জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসন: আউলিয়াদের কারামত অস্বীকারকারী ওহাবী-সালাফীদের ভ্রান্ত আকিদা খণ্ডন।

জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত ওহাবী-সালাফী ফেরকাদের ভ্রান্ত আকিদার অকাট্য কিতাবী খণ্ডন। পবিত্র কুরআন, সহীহ বুখারী এবং ইমাম গাজ্জালীর ‘ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন’-এর অখণ্ডনীয় দলিলের আলোয় ওলী-আল্লাহগণের অলৌকিক কারামত ও পর্দা-পরবর্তী বাতেনি হায়াতের জাজ্বল্যমান সত্য উন্মোচন।

জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসন
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসন আজ মুসলিম উম্মাহর সরল আকিদার বুনিয়াদকে চরম ঝুঁকির মুখে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমান শেষ জমানার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অবক্ষয় হলো বাহ্যিক লেবাস, তথাকথিত আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তি এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহারের আড়ালে সাধারণ মুসলমানদের সরল ঈমান হরণের জঘন্য উৎসব। বৈশ্বিক এই ফেতনার যুগে একশ্রেণীর নব্য সালাফী ও ওহাবী মতবাদের প্রচারকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রযুক্তির তোরণ ব্যবহার করে সরলমনা মুসলমানদের মন থেকে আল্লাহর ওলীগণের মহব্বত, তেনাদের প্রতি আদব এবং তেনাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতা বা কারামতকে ধুয়ে সাফ করার কুৎসিত চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। তারা যুবসমাজকে বুঝাতে চায় যে, ওলীগণের উসিলা নেওয়া, মাজার জিয়ারত করা কিংবা ওলীগণের অলৌকিক ক্ষমতা বা কারামতে বিশ্বাস করা নাকি এক প্রকার ‘শিরক’ বা ‘কুফর’। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ আল্লাহর ওলী-আল্লাহগণের মহব্বত অন্তরে ধারণ করা এবং তেনাদের কারামতকে তাসদীক বা সত্য বলে বিশ্বাস করা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের অকাট্য, সুদৃঢ় ও মৌলিক আকিদার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওলীগণের শান ও আভিজাত্য খাটো করার তামাম নজদী ও বাতিল আগ্রাসনের অবসান ঘটিয়ে, পবিত্র কুরআন, সহীহ হাদীস এবং জগৎখ্যাত মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণের কালামি দলিলের আলোয় তাদের ভ্রান্ত আকিদার শিকড় চাক্ষুষ উপড়ে ফেলা এবং বাতেলদের আসল গুরুর মুখোশ উন্মোচন করাই এই নিবন্ধের মূল বুনিয়াদ ও অমর তোরণ।

আউলিয়াগনের কারামত ও বাতেনি ঐশ্বরিক ক্ষমতা: পবিত্র কুরআনের জাজ্বল্যমান আয়াত ও অকাট্য দলিল

সালাফী-ওহাবী ফেরকার মূল ভ্রষ্টতা হলো, যা চোখে দেখা যায় না তারা তা বিশ্বাস করতে চায় না। ওহাবীদের এই বস্তুঘেরা স্থূল বুদ্ধি আল্লাহর ওলীগণের অলৌকিক ক্ষমতা বা কারামতকে সরাসরি অস্বীকার করে। তাদের মন ও মগজ আধ্যাত্মিক জগত বা বাতেনি নূরের মোজেযা চাক্ষুষ অনুধাবন করতে একশত ভাগ অন্ধ। জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত এই বাতিল ফেরকারা ইসলামের জহিরী বা বাহ্যিক লেবাসটুকু আঁকড়ে ধরলেও, তাদের অন্তর মারফতের আসমানী আলো থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। অথচ স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনের একাধিক সূরায়, একাধিক আয়াতে ওলীগণের কারামতের জাজ্বল্যমান ঘটনা অত্যন্ত ওযনদার কালামে খোদাই করে উম্মতের জন্য চিরদিনের মতো অমর করে রেখেছেন।

হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম-এর হুজরার আসমানী রিযিক

পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরানের ৩৭ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: যখনই যাকারিয়া আলাইহিস সালাম মিহরাবে মরিয়মের কাছে প্রবেশ করতেন, তখনই তিনি তার কাছে রিযিক দেখতে পেতেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে মরিয়ম! এগুলো তোমার কাছে কোথা থেকে এলো?’ মরিয়ম আলাইহাস সালাম বললেন, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিসাববিহীন রিযিক দান করেন।

তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: পবিত্র কুরআনের এই জাজ্বল্যমান আয়াতের অধীনে ওলী-আল্লাহগণের কারামতের এক সুগভীর ও অখণ্ডনীয় সত্য নিহিত রয়েছে। হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম কোনো নবী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন পবিত্র নারী এবং মহান আল্লাহর দরবারের এক পরম খাস ও কামেল ওলী। তেনার নির্জন ইবাদতখানার হুজরায় শীতের দিনে গরমকালের ফল এবং গরমের তীব্র দিনে শীতকালের টাটকা ফল কোনো জহিরী মাধ্যম বা মানুষের হাতের ছোঁয়া ছাড়া সরাসরি কুদরতিভাবে হাজির হওয়া স্বয়ং আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে ওলীর মাধ্যমে প্রকাশিত কারামত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।

জগতখ্যাত মুফাসসির ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার অমর তাফসীর গ্রন্থ ‘তাফসীরে কাবীর’-এ এই আয়াতের অকাট্য বুনিয়াদের ওপর দাঁড়িয়ে স্পষ্ট খোদাই করেছেন যে- এটিই হলো ওলীর কারামত সত্য হওয়ার পক্ষে পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে বড় ও জাজ্বল্যমান দলিল। যারা জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত হয়ে ওলীর কারামতকে অন্ধের মতো অস্বীকার করে, তারা কি পবিত্র কুরআনের এই প্রকাশ্য ও দেদীপ্যমান আসমানী আয়াতকেও চাক্ষুষ অস্বীকার করার চরম ধৃষ্টতা ও স্পর্ধা দেখাবে? এই নূরানী সত্যের সামনে বাতিলদের কোনো মনগড়া যুক্তি এক সেকেন্ডের জন্যও চাক্ষুষ টিকতে পারে না।

