দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মানুষ চিরকালই আল্লাহকে খুঁজেছে। কেউ খুঁজেছে মসজিদের নির্জনতায়, কেউ আবার মন্দির বা চার্চের ভেতরে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়- আল্লাহ কি কেবল ইট-পাথরের কোনো দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ? নাকি তিনি আরও কাছেই, আমাদের জীবনের প্রতিটি শ্বাসে? শামসে তাবরিজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর গভীর এক বানী এই প্রশ্নের উত্তর দেয়, আর সেই বানী থেকেই জন্ম নেয় এক যুবকের নতুন জীবনপথ।
শামসে তাবরিজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর বানী থেকে শিক্ষা
একটি গ্রামে বাস করত এক যুবক। তার মনের মধ্যে সবসময় একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেত—
“আল্লাহ কোথায়? আমি তাঁকে কোথায় খুঁজে পাব?”
সে প্রতিদিন মসজিদে যেত কিন্তু তার মন শান্তি খুঁজে পেত না। তার ধারণা ছিল- আল্লাহ হয়তো কেবল নির্দিষ্ট জায়গাতেই পাওয়া যায়।
একদিন গ্রামে এলেন একজন আল্লাহর ওলী। গ্রামের মানুষ তেনাকে ঘিরে বসল। যুবক সাহস করে জিজ্ঞেস করল—
— বাবা, আমি অনেক খুঁজেছি, কিন্তু এখনো বুঝতে পারিনি, আল্লাহ কোথায় থাকেন। আমি তাঁকে খুঁজে পাই কোথায়?
আল্লাহর ওলী গভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন। তারপর শান্ত কণ্ঠে বললেন—
— হে বাছা, তুমি কি শামসে তাবরিজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর একটি বানী শুনেছো? তিনি বলেছেন:
“মহাবিশ্বের সবকিছুতে এবং সবার মাঝেই তুমি ঈশ্বর চর্চা করতে পারবে। কেননা, ঈশ্বর স্রেফ কোন মসজিদ, সিনাগগ কিংবা চার্চের মধ্যে বন্দী থাকেন না। তবু এরপরও যদি একান্তই তোমার জানার দরকার হয় যে তাঁর সঠিক আবাস কোথায়, তাহলে জেনে নাও, একটি মাত্র জায়গায় তাকে খুঁজতে হবে; আর সেটি হলো সত্যিকারের প্রেমিকের হৃদয়ে।”
আল্লাহর ওলী একটু থামলেন, তারপর বললেন—
— এর মানে হলো, আল্লাহ কেবল ইট-পাথরের ঘরে সীমাবদ্ধ নন। তিনি আছেন তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি ফুলে, প্রতিটি তারায়, আর প্রতিটি মানুষের অন্তরে। কিন্তু যদি জানতে চাও তাঁর প্রকৃত আবাস কোথায়, তবে খুঁজো সেই প্রেমিকের হৃদয়ে– যে হৃদয়ে মওলা ছাড়া আর কারও স্থান নেই।
পরিশেষে
শামসে তাবরিজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সেই বানী আমাদের মনে করিয়ে দেয়- আল্লাহর আসল আবাস সেই হৃদয়ে, যা সত্যিকারের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।










