুদহুদ বলল, “দরকার আছে! আমাকে প্রধান উজির বানান।”
হুদহুদ পাখি গায়েব জানে
হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, “হুদহুদ, তুমি তো বললে- ওয়ালা ক্বাদ কাররমনা বানী আ’দম। সতের হাজার নয়শত নিরানব্বইটি মাখলুকাতের মধ্যে বনি আদমকে আল্লাহ সম্মান দিয়েছে, ইজ্জত দিয়েছে, বুদ্ধি দিয়েছে, বিবেক দিয়েছে, সর্বশ্রেষ্ঠ করে বানিয়েছে। তুমি চাও মানুষের উপরে উঠতে, তোমার কী গুণ আছে?” হুদহুদ পাখি বলল, আমাকে প্রধান উজির বানান, কারণ আমি গায়েব জানি।” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, “গায়েবের মালিক তো আল্লাহ, তুমি কিভাবে জানো?
পাক পাঞ্জাতন
“হুদহুদ পাখি বললো, ‘আল্লাহু আহাদুন লাম ইয়াকুন মাহু শাই।’ যখন আল্লাহই আল্লাহ, আর কেহ নাই, নাই, নাই কিছু নাই- আরশ, কুরসি, লৌহ, কলম কিছু নাই। আল্লাহ বললেন, ‘আমি আছি, আমিত্ব নাই।’ আমিত্ববিহীন আমি, বলে ডাক দিবে কে? আল্লাহর ৯ হাজার ৯ শত ৯৯টি নাম আলাদা করে আল্লায়, আল্লাহ নামের মধ্যে একটা ডুব দিয়েছে। ঐ ডুবের মধ্যে আল্লাহ ছিল ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩০ বছর। আল্লাহ যে আল্লাহ নামের মধ্যে খেলছেন, আল্লাহ নামের নূর ঝরতে ঝরতে, নূরের একটা জমাট স্তম্ভ হয়ে গেছে। পানি যদি নিরব থাকে, আমরা যদি পুকুরের পাড়ে অথবা নদীর ঘাটে যাই, পনির মধ্যে আমাদের ছায়া দেখা যায়। তেমনি আল্লাহ পাক, ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩০ বছর পরে, আল্লাহ যখন তার কুদরতি চোখ মেলছেন, আল্লাহ দেখছেন জমাট নূরের মধ্যে আর একটা ছায়া দেখা যাচ্ছে।
এখন আল্লাহর মধ্যে ফখর আসছে, ‘আমি আছি, আমিত্ব আসলো কোথা থেকে?’ তখন আল্লাহ ঐ ছায়ার দিকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘আলাসতু বি রাব্বিকুম’। তখন ছায়া যদি বলতো, ‘আলাসতু ওয়াসতু কুম’ তাহলে দুই জন খোদা হয়ে যেত। আল্লাহ যখন ‘আলাসতু বি রাব্বিকুম’ বললেন, তখন দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম একলা নয়, আমাদের রহমতের কোলে নিয়ে বললেন, ‘কালু বালা’, ‘তুমি আমার মনিব, আমি তোমার গোলাম।’ এই কথা বলতে বলতেই নূরটা ঝিলকাতে ঝিলকাতে লয় হয়ে যাইতে, আল্লাহ ছায়াটা যখন ধরছেন, ছায়াটা একটা ময়ূর হয়ে গেছে।
আল্লাহ ময়ূরটাকে বুকে নেয়, গলায় লাগায়, মুখে লাগায়, মাথায় নেয়- এভাবে আল্লাহ ময়ূরকে নিয়ে খেলছেন ১৯ শত কোটি ৮২ লক্ষ ৯৪ হাজার ২৪ শত ৮ বছর। এখন আল্লাহর যখন জোশ কমছে, আল্লাহ ময়ূরকে সিদরাতুল একিন গাছের ডালে বসিয়েছেন। আমাদের দেশে রাতা মোরগ আছে, রাতা মোরগের ছোট আছে। তেমনি ঐ ময়ূরেরও চার টা ছোট আছে। আল্লাহ কি জেনে, কি ভেবে, ময়ূরের প্রথম ছোটের মধ্যে যখন ধরছেন, সামনের দিকে একট নূর দৌড় দিয়ে গেছে, ঐ নূরটা হলো মওলা আলী। দ্বিতীয় ছোটের মধ্যে যখন ধরছেন, পিছনের দিকে একট নূর দৌড় দিয়ে গেছে, ঐ নূরটা হলো খাতুনে জান্নাত মা ফতেমা। তৃতীয় ছোটের মধ্যে যখন ধরছেন, ডান দিক দিয়ে একটা নূর দৌড় দিয়ে গেছে, ঐ নূরটা হলো বাব হাসাইন। চতুর্থ ছোটের মধ্যে যখন ধরছেন, বাম দিকে একটা নূর দৌড় দিয়ে গেছে, ঐ নূরটা হলো বাবা হুসাইন।