আসিফ ইবনে বারখিয়া ও রানি বিলকিসের সিংহাসন: স্থান-কালের ওপর ওলীর বাতেনি কর্তৃত্ব।

পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নামলের ৩৯–৪০ নম্বর আয়াতে হযরত সোলায়মান আলাইহিস সালামের দরবারে সংঘটিত এক বিস্ময়কর ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, যা মহান আল্লাহ ওলী-আল্লাহগণের বাতেনি ঐশ্বরিক ক্ষমতা ও কারামতের এক জগতকাঁপানো চাক্ষুষ সত্য জহির করে ইরশাদ করেছেন। হযরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম যখন রানি বিলকিসের সিংহাসন তেনার দরবারে নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন, তখন এক শক্তিশালী জিন (ইফরিত) সিংহাসন হাজির করতে কয়েক ঘণ্টা সময় চেয়েছিল (অর্থাৎ হযরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম তেনার রাজকীয় আসন থেকে ওঠার পূর্ব পর্যন্ত সময়)।
এরপর আসিফ ইবনে বারখিয়া “যার কাছে কিতাবের বা বাতেনি ইলম ছিল,” সে বলল—‘আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি সেই বিশাল সিংহাসন তার স্থান (ইয়েমেন) থেকে এনে আপনার সামনে (শাম দেশে) হাজির করে দেব।’ অতঃপর হযরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম যখন সিংহাসনটি নিজের সামনে স্থির অবস্থায় দেখতে পেলেন, তখন তিনি বললেন—‘এটি আমার রবের অনুগ্রহ।’
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: চোখের পলক ফেলার আগেই হাজার মাইল দূরের এক বিশাল ও ওযনদার সিংহাসন এক সেকেন্ডে হাজির করে দেওয়া জহিরী বা বাহ্যিক বিজ্ঞানের তামাম যান্ত্রিক নিয়মকে এক পলকে চূর্ণ করে দেয়। তামাম ওলামায়ে হক্কানী একমত যে, আসিফ ইবনে বারখিয়া কোনো নবী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন হযরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম-এর দরবারের একজন খাস ও কামেল ওলী। এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহর খাস ওলীগণ আল্লাহর দেওয়া বাতেনি ও ঐশ্বরিক শক্তিতে মহাবিশ্বের স্থান-কাল পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন।
জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত ছদ্মবেশী সালাফী ও ওহাবী মোল্লারা ওলীগণের এই আসমানী ক্ষমতাকে শিরক বলে ফতোয়া দেয়। তাদের এই মনগড়া ফতোয়া পবিত্র কুরআনের এই জাজ্বল্যমান কিতাবী দলিলের সামনে এক সেকেন্ডের জন্যও চাক্ষুষ টিকতে পারে না। পবিত্র কুরআনের প্রকাশ্য সত্যের সামনে বাতিলদের তামাম কুযুক্তি এক পলকেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোয় মিশে যায়।

আসহাবে কাহাফের তিনশত বছরের ঘুম: ওলীগণের দেহের ওপর স্থান-কালের বাতেনি মোজেযা

জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে অন্ধ হওয়া সালাফী-ওহাবী মোল্লারা মনে করে, ওলী-আল্লাহগণ ওফাত বা পর্দা করার পর মাটির সাথে মিশে যায় সূরা আল-কাহাফে আল্লাহর খাস ওলী ‘আসহাবে কাহাফ’-এর মাধ্যমে স্থান-কাল ও প্রকৃতির বাহ্যিক নিয়মকে চূর্ণ করে ওলীগণের শরীরের অমরত্ব সাব্যস্ত করে রেখেছেন।
মহান আল্লাহ তেনার এই পরম খাস ও মাহবুব বন্ধুদের এক নিভৃত গুহার অন্তরালে টানা তিনশত নয় বছর (৩০৯ বছর) কোনো প্রকার খাদ্য, পানীয় কিংবা বাহ্যিক অক্সিজেনের জহিরী মাধ্যম ছাড়াই পরম ঘুমের এক অলৌকিক ও বাতেনি হায়াতে চির জ্যান্ত বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, তেনাদের পবিত্র দেহ মোবারককে মহান আল্লাহর খাস কুদরতি পাহারায় আসমানী রোদ-বৃষ্টি কিংবা মাটির কোনো কীট-পতঙ্গ বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পারেনি; বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তেনাদের শরীর মোবারক জান্নাতী সতেজতায় একশত ভাগ অক্ষত ও জাজ্বল্যমান আসীন ছিল।
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: তামাম জমানার ওলামায়ে হক্কানী একশত ভাগ সর্বসম্মতভাবে একমত যে, আসহাবে কাহাফের এই যুবকেরা কোনো নবী বা রাসূল ছিলেন না; তেনারা ছিলেন মহান আল্লাহর দরবারের পরম খাস ও আশেক ওলী। তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে একটি মানবদেহকে জ্যান্ত ও অক্ষত রাখা জহিরী বিজ্ঞানের যান্ত্রিক জড়বাদকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। ওহীর এই জাজ্বল্যমান সত্য চাক্ষুষ প্রমাণ করে যে- মহান আল্লাহ তেনার প্রিয় বন্ধুদের জহিরী ও বাতেনি- উভয় হায়াতে তামাম প্রকৃতির নিয়মের ঊর্ধ্বে অলৌকিক ক্ষমতা ও অমরত্ব দান করেন। ওহীর এই প্রকাশ্য সত্যের সামনে বাতিলদের কোনো মনগড়া যুক্তি এক সেকেন্ডের জন্যও চাক্ষুষ টিকতে পারে না।

