দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আ’লা হযরত ইমাম মুহাম্মদ আহমদ রেযা খান বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এমন একজন আউলিয়া ছিলেন, যেনার দোয়ার বরকতে অলৌকিকভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি মুক্তি লাভ করেছিলেন। আসুন আমরা জানি “আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি দোয়ায় বদলে গেল নিয়তি – ফাঁসির মঞ্চ থেকে অলৌকিক মুক্তি” যে কারামতটি প্রমাণ করে আউলিয়াগণের দোয়ার কারণে আল্লাহ তাআলা অনেক সময় নিয়তির গতিপথ পর্যন্ত বদলে দেন।
একটি দুর্ঘটনা ও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ
আ’লা হযরত ইমাম মুহাম্মদ আহমদ রেযা খান বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর একজন মুরিদ ছিলেন, যাঁর নাম আমজাদ আলী কাদেরী। তিনি শিকারে গিয়েছিলেন। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে গুলি চালালে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে একজন পথচারীর গায়ে গিয়ে লাগে এবং ঘটনাস্থলেই সেই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। যদিও এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল এবং হত্যার কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না, তবুও তাঁর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়। আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
পরিবারের সদস্যরা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর দরবারে গিয়ে বলতে লাগলেন, “হুজুর, আমজাদ আলীর ফাঁসির হুকুম জারি করা হয়েছে, আপনি তাঁর জন্য দোয়া করুন।” পরিবারের আকুতি শুনে আ’লা হযরত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি অত্যন্ত স্থিরচিত্তে বললেন, “আপনারা নির্ভয়ে যান। আমি আমজাদ আলীকে ফাঁসি থেকে মুক্ত করে দিয়েছি।” এই কথা শুনে তারা কিছুটা আশ্বস্ত হয়ে ফিরে আসেন।
এর কিছুদিন পর, ফাঁসির নির্ধারিত দিনের কাছাকাছি সময়ে আমজাদ আলী কাদেরীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন তাঁর স্বজনেরা। তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়লে তিনি তাদের সান্তনা দিয়ে বলেন, আপনারা সবাই ঘরে ফিরে যান ও বিশ্রাম নিন। আমার ফাঁসি হবে না। নির্দিষ্ট দিনে আমি নিজেই ঘরে ফিরে আসব। কারণ আমার পীর আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি স্বপ্নে আমাকে বলেছেন, ‘আমি তোমাকে মুক্ত করে দিয়েছি।’ এই কথা শুনে আত্মীয়স্বজন কিছুটা শান্তি নিয়ে ফিরে যান।
ফাঁসির দিন: অলৌকিক ঘটনার প্রকাশ
ফাঁসির দিনে পুত্রের শেষ সাক্ষাত করতে আমজাদ আলীর মা তাঁর কাছে আসেন। আমজাদ আলী বলেন, “মা, শুধু শুধু কাঁদছেন কেন? ঘরে যান, আমি ঘরে এসেই নাস্তা করব।” ফাঁসির নির্ধারিত সময়ে আমজাদ আলী কাদেরীকে ফাঁসির মঞ্চে তোলা হয়। শেষ ইচ্ছা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “জিজ্ঞাসা করে কি লাভ? এখনও তো আমার মৃত্যুর সময় আসেনি।”
এই কথা শুনে কারাগারের কর্মকর্তারা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। সবাই মনে করল মৃত্যুভয়ে তাঁর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাঁকে ফাঁসির রশি গলায় পরিয়ে দেওয়া হল। ঠিক সেই সময় বার্তাবাহক দৌড়ে এসে বলে- রানী ভিক্টোরিয়ার পুত্র সিংহাসনে আরোহণের আনন্দে দেশব্যাপী সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। এই সাধারণ ক্ষমার আওতায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমজাদ আলী কাদেরী-কেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তাঁর পরিবার তখন শোকে কাতর, চোখে পানি আর হৃদয়ে উৎকণ্ঠা। এমন সময় হঠাৎ আমজাদ আলী কাদেরী নিজেই ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরে প্রবেশ করে তিনি মায়ের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলেন, “আমি তো বলেছিলাম, ঘরে ফিরে নাস্তা করব। এখন নাস্তা নিয়ে আসুন।” ঘরে তখন আনন্দের অশ্রু, বিস্ময় আর ঈমানী অনুভূতির এক গভীর আবেশ ছড়িয়ে পড়ে। এই অলৌকিক মুক্তির ঘটনা ছিল আ’লা হযরত ক্বেবলা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি এর জীবন্ত করামতের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পরিশেষে
এই ঘটনা আমাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরে- আল্লাহর আউলিয়াগণের দোয়া কতটা শক্তিশালী এবং তেনাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কীভাবে নিয়তির গতিপথ পর্যন্ত পরিবর্তন করে দিতে পারেন। আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর এই করামত আমাদের ঈমানকে আরও দৃঢ় করে এবং আল্লাহর ওলিদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরও এমন পবিত্র ওলিদের মহব্বত ও নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।









