দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মহাবিশ্বের তামাম সৃষ্টির হেদায়েত ও আলোর প্রধান উৎস হলেন নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর তেনারি সেই আধ্যাত্মিক আলোর জ্যান্ত আমানতদার হলেন আল্লাহ তাআলার প্রিয় ওলী-আউলিয়াগণ। বর্তমান ফিতনা ও গোমরাহীর জমানায় যখন চারপাশের মানুষ সত্য-মিথ্যা ও হক-বাতিলের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যায়, তখন ওলী-আউলিয়াদের পবিত্র নজর-ই হয়ে ওঠে অন্ধকারের বুকে হকের আলো জ্বালানোর একমাত্র রূহার্নী উসিলা।
ওলীগণের পবিত্র নজরের আধ্যাত্মিক কারামত
ওলী-আল্লাহগণের শান ও মান আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত সুমহান। তেনাদের বাহ্যিক কারামতের চেয়েও সবচেয়ে বড় কারামত হলো- তেনাদের নূরানি দৃষ্টি বা রূহার্নী নজর। ওলী-আউলিয়াদের পবিত্র নজর যখন কোনো পাপিষ্ঠ বা বাতিলের অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষের কলবের ওপর পতিত হয়, তখন এক সেকেন্ডে তার তামাম গুনাহের অন্ধকার মুছে অন্তরে হকের আলো জ্বলে ওঠে। মাওলানা রুমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার মসনবী শরীফে বলেছেন- “এক মুহূর্তের ওলীর সোহবত ১০০ বছরের ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।”
বাতিলের তামাম অন্ধকার দূর করার রূহার্নী চাবিকাঠি
বাতিল বা মিথ্যা সব সময় মানুষের নফস ও শয়তানি ধোঁকার ওপর ভর করে টিকে থাকে। মানুষ যখন নিজের শক্তিতে এই অন্ধকার দূর করতে পারে না, তখন ওলী-আউলিয়াদের পবিত্র নজর চাক্ষুষ চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। ওলীগণের অন্তরে স্বয়ং রাব্বুল আলামীন ও নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহব্বতের নূর গচ্ছিত থাকে। তেনাদের সেই পবিত্র দৃষ্টির একটিমাত্র ঝলক মানুষের ভেতরের অহংকার, হিংসা এবং বাতিলের তামাম কুপ্রবৃত্তিকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয় এবং কলবকে সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে ধাবিত করে।
উপসংহার: কামেল মুর্শিদের উসিলায় হকের সন্ধান
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান জমানার তামাম ফেতনা থেকে ইমান রক্ষা করতে হলে কামেল ওলীদের কদম আঁকড়ে ধরা ছাড়া আর কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। ওলী-আউলিয়াদের পবিত্র নজর-এর মাধ্যমে আমাদের কলবের জটলাগুলো খুলে যাক এবং বাতিল থেকে দূরে থেকে আমরা যেন খাঁটি হকের পথে চলতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কামেল ওলীগণের পবিত্র উসিলায় ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’ তথা হকের সরল-সঠিক পথে চিরকাল অবিচল রাখুন। আমীন।