সহীহ হাদীসের আলোয় ওলী-আল্লাহগণের শান ও ঐশ্বরিক বাতেনি শক্তি

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহীহ হাদীসের নূরানী ভাণ্ডার আল্লাহর ওলীগণের কারামতের জাজ্বল্যমান দলিলে পরিপূর্ণ আসীন। শুধু তাই নয়, ওলী-আল্লাহগণ এই দুনিয়া থেকে পর্দা করার পরেও যে বাতেনি হায়াতে চির জ্যান্ত থাকেন এবং আল্লাহর দেওয়া অলৌকিক ক্ষমতা লাভ করেন, তা সহীহ হাদীস দ্বারা দিবালোকের মতো প্রমাণিত। জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে অন্ধ হওয়া নজদী-ওহাবী মোল্লারা হাদীসের কেবল বাহ্যিক ও আক্ষরিক অনুবাদটুকু পড়ে; তাদের হাদীসের ভেতরের আসল আধ্যাত্মিক রহস্য ও বাতেনি আলো থেকে নিজেদের কলবকে সম্পূর্ণ অন্ধ করে রেখেছে। তাদের এই স্থূল বস্তুঘেরা বুদ্ধি ওহীর ভেতরের রূহার্নী হাকিকত চাক্ষুষ অনুধাবন করতে একশত ভাগ ব্যর্থ।

হাদীসে কুদসী: ওলীগণ যখন আল্লাহর কুদরতের আয়না হয়ে যান

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহীহ হাদীসের নূরানী ভাণ্ডারে ওলীগণের বাতেনি ক্ষমতা ও ঐশ্বরিক শক্তির সবচেয়ে বড় প্রমাণ স্থায়ীভাবে খোদাই বা লিখিত অবস্থায় সুরক্ষিত রয়েছে, যা কোনোদিনও মুছে ফেলা যাবে না। সহীহ বুখারী শরীফের (হাদীস নম্বর: ৬৫০২) ‘(কিতাবুর রিক্বাক)-এর খাস তোরণে রাসূলে পাক ﷺ ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফরমান:
আমার বান্দা যখন নফল ইবাদতের মাধ্যমে অনবরত আমার পরম নৈকট্য ও সান্নিধ্য হাসিল করতে থাকে, তখন আমি তাকে ভালোবাসি। আর আমি যখন তাকে পরম ভালোবাসায় আপন করে নিই, তখন আমি স্বয়ং তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তেনার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে হাঁটে। সে যদি আমার দরবারে কোনো কিছু প্রার্থনা করে, আমি তাকে তা দান করি; আর সে যদি আমার কাছে আশ্রয় চায়, আমি তাকে অবশ্যই আশ্রয় দিই।
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: পবিত্র কুরআনের এই গভীর বাতেনি রহস্য বাতিল ফেরকারা কোনোদিনও চাক্ষুষ বুঝতে পারবে না। মহান আল্লাহর কোনো মকবুল ওলী যখন গভীর ইবাদত ও ভালোবাসায় আল্লাহর দেওয়া বাতেনি নূরে ডুবে যান, তখন তেনার চোখের দেখা আর কানের শোনার সাধারণ সীমাবদ্ধতা চিরতরে দূর হয়ে যায়। তখন তেনারা পবিত্র মদীনা শরীফে কিংবা নিজের নির্জন হুজরায় বসেই আল্লাহর দেওয়া কুদরতি নূরের আলোয় তামাম পৃথিবী চাক্ষুষ দেখতে পান এবং সৃষ্টির তামাম গোপন রহস্য তেনার সামনে দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।
এরই পরম মোজেযায় ওলী-আল্লাহগণ হাজার মাইল দূর থেকেও তেনাদের আশেক ভক্তদের আকুল ফরিয়াদ পলকে শুনতে পান এবং আল্লাহর দেওয়া বাতেনি শক্তিতে এক সেকেন্ডে সাহায্য করতে পারেন। ওলীগণের হাত তখন মূলত আল্লাহর দেওয়া বিশেষ ক্ষমতার এক একটি শক্তিশালী প্রকাশ হিসেবে প্রমাণিত হয়। জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে অন্ধ হওয়া বস্তুঘেরা স্থূল বুদ্ধি ওহীর এই আসমানী সত্যের সামনে এক পলকের জন্যও চাক্ষুষ টিকতে পারে না; বাতিলদের তামাম কুযুক্তি ও ফতোয়া এক পলকেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোয় মিশে যায়।

হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ‘সারিয়া জাবাল’ (দূরবর্তী বাতেনি নির্দেশ)

