দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
গাউছে পাক হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি- ওলিদের সর্দার, আধ্যাত্মিক জগতের সম্রাট। আল্লাহ তায়ালা তেনাকে এমন মর্যাদা দান করেছেন, যা যুগে যুগে মানুষকে রহমত ও আশ্রয় দিয়েছে। তেনার নাম মোবারক পাঠে অন্তর প্রশান্ত হয়, ভয় ও বিপদ দূর হয়। বিশেষভাবে তেনার ১১ (এগারো) নাম এমন বরকতময় যে, এর পাঠে বহু জটিল ও কঠিন মুসিবত দূর হয়ে যায়।
আসুন, আমরা জানি গাউছে পাকের ১১ (এগারো) নাম কী কী এবং প্রতিটি নামের অর্থ কী, যা আমাদের গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে সাহায্য করবে। সেই সাথে, এই নামগুলোর পাঠের মাধ্যমে আমরা তেনার সানিধ্য লাভ করতে পারি, জীবনের কষ্ট ও মুসিবত থেকে মুক্তি পেতে পারি এবং অন্তরকে আধ্যাত্মিক শান্তিতে ভাসমান করতে পারি।
গাউছে পাকের ১১ (এগারো) নামের গভীর অর্থ
-
সাইয়্যেদ মহিউদ্দীন আমরুল্লাহ – আল্লাহর আদেশ।
-
শেখ মহিউদ্দীন ফাদলুল্লাহ – আল্লাহর সন্তুষ্টি।
-
আউলিয়া মহিউদ্দীন আমানুল্লাহ – আল্লাহর নিরাপত্তা।
-
মিছকিন মহিউদ্দীন নূরুল্লাহ – আল্লাহর নূর।
-
গাউছ মহিউদ্দীন কুতুবুল্লাহ – আল্লাহর কুতুব।
-
সুলতান মহিউদ্দীন ছাইফুল্লাহ – আল্লাহর তরবারি।
-
খাজা মহিউদ্দীন ফরমানুল্লাহ – আল্লাহর বাণী।
-
মখদুম মহিউদ্দীন বুরহানুল্লাহ – আল্লাহর দলিল
-
দরবেশ মহিউদ্দীন আয়াতুল্লাহ – আল্লাহর নিদর্শন।
-
বাদশাহ মহিউদ্দীন গাউছুল্লাহ – আল্লাহর অলৌকিক ক্ষমতা।
-
ফকির মহিউদ্দীন মুশাহিদুল্লাহ – আল্লাহর সাক্ষী।
গাউছে পাকের ১১ (এগারো) নাম পাঠের ফজিলত
🔹 গাউছে পাকের ১১ নাম পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে জিনে ধরা বা আছর করা রোগীর শরীরে পানি ছিটালে জিন দূর হয়।
🔹 গাউছে পাকের ১১ নাম পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে সে পানি পান করলে পেটব্যথা, মাথাব্যথা ও অন্যান্য ব্যথা দূর হয়।
🔹 গাউছে পাকের ১১ নাম পাঠ করে মনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে, আল্লাহর রহমতে সেই ইচ্ছা পূর্ণ হয়।
পরিশেষে
গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন আল্লাহ্ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রেমে সর্বদা নিমগ্ন। তেনার নাম পাঠ শুধু একটি জিকির নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক শক্তি, যা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, মনকে দৃঢ় করে এবং জীবনের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তির পথ দেখায়। যে হৃদয় গাউছে পাকের ভালোবাসায় উজ্জ্বল, সেই হৃদয়ে কখনো অন্ধকারের স্থান হয় না।