হুদহুদ পাখিকে প্রধান উজির হিসেবে নিয়োগ
সকাল বেলা নজর করলে দেখা যায় কচুপাতার মধ্যে কুয়াশা জমে পানি হয়ে আছে। একটু লাড়া লাগলে পড়ে যায়। পড়ে গেলেও চেয়ে দেখেন কিছু না কিছু কুয়াশা লেগে থাকে। হুদহুদ পাখি বলে বাবা হুসাইনী নূরটা টেনে নেওয়ার সময় কিছু নূর ল্যাবড়াইয়া ছিল, ঐ নূরটা দিয়ে আমার আল্লায় আমি হুদহুদের ঠোঁট বানাইছে।’ ঐ হুসাইনী নূরের বদলৌতে ৮০ হাজার আলম, ১৮ হাজার জাত আমার ২টা চোখে দেখতেছি।’
হুদহুদ পাখি বলে, পানির অপর নাম জীবন। পানি বিহনে কাউকে সুস্থ করা যাবে না। আপনার পক্ষীয় সৈন্যরা যখন কাতর হবে, আমি হুদহুদ সাগরে ঠোঁট ডুবায় দিয়ে পানি নিয়ে এসে আপনার পক্ষীয় সৈন্যদের খাওয়ালে তারা সুস্থ হয়ে যাবে। যুদ্ধ জয় হয়ে যাবে। সারা দুনিয়া আপনার করতলে আসবে।’ এমন গুল্লি হুদহুদে মারছে, হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বাধ্য হয়। হুদহুদ পাখিকে প্রধান উজির বানাইতে।
হুদহুদের উজির গিরি, কাকের জ্বালা
সরকারি চাকরি যদি একবার কারো হয়ে যায়, তাহলে আর চাকরি খেতে কেউ পারে না, সর্বোচ্চ সার্চপেন্ট করতে পারে। এখন হুদহুদ পাখির সরকারি চাকরি হয়ে গেছে। কাক পাখি আছে তার হিংসা লাগছে। কাক বলতেছে, দেখছো আলামত হুহহুদ তো আমার মতই। এটা একটু প্রখণ্ড, আমি একটু ছোট। সে আবার মানব কুলে গিয়ে প্রধান উজির হয়েছে। আচ্ছা, আমি হুদহুদের উজির গিরি খাচ্ছি।”
এখন প্রধান উজির যখন রাজ্য কার্য সেরে বাহির হয়ে গেছে, কাক এসে বলে, “আসসালামু আলাইকুম।” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন, “তুমি কে? তোমার কি কাজ?” কাক বলে, “হুজুর, আমি কাক পাখি।” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন, “কাক পাখি, তুই পাখির কাছে না যাবি, এখানো তোর কি?” কাক বলে, “হুজুর, রাগ করেন কেন? মানুষের মুখে শুনলাম, আপনি নাকি হুদহুদ পাখিকে প্রধান উজির বানাইছেন।”
হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন, “হ্যাঁ, বানাইছি তো।” কাক তখন বলে, “কেন বানাইছেন?” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন, “বানাইছি, তার গুণ আছে।” কাক তখন বলে, “কি গুণ আছে?” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন, “সে গায়েব জানে।” কাক তখন বলে, “সে কচু জানে।” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম তখন তলোয়ার নিয়েছেন, তার উজিরকে বলে, “কচু জানে?” কাক বলে, “হুজুর, আমার কথা শোনেন, তলোয়ার নামান। হুদহুদ পাখি যদি গায়েব জানে, তাহলে বাইদারা যে জাল পাতে, সে জালে আটকে পড়ে মরে কেমন করে?” এই কথা শুনে হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম দিছেন একটা লাফ, আর কাক দিছে উড়া। হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন, “হুদহুদ যদি গায়েব জানে, তাহলে জালে আটকে মরে ক্যামন করে?”
হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলতেছে আজকে আসুক তার গলা আলাদা করবো। তলোয়ার খুলে বসে আছেন। হুদহুদ পাখি যখন দরবারে আসছে, হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন, তোর মাথা আলাদা করবো।” হুদহুদ পাখি বলে, “আমার অপরাধ কি?” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন, “অপরাধ তুই মিথ্যুক, তুই কায্যাব। তখন হুদহুদ পাখি বলে, “কি মিথ্যা কথা বলছি?” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন, “তুই মিথ্যা কথা বলছো যে তুমি গায়েব জানো।” তখন হুদহুদ পাখি বলে, “এখনো তো বলি, আমি গায়েব জানি।” তখন হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বলেন, “গায়েব জানলে, জেলেরা যে জাল পাতে, সেই জালে আটক হয়ে মারা যাও কিভাবে?” হুদহুদ পাখি বলে ও কাউয়ায় বলছে কথাটা। হুজুর কাউয়াতো বেইমান আমি হলাম ঈমানদার।
নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পাক জবান থেকে ছয় (৬)টি গ্রন্থ
“হুদহুদ পাখি বলে, হুজুর, আপনার ৬ হাজার ১৩ বছর পরে যিনি আসছেন, উনি সাত আসমানের নবী, সাত জমিনের নবী, অগণিত ফিরেশতাদের নবী, অগণিত নবীগণের নবী। আপনি সুলায়মানের নবী, আমি হুদহুদের নবী, তিনি ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার, সুবহে সাদিকের সময় বাক্কা শহরে মোকামে ইব্রাহিমে শুভ আগমন করবেন।” উনার পাক জবান থেকে ছয় (৬)টি গ্রন্থ হবে।
১। বুখারী ২। মুসলিম ৩। আবু দাউদ ৪। নাসাই ৫। ইবনে মাজাহ ৬। তিরমিজি
উনার প্রথম গ্রন্থের নাম হবে বুখারী। বুখারীর প্রথম হাদিসটা হলো ‘আত-তাকদিরু লা ইয়ারদু’।
হুদহুদ পাখি বলে, “হুজুরগো, আমি তাকদিরের জাল দেখি না, যে জালে আমি ধরা পড়ে মরে যাবো! তাছাড়া আমি সমস্ত কিছু দেখি।” হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম ইমানদার, তাঁর কথা বিশ্বাস হয়েছে, তাই তাঁর বেতন আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন।
রাণী বিলকিছের রাজ্য দর্শন
হুদহুদ পাখি তিন দিন ধরে দরবারে নাই। তিন দিন পরে দরবারে আসলে হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, ‘এই, তোর মাথা আলাদা করবো।’ হুদহুদ বললো, ‘আমার অপরাধ কি?’ তখন হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন তিন দিন ধরে ‘গেছো কোথায়? তিন দিন, এত বিচার জমা হয়ে আছে, তুমি ছাড়া রায় দেবে কে?’ হুদহুদ বললো, ‘হুজুর, বেয়াদবি মাফ করেন। আপনার বাইতুল মোকাদ্দেস হতে ছয় মাসের রাস্তা দূরে, শাফা রাজ্য পরিস্তানে গিয়েছিলাম।
শাফা রাজ্যে একজন মহিলা, বিলকিছ নাম, তার রাজ্যের মধ্যে এমনভাবে ওয়াল উঠাইছে আসমান পর্যন্ত বাতাস ঢুকার কোন ক্ষমতা নাই। আমি মাথা হেলান দিয়ে ঠোঁট কাত করে নজর করে দেখতেছি, চল্লিশ গজ লম্বা, ত্রিশ গজ উঁচু একটা সিংহাসনের মধ্যে বিলকিছ বসে আছে। কী বলবো বিলকিছের রূপ, কী বলবো সিংহাসনের রূপ, আপনার বাদশাহিটা কোটি বার যদি বিক্রি করেন, ঐ বিলকিছের সিংহাসনের একটিও পায়ার দাম হবে না।’”
আসুদ ইবনে বরখিয়ার অলৌকিক ক্ষমতা
হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বিলকিস এবং তার সিংহাসন এর কথা শুনে পাগল হয়ে গেছেন। তিনি বললেন, ‘কে আছ রে! আমি চাই বিলকিস এবং তার সিংহাসন।’ ‘কালা এফরিতু’ এফরিত নামের একজন জিন দাঁড়িয়ে বলে, ‘হুজুর, আমাকে যদি অনুমতি দেন, আপনার মাহফিল শেষ হওয়ার আগে নিয়ে আসব।’ তখন হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, ‘আমার মাহফিল এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা, চার ঘণ্টা, ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত হবে আমার এত ধৈর্য্য নেই।
কে আছ?’ এই কথা বলতেই আসুদ ইবনে বরখিয়া, যার প্যারালাইসিস-এ এক অংশ অবশ হয়ে গেছে, তিনি লাঠি ভর দিয়ে কাপতে কাপতে উঠে বলেন, ‘আমাকে হুকুম দিন, আপনার চোখের পলক ফেলার আগেই আনব।’ হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম এর চোখের পলক ফেলেননি, এরই মধ্যে চল্লিশ গজ লম্বা, ত্রিশ গজ উঁচু সিংহাসন রাণী বিলকিছসহ বাইতুল মোকাদ্দেসে সোলায়মান নবীর তখতার সঙ্গে লেগে রয়েছে।”
পরিশেষে
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
হুদহুদ পাখি বলে, ‘আমি গায়েব জানি।’ আর আমাদের দেশের কিছু মৌলভী আছে, যারা বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম গায়েব জানেন না। এরা কত বড় খবিস। সুলায়মান আলাইহিস সালাম-এর একজন সাধারণ উম্মত আসিফ ইবনে বরখিয়া, যার প্যারালাইসিস-এ এক অংশ অবশ হয়ে গেছে, তিনি যদি চোখের পলক পড়ার আগেই রানী বিলকিসসহ চল্লিশ গজ লম্বা, ত্রিশ গজ উঁচু সিংহাসন আনতে পারেন, তাহলে দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি সৃষ্টিজগতের সব জায়গায় হাজির থাকতে পারবে কি পারবে না? আসুন, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানার মতো জানি এবং তেনাকে মানার মতো মানি।”