আল্লাহর কামেল ওলীগণের বাতেনি ক্ষমতা ও দূরবর্তী তাসাররুফের সবচেয়ে জাজ্বল্যমান এবং ঐতিহাসিক প্রমাণ হলো হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ‘সারিয়া জাবাল’-এর বিখ্যাত ঘটনা। ইমাম বায়হাকী তেনার ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে এবং ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী তেনার ‘আল-ইসাবাহ’ গ্রন্থে সহীহ ও হাসান সনদে এই জগতকাঁপানো ঐতিহাসিক ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।
হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মদীনা শরীফের মসজিদে নববীর মিম্বরে দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ খুতবার মাঝখনেই তিনি কাশফ বা বাতেনি নূরের দৃষ্টিতে হাজার মাইল দূরে পারস্যের (ইরানের) নেহাবন্দ যুদ্ধক্ষেত্রে মুসলিম সেনাদের এক চরম বিপদ চাক্ষুষ দেখতে পেলেন। চতুর কাফেররা মুসলিম সেনাদের পেছন থেকে ঘিরে ফেলার চক্রান্ত করছিল। তখন হযরত রাদিয়াল্লাহু আনহু মদীনার মিম্বর থেকেই অপ্রাসঙ্গিকভাবে চিৎকার করে বাতেনি শক্তিতে ডাক দিয়ে বললেন–“ইয়া সারিইয়াতাল জাবাল! ইয়া সারিইয়াতাল জাবাল!” (হে সারিয়া! পাহাড়ের আশ্রয় নাও!)।
আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, হাজার মাইল দূরে পারস্যের রণক্ষেত্রে থাকা মুসলিম সেনাপতি হযরত সারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু খোদ মদীনার মিম্বর থেকে ভেসে আসা হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই বাতেনি আওয়াজ নিজের কানে শুনতে পেলেন! তৎক্ষণাৎ হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নির্দেশ অনুযায়ী মুসলিম বাহিনীকে পাহাড়ের ঢালে নিয়ে গেলেন এবং কাফেরদের তামাম চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে এক ঐতিহাসিক মহাবিজয় লাভ করলেন।
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত সালাফী-ওহাবী ফেরকারা ওলীগণের বাতেনি ক্ষমতা ও রূহার্নী উসিলাকে শিরক-কুফর বলে ফতোয়া ছড়ায়। তাদের এই বস্তুঘেরা স্থূল বুদ্ধি সহীহ ইতিহাসের এই জাজ্বল্যমান দলিলের সামনে এক পলকের জন্যও চাক্ষুষ দাঁড়াতে পারে না। মদীনার মিম্বরে বসে হাজার মাইল দূরের যুদ্ধক্ষেত্র চাক্ষুষ দেখা-এটিই হলো ওলীর ঐশ্বরিক ও বাতেনি দৃষ্টির প্রমাণ। আর হাজার মাইল দূর থেকে মদীনার আওয়াজ সেনাপতির কানে পৌঁছানো ওলীর ঐশ্বরিক বাতেনি শ্রবণের অকাট্য কিতাবী প্রমাণ। স্বয়ং আল্লাহ যখন সহীহ বুখারীর হাদীসে কুদসী অনুযায়ী ওলীর চোখ আর কান হয়ে যান, তখন স্থান-কালের তামাম যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা ধুয়ে সাফ হয়ে যায়। ওহীর এই প্রকাশ্য সত্যের সামনে বাতিলদের তামাম কুযুক্তি পলকেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোয় মিশে যায়।

হযরত জুরাইজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর কারামত: নবজাতক শিশুর অলৌকিক জবান ও অকাট্য দলিল

নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহীহ হাদীসের নূরানী ভাণ্ডারে আউলিয়াগণের কারামতের আরেকটি জাজ্বল্যমান প্রমাণ খোদাই আসীন রয়েছে। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম শরীফের এক দীর্ঘ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসে বনী ইসরাঈলের প্রখ্যাত দরবেশ ও মহান ওলী হযরত জুরাইজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর এক জগতকাঁপানো ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
এক ব্যভিচারী নারী যখন ওলী হযরত জুরাইজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর পবিত্র নামে জঘন্য মিথ্যা কলঙ্ক লেপে দিয়ে তামাম সমাজকে খেপিয়ে তুলেছিল, তখন সেই ওলী বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে পরম শান্তিতে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করলেন। অতঃপর তিনি সেই সদ্যজাত দুগ্ধপোষ্য নবজাতক শিশুর পেটে পবিত্র হাত মোবারক দিয়ে আলতো আঘাত করে বললেন– “হে শিশু! তুমি বলো, তোমার আসল পিতা কে?” সাথে সাথে সেই অবুঝ দুগ্ধপোষ্য শিশু মহান আল্লাহর কুদরতে অলৌকিকভাবে জ্যান্ত কথা বলে উঠল এবং তার আসল জারজ পিতার নাম প্রকাশ করে ওলী হযরত জুরাইজ রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে এক সেকেন্ডে নিষ্কলঙ্ক সাব্যস্ত করে দিল!
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত সালাফী-ওহাবী ফেরকারা মনে করে, নবীগণ ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে অলৌকিক কিছু প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয়। তাদের এই স্থূল বস্তুঘেরা বুদ্ধি সহীহ বুখারী ও মুসলিমের এই জাজ্বল্যমান দলিলের সামনে এক পলকের জন্যও চাক্ষুষ টিকতে পারে না। তামাম ওলামায়ে হক্কানী একমত যে, হযরত জুরাইজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি কোনো নবী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন খাস ওলী। আর ওই কথা বলা শিশুটিও কোনো নবী ছিল না।
সুতরাং, একটি অবুঝ দুগ্ধপোষ্য শিশুর মুখ থেকে এক সেকেন্ডে জ্যান্ত ও সত্য কথা বের হওয়া- এটি খোদ জহিরী বিজ্ঞানের তামাম যান্ত্রিক জড়বাদকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। ওলীর হাতের পবিত্র স্পর্শে এবং বাতেনি রূহার্নী শক্তিতেই মহান আল্লাহ এই অলৌকিক কারামত চাক্ষুষ জহির করেছেন। ওহীর এই প্রকাশ্য সত্যের সামনে বাতিলদের তামাম মনগড়া যুক্তি ও ফতোয়া এক চাক্ষুষ পলকেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোয় মিশে যায়।

ওহাবী-সালাফী ভ্রান্ত আকিদার কুৎসিত উৎস ও তাদের আসল গুরুদের মুখোশ উন্মোচন

জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসন আজ যে মহামারী রূপ ধারণ করেছে, তা কিন্তু হুট করে আসমান থেকে বা একা একা জন্ম নেয়নি। ইসলামের খাঁটি আকিদাকে চূর্ণ করতে এবং উম্মতে মুহাম্মদীর ভেতরের ঈমানী ঐক্যে ফাটল ধরাতে বাতেলদের এই ভ্রান্ত আকিদার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিষাক্ত শিকড় লুকিয়ে রয়েছে। ওলী-আল্লাহদের শানে বিষোদ্গারের এই জঘন্য চক্রান্তের নেপথ্য ইতিহাস চিনে রাখা এবং তাদের আসল রূপটি মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলা আজ তামাম সুন্নি মুসলমানের জন্য এক পরম ও খাস ফরজ দায়িত্ব।

