দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আল্লাহর প্রিয় আউলিয়াগণ কখনো ক্ষমতা বা রাজসিংহাসনের লোভে মত্ত হন না। তেনারা এমন আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী, যার মাধ্যমে পৃথিবীতে রহমত বর্ষিত হয়। তেনাদের সামনে রাজা-গরিব, উঁচু-নিচু- সব পার্থক্য বিলীন হয়ে যায়।
ইতিহাসে বহু ঘটনা আছে, যেখানে রাজা ও বাদশাহরা ওলি-আউলিয়াগণের আধ্যাত্মিক প্রভাব ও শক্তিকে ভয় পেতেন। হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির জীবনেও এমন এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছিল, যা আমাদের শেখায়- মানবের ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আধ্যাত্মিক শক্তি চিরন্তন।
আসুন, আমরা হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির সেই অলৌকিক কারামতটি সম্পর্কে জানি এবং আউলিয়াগণের প্রেমে উদ্বেলিত হয়ে এ দুনিয়া ও পরকালের মুক্তির পাথেয় তৈরি করি।
বাদশাহীর মূল্য: আধ্যাত্মিক শক্তির তুলনায় ক্ষুদ্র
হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির জনপ্রিয়তা এমনই ছিল যে, তেনার প্রভাব দেখে দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিলেন।
তাঁর মনে ভয় জন্মেছিল- একদিন হয়তো এই আউলিয়া তাঁর সিংহাসন কেড়ে নেবেন।
এই ভ্রান্ত ধারণা থেকেই সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন হযরতের সঙ্গে শত্রুতা সৃষ্টি করেন।
কিন্তু আল্লাহ তাআলার হুকুমে একদিন গিয়াসউদ্দিন বলবন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন।
তাঁর পেশাব বন্ধ হয়ে গেল, পেট ফুলে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো।
রাজচিকিৎসক ও হাকিমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও এক ফোঁটা পেশাব করাতে পারলেন না।
সুলতানের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে প্রাসাদের বাতাস ভারী হয়ে উঠল আতঙ্কে।
সুলতানের মা দুশ্চিন্তায় কাতর হয়ে ছুটে গেলেন হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির দরবারে।
ভক্তি ও শ্রদ্ধায় বিগলিত হয়ে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
“বাবা, আমার ছেলের জন্য দোয়া করুন, সে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে।”
হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি শান্ত কণ্ঠে বললেন,
“আমি দোয়া করব, তবে শর্ত আছে-
যদি পুরো বাদশাহি আমার নামে লিখে দেন এবং রাজদরবারের সব পরিষদ তার সাক্ষী হয়, তবেই আমি দোয়া করব।”
সুলতানের মা অসহায় অবস্থায় সেই শর্ত মেনে নিলেন।
তিনি লিখিতভাবে পুরো বাদশাহি হযরতের নামে লিখে আনলেন।
হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি কাগজগুলো হাতে নিয়ে টুকরো টুকরো করে একটি পাত্রে রাখলেন এবং বললেন,
“এই পাত্রে সুলতানকে পেশাব করতে বলুন, পেশাব চলে আসবে।”
সুলতানের মা তাই করলেন।
অলৌকিকভাবে মুহূর্তের মধ্যেই সুলতানের পেশাব খুলে গেল!
তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন।
তখন হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি মৃদু হাসি দিয়ে বললেন,
“দেখলে, যে বাদশাহি নিয়ে তোমরা এত অহংকার করো, তা আমার দৃষ্টিতে পেশাবের পাত্রের চেয়েও মূল্যহীন।”
এই ঘটনার পর সুলতানের হৃদয় নম্র হয়ে গেল।
তিনি বুঝতে পারলেন- সত্যিকার ক্ষমতা সিংহাসনে নয়, বরং আল্লাহর বন্ধুদের দোয়া ও আধ্যাত্মিক শক্তিতে নিহিত।
পরিশেষে
এই ঘটনাটি শুধু এক অসুস্থ সুলতানের আরোগ্যের গল্প নয়;
এটি এক চিরন্তন শিক্ষা-
অহংকার মানুষকে পতনের দিকে নিয়ে যায়,
আর বিনয় ও আল্লাহভক্তি মানুষকে সম্মানিত করে।
হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি দেখিয়ে দিলেন-
আল্লাহর ওলি-আউলিয়াগণের দোয়ায় রাজাদের জীবনও বদলে যেতে পারে।