ইবনে তাইমিয়াহ: সুফি আকিদা খণ্ডনের আদি রূপ ও ফেতনার ঐতিহাসিক বুনিয়াদ।

ইতিহাস ঘাঁটলে চাক্ষুষ দেখা যায় যে, অষ্টম হিজরীর বিতর্কিত ও চরমপন্থী ব্যক্তিত্ব ইবনে তাইমিয়াহ হলেন এই তামাম বাতেল ওহাবী আকিদার মূল আদি গুরু। সে-ই সর্বপ্রথম ইসলামের চিরায়ত ইজমা (সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত), সালাফে সালেহীনদের পবিত্র বিশ্বাস এবং সুফি দর্শনের বাইরে গিয়ে এক অভিনব ফেতনা সৃষ্টি করে। সে ফতোয়া দেয় যে, আল্লাহর ওলীগণের উসিলা নেওয়া নাকি নাজায়েয! শুধু তাই নয়, সে ওলী-আল্লাহগণের পবিত্র মাজার শরিফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্তে সফর করাকে প্রকাশ্য গুনাহের কাজ বলে সাব্যস্ত করে।
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত বর্তমানের সালাফী-ওহাবী মোল্লারা ইবনে তাইমিয়াহকে তাদের প্রধান ইমাম মনে করলেও, তারা নিজের জমানার শ্রেষ্ঠ ওলামায়ে কেরাম ও ফক্বীহগণ তাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। জগতখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফক্বীহ ইমাম ইবনে হাজার হাইতামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং ইমাম তাকীউদ্দীন সুবকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনাদের অমর কিতাবসমূহে অকাট্য দলিল দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে- ইবনে তাইমিয়াহ হলেন একশত ভাগ গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী: নজদ ফেতনার উত্থান ও ব্রিটিশ চক্রান্তের কালো ইতিহাস

ইবনে তাইমিয়াহর রোপণ করা সেই ভ্রান্ত আকিদার বিষাক্ত বীজ দ্বাদশ হিজরীতে আরবের ‘নজদ’ মরুভূমি থেকে এক ভয়ঙ্কর মহামারী রূপে উদিত হয়। আর এই নব্য ফেতনার মূল নায়ক ছিল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী।
সহীহ বুখারীর ভবিষ্যদ্বাণী: এখানে প্রতিটি সুন্নি মুসলমানের জেনে রাখা পরম খাস দায়িত্ব যে, স্বয়ং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহীহ বুখারী শরীফের অকাট্য হাদীসে এই ‘নজদ’ এলাকাকে তামাম ফেতনার কেন্দ্র এবং ‘শয়তানের শিং’ বা শয়তানের দল উদিত হওয়ার স্থান হিসেবে সাব্যস্ত করে আগেই উম্মতকে সতর্ক করে গেছেন!
জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার-এ লিপ্ত এই নজদী মোল্লা তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির গোপন চক্রান্ত, অর্থ ও অস্ত্রের কালো সহায়তায় আরবের খাঁটি সুন্নি মুসলমানদের ঢালাওভাবে ‘কাফের’ ও ‘মুশরিক’ বলে ফতোয়া দেয়। তাদের এই ভ্রান্ত ফতোয়ার ওপর বুনিয়াদ করে তারা আরবের হাজার হাজার আশেকে রাসূল ও সুন্নি মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে পবিত্র মক্কা ও মদীনার বুকে এক রক্তের হোলি খেলায় মেতে ওঠে।
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: এই ঐতিহাসিক সত্য চাক্ষুষ প্রমাণ করে যে, ওহাবী-সালাফী ফেতনার জন্ম কোনো দ্বীনি দাওয়াত বা ইসলামের কল্যাণের জন্য হয়নি; বরং তাদের জন্মই হয়েছিল সুন্নি মুসলমানদের সরল ঈমান হরণ করতে এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের এক সুগভীর কারিগরি চাতুরতার মাধ্যমে।

পবিত্র মদিনার মাজার শরীফ ধ্বংসের কালো ইতিহাস: নজদী ওহাবিয়াতের বর্বর আগ্রাসন ও সত্যকে অস্বীকার।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী কেবল ফতোয়াবাজির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সে আরবের গোত্রপ্রধান সৌদ ইবনে আব্দুল আযীযের সাথে এক অশুভ রাজনৈতিক ও সামরিক আঁতাত কায়েম করে। তাদের এই নব্য ওহাবী সেনাবাহিনী আরবের পরম পবিত্র ভূমি মক্কা মোয়াজ্জমা এবং মদীনা মোনাওয়ারার বুকে খাঁটি সুন্নি মুসলমানদের ওপর হামলা চালায়।
তৎকালীন মক্কার প্রধান মুফতি আল্লামা আহমেদ জেইনী দাহলান শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘খুলাসাতুল কালাম ফী বায়ানিল উমারাইল বালাদিল হারাম’ (পৃষ্ঠা: ২৯১-২৯৭) এবং উসমানীয় খিলাফতের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আইয়ুব সবরী পাশা তেনার বিশ্বখ্যাত  ‘তারীখে মিরআতুল হারামাইন’ (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯৯১) গ্রন্থে অকাট্য প্রামাণিক সূত্র দিয়ে খোদাই করে গেছেন যে- এই নজদী লশকর তায়েফ ও মক্কার পবিত্র তোরণে আওলাদে রাসূল (নবীজির পবিত্র বংশধর) এবং সুন্নি ওলামায়ে হক্কানীদের ওপর নির্বিচারে চড়াও হয়েছিল। তারা মক্কার প্রখ্যাত আলেম ও সৈয়দ সন্তানদের ঘর থেকে টেনে বের করে তরবারি দিয়ে শহীদ করেছিল এবং তেনাদের নিষ্পাপ নারী ও শিশুদের ওপরও চরম বর্বরতা চালিয়েছিল।
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে অন্ধ হওয়া সালাফী-ওহাবী প্রচারকেরা আজ ইন্টারনেটের তোরণ ব্যবহার করে তাদের পূর্বপুরুষদের এই প্রামাণিক ও রক্তাক্ত ইতিহাসকে চাক্ষুষ আড়াল করতে চায়। অথচ নির্ভরযোগ্য কিতাবী ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, ১৯২৬ সালের ২১শে এপ্রিল (৮ই শাওয়াল) এই ওহাবীরাই পবিত্র জান্নাতুল বাকীর বুকে আহলে বাইতের মহান ইমামগণ ও খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমার রওজা মোবারকের রাজকীয় সুদৃশ্য গম্বুজগুলো হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে মাটির সাথে মিশে চূর্ণ করে দিয়েছিল। সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় হলো, তারা স্বয়ং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূরানী রওজা মোবারকের সবুজ গম্বুজকেও ভেঙে ফেলার কুৎসিত চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু মহান আল্লাহর বাতেনি কুদরতের সামনে তেনাদের সেই জঘন্য চক্রান্ত নস্যাৎ হয়ে যায়। বর্তমান জমানার ছদ্মবেশী ‘সালাফী’ ও ‘আহলে হাদীস’ ফেরকাগুলো হলো সেই একই নজদী ওহাবী ফেতনার ডিজিটাল সংস্করণ, যারা আজ তরবারির বদলে ইন্টারনেটের বোতাম চেপে মুসলমানদের আকিদা লুণ্ঠন করছে।

শাহ ইসমাইল দেহলভী ও তাকভিয়াতুল ঈমান: ভারতীয় উপমহাদেশে ওহাবী বিষবৃক্ষের আদি তোরণ

আরবের ইবনে তাইমিয়াহ এবং নজদী ওহাবীদের সেই কুৎসিত আকিদাকে এই ভারতীয় উপমহাদেশে (বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান) আমদানি করার প্রধান খলনায়ক হলো শাহ ইসমাইল দেহলভী। সে তার বিতর্কিত গ্রন্থ ‘তাকভিয়াতুল ঈমান’-এ আরবের নজদী ওহাবী মতাদর্শকে হুবহু উর্দূতে রূপান্তর করে এদেশের সরলমনা মুসলমানদের ঈমান হরণের এক জঘন্য চক্রান্তের তোরণ উন্মোচন করে।
ভ্রান্ত আকিদার অকাট্য কিতাবী প্রমাণ: ইসমাইল দেহলভী তার ‘তাকভিয়াতুল ঈমান’ কিতাবের প্রথম অধ্যায়ে অত্যন্ত বেয়াদবিপূর্ণ ভাষায় উল্লেখ করেছে যে-মহান আল্লাহর সামনে তামাম সৃষ্টি, এমনকি স্বয়ং রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও নাকি একজন মুচির চেয়েও বেশি অপদার্থ ও তুচ্ছ (নাউযুবিল্লাহ)! শুধু তাই নয়, সে ওলী-আল্লাহদের উসিলা নেওয়াকে তো বটেই, স্বয়ং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র শাফাআত বা সুপারিশ চাওয়াকেও প্রকাশ্য ও অকাট্য শিরক বলে ফতোয়া দেয়। এই কুখ্যাত কিতাবটিই হলো বর্তমান উপমহাদেশের তামাম দেওবন্দী, সালাফী ও আহলে হাদীস ফেরকাদের ভ্রান্ত আকিদা ও ধর্মীয় চরমপন্থার মূল বিষাক্ত প্রবেশদ্বার।
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত বর্তমানের ছদ্মবেশী ওহাবী প্রচারকেরা এই কিতাবকে ইসলামের বুনিয়াদ মনে করলেও, তাদের নিজের জমানার শ্রেষ্ঠ আশেকে রাসূল ও ওলামায়ে হক্কানীরা তাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। জগতখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা ফযলে হক খায়রাবাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার অকাট্য কিতাব ‘তাহকীকুল ফাতওয়া’-এ শরীয়তের কিতাবী সূত্র দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে- ইসমাইল দেহলভীর এই আকিদা একশত ভাগ ইসলাম-পরিপন্থী, কুফরী এবং ওহাবী ফেতনার এক সুগভীর চাতুরতা।

আধুনিক নব্য সালাফী গুরুদের অজ্ঞতার মুখোশ (নাসিরুদ্দীন আলবানী ফেতনা)

জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত বর্তমান যুগের সালাফী ফেরকারা যাদের হাদীসের সবচেয়ে বড় পণ্ডিত মনে করে, তেনাদের অন্যতম প্রধান আদি গুরু হলো নাসিরুদ্দীন আলবানী। অথচ কিতাবী ইতিহাস চাক্ষুষ সাক্ষ্য দেয় যে- এই আলবানী কোনো স্বীকৃত বা প্রথাগত মাদ্রাসার সনদপ্রাপ্ত আলেম ছিল না; সে ছিল সিরিয়ার একজন সাধারণ ঘড়ি মেকানিক।
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: আলবানীর এই জঘন্য ধৃষ্টতার কারণে তার নিজের জমানার বিশ্বখ্যাত ও সর্বজনীন সুন্নি মুহাদ্দিসগণ তাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। জগতখ্যাত মুহাদ্দিস হাফেজ শায়খ আবদুল্লাহ আল-হারারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার অকাট্য কিতাব ‘তাওজীহুল বয়ান’-এ এবং মক্কার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও প্রামাণিক আওলাদে রাসূল শায়খ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আলাভী আল-মালিকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার বিখ্যাত কালজয়ী ‘মাফাহিম’ কিতাবের মাধ্যমে অকাট্য দলিল দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে- নাসিরুদ্দীন আলবানী হলেন হাদীস শাস্ত্রের মূল বুনিয়াদ বিকৃতকারী একশত ভাগ ভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্ট ব্যক্তি।

আউলিয়ায়ে কেরামের পর্দা-পরবর্তী বাতেনি হায়াত: পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিল।

জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত সালাফী-ওহাবী ফেরকার আরেকটি বড় আকিদাগত দেউলিয়া ও চরম অবক্ষয় হলো, তারা মনে করে ওলী-আল্লাহগণ পর্দা করার পর (নাউযুবিল্লাহ) মাটির সাথে মিশে যান এবং তেনাদের আর কোনো ক্ষমতা বা বাতেনি ঐশ্বরিক শক্তি অবশিষ্ট থাকেনা। তাদের এই ভ্রান্ত ধারণার কারণে ওহীর রূহানী হাকিকত, বাতেনি আলো ও গভীর আধ্যাত্মিক সত্য উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ ও অন্ধ। তারা ওলী-আল্লাহর অন্তরে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূরের জৌলূস উপলব্ধি না করে কেবল বাহ্যিক রূপ দেখে শিরকের ফতোয়া দেয়। অথচ এই দৃষ্টিভঙ্গি ওহীর নূরানী শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দর্শনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
অথচ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অকাট্য ও চিরন্তন আকিদা হলো- মহান আল্লাহর ওলীগণ পর্দা করার পরেও মাজার শরীফে সশরীরে জ্যান্ত থাকেন এবং দুনিয়ার চেয়েও কোটি গুণ বেশি শক্তিশালী বাতেনি হায়াত ও কুদরতি তাসাররুফ (কর্তৃত্ব) লাভ করেন। ওলী-আল্লাহগণের এই অমর হায়াতে জ্যান্ত থাকার প্রকাশ্য সত্যের সামনে বাতিলদের তামাম মনগড়া যুক্তি এক সেকেন্ডের জন্যও টিকতে পারে না; তেনাদের তামাম কুযুক্তি ও ফতোয়া এক পলকেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোয় মিশে যায়।

পবিত্র কুরআনের অকাট্য ঘোষণা: সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৫৪ (ওলীগণের জ্যান্ত হায়াতের চিরন্তন দলিল)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনের মহিমান্বিত পাতায় ওলী-আল্লাহগণের পর্দা-পরবর্তী বাতেনি হায়াত ও অমরত্ব চাক্ষুষ সাব্যস্ত করে ইরশাদ করেন: “আর যারা আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছেন (কিংবা নিজের নফস বা আমিত্বকে আল্লাহর প্রেমে কুরবান করে ওলী হয়েছেন), তেনাদের তোমরা ভুলেও মৃত বোলো না; বরং তেনারা চির জ্যান্ত ও পরম নূরানী হায়াতে আসীন, কিন্তু তোমরা তেনাদের সেই বাতেনি হায়াতের হাকিকত চাক্ষুষ অনুভব করতে পারো না।”
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত সালাফী-ওহাবী ফেরকারা মনে করে, এই আয়াত কেবল তরবারি দিয়ে যারা কাফেরদের বিরুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তেনাদের জন্য]। তাদের এই স্থূল বুদ্ধি তাসাউফ ও ওহীর আসল হাকিকত বিন্দুমাত্র বোঝে না। হাদীস শরীফে খোদ নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমান- নিজের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করাই হলো সবচেয়ে বড় জিহাদ (জিহাদে আকবর)। ওলী-আল্লাহগণ নিজের নফসকে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করে ওলী হয়েছেন।
সুতরাং, তরবারির শহীদেরা যদি সশরীরে জ্যান্ত থাকেন, তবে ওলী-আল্লাহগণ যে মাজার শরীফে সশরীরে চির জ্যান্ত আসীন থাকবেন, তা একশত ভাগ ধ্রুব সত্য! ওহীর এই জাজ্বল্যমান ঘোষণার সামনে বাতিলদের তামাম মনগড়া যুক্তি এক সেকেন্ডের জন্যও চাক্ষুষ টিকতে পারে না; তেনাদের তামাম কুযুক্তি ও ফতোয়া এক পলকেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোয় মিশে যায়।

হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহির: আউলিয়াদের বাতেনি ফয়েজ ও পর্দা-পরবর্তী হায়াতের চিরন্তন ফয়সালা

জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত সালাফী-ওহাবী ফেরকারা মনে করে, ওলী-আল্লাহগণ পর্দা করার পর (নাউযুবিল্লাহ) ক্ষমতাশূন্য হয়ে যান। তেনাদের এই চরম অজ্ঞতা চূর্ণ করে হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার অমর ও কালজয়ী কিতাব “ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন” এ এবং জগতখ্যাত তামাম ওলী আল্লাহ, সাধক ও আরিফ বিল্লাহগণ একশত ভাগ সর্বসম্মতভাবে (ইজমা) এই অকাট্য ফয়সালা খোদাই করে গেছেন:
“দুনিয়াতে জহিরী জীবনে যাঁর কাছ থেকে রূহার্নী সাহায্য বা বাতেনি ফয়েজ হাসিল করা যেত, তেনার পর্দা করার পরেও হুবহু একই নিয়মে তেনার মাজার শরীফ থেকে বাতেনি সাহায্য ও ফয়েজ হাসিল করা একশত ভাগ সম্ভব।”
তাত্ত্বিক খণ্ডন ও গভীর বিশ্লেষণ: কামেল ওলী-আল্লাহগণ যখন পর্দা করার মাধ্যমে এই জহিরী দেহের খাঁচা থেকে মুক্ত হয়ে যান, তখন তেনাদের পবিত্র রূহ মোবারক আরশের নূরানী আলোয় আরও বেশি শক্তিশালী ও দেদীপ্যমান হয়ে ওঠে। তখন স্থান-কালের সীমাবদ্ধতা চিরতরে ধুয়ে সাফ হয়ে যায় এবং তেনাদের বাতেনি রূহ মোবারক মহাবিশ্বের তামাম সীমানা এক সেকেন্ডে পার করার ঐশ্বরিক ক্ষমতা লাভ করে।
তাই ওলী-আল্লাহগণের পবিত্র মাজার শরীফে গিয়ে তেনাদের রূহার্নী উসিলা নিয়ে দুআ করলে, মহান আল্লাহ তেনাদের পরম সম্মানে বান্দার তামাম মনের নেক আশা ও আকুল ফরিয়াদ এক পলকে কবুল করে নেন। ওহীর এই জাজ্বল্যমান সত্যের সামনে বাতিলদের তামাম মনগড়া যুক্তি এক সেকেন্ডের জন্যও চাক্ষুষ টিকতে পারে না; বাতিলদের তামাম কুযুক্তি ও ফতোয়া এক পলকেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোয় মিশে যায়।

বাতেলদের বিভ্রান্তিকর প্রোপাগাণ্ডা ও ইন্টারনেটের নব্য আগ্রাসন খণ্ডন: বাতিল আকিদার মুখোশ উন্মোচন

জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত বর্তমান যুগের ফেসবুক, ইউটিউব ও সালাফী ব্লগগুলোর সবচেয়ে বড় চক্রান্ত হলো, তারা ওলী-আল্লাহদের পবিত্র মাজার শরীফ জিয়ারত করা এবং তেনাদের মহব্বত ধারণ করাকে ‘কবর পূজা’ বা মাজার পূজা বলে কুৎসিত অপপ্রচার চালায়। তারা সাধারণ মুসলমানদের মগজ ধোলাই করতে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের কিছু খণ্ডিত অংশের চরম অপব্যাখ্যা করে উম্মতের সরল ঈমান হরণের জঘন্য উৎসবে মেতে উঠেছে।
অকাট্য ইলমী মীমাংসা ও কিতাবী হাকিকত উন্মোচন: আহলে সুন্নতের আকিদা সুরক্ষার অমর লৌহ-দুর্গ এবং জগতখ্যাত মুফাসসির ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার অমর ‘তাফসীরে কাবীর’ -এ বাতেলদের তামাম কুযুক্তি ধুলোয় মিশিয়ে স্পষ্ট সাব্যস্ত করেছেন যে- তামাম পৃথিবীর কোনো সুন্নি মুসলমান ওলী-আল্লাহকে ‘ইলাহ’ বা মাবুদ মনে করে পূজা করে না। ওলী হলেন আল্লাহর পরম প্রিয় বন্ধু। তেনাদের প্রতি আদব ও সম্মান প্রদর্শন করা মূলত স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলারই মহব্বতের এক একটি খাস তোরণ।
যারা ওলী-আল্লাহদের এই তাজীমি সম্মান, মহব্বত বা উসিলাকে শিরক বলে ফতোয়া দেয়, তাদের এই নজদী ওহাবী আকিদা মূলত অভিশপ্ত ইবলীস বা শয়তানের আকিদার হুবহু জ্যান্ত সংস্করণ। ইবলীসও হযরত আদম আলাইহিস সালামের ভেতরে থাকা আল্লাহর দেওয়া বিশেষ ঐশ্বরিক নূরের আভিজাত্য উপলব্ধি করতে না পেরে-কেবল বাহ্যিক মাটির দেহ দেখে অহংকার করেছিল এবং সম্মান জানাতে (সেজদা করতে) অস্বীকার করে চিরতরে কাফের ও বিতাড়িত হয়েছিল।
বর্তমান অনলাইন জমানার ওহাবী-সালাফী মোল্লারাও ওলীগণের অন্তরে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূর অনুধাবন করতে একশত ভাগ ব্যর্থ হয়ে, কেবল মাজারের বাহ্যিক রূপ দেখে শিরকের মনগড়া ফতোয়া ছুড়ে মারছে। তাদের এই চরম অজ্ঞতা, অন্ধত্ব ও অহংকারের কুৎসিত মুখোশ আজ শরীয়ত ও মারফতের অকাট্য কিতাবী বুনিয়াদের সামনে এক সেকেন্ডের জন্যও চাক্ষুষ টিকতে পারে না।

শেষ কথা: ওলী-আল্লাহদের দেখানো ভালোবাসার পথই চিরকাল শান্তির একমাত্র রাস্তা এবং এটিই সুফি আশেকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

জমানার ধর্মীয় অবক্ষয় ও নব্য ফেতনার আগ্রাসনে লিপ্ত তামাম বাতেল ফেরকার কুৎসিত প্রোপাগাণ্ডা ও চক্রান্তের মুখে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের এই খাঁটি ও পবিত্র সুফি আকিদাই হলো মুসলিম উম্মাহর সরল ঈমান রক্ষার একমাত্র অভেদ্য সুরক্ষাকবচ। মহান আল্লাহর কামেল ওলী-আল্লাহগণের কলব হলো আল্লাহর খাস নূরের আসল আসমানী মহাফেজখানা।
তাই এই শেষ জমানার তামাম ফেতনা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা সর্বদা আমাদের জবান এবং কলবকে পবিত্র আহলে বাইত ও আউলিয়াগণের পরম নূরানী ভালোবাসায় সর্বদা সচল রাখব। কারণ তেনাদের এই পবিত্র ভালোবাসার মাঝেই উম্মতে মুহাম্মদীর ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন প্রকৃত নাজাত ও পরম মুক্তি নিহিত রয়েছে। বাতেলদের তামাম মিথ্যা এবং ওহাবী-সালাফী বাতিল আকিদার জাল চক্রান্ত মহান আল্লাহর খাস রহমতে এবং ওলী-আল্লাহগণের পবিত্র অসিলায় চিরতরে ধূলিসাৎ হলো! সত্যের বিজয় এখন তামাম সৃষ্টিজগতে দিবালোকের মতো পরিষ্কার এবং চিরতরে প্রতিষ্ঠিত।

👉 এখানে চাপ দিয়ে ফ্রিতে Monetag অ্যাকাউন্ট খুলুন

© ২০২৬ golammorshedjalali.com • সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

💰 বিজ্ঞাপন ও মনিটাইজেশন: Monetag | 🌐 হোস্টিং: Putul Host

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment