দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আজকের আলোচনার বিষয়: “ঝগড়া কেন থামাব?” কারণ আমাদের জীবনের পথচলায় রাগ, অভিমান বা মতবিরোধ প্রায়শই আসে। কিন্তু যদি তা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করি, তখনই তা রূপ নেয় ঝগড়ায়- শুরু হয় সম্পর্কের ভাঙন।
আসুন, বোঝার চেষ্টা করি- কেন ঝগড়া থামানো প্রয়োজন, এবং কীভাবে তা আমাদের জীবনে শান্তি, ভালোবাসা ও আত্মিক উন্নতির দ্বার খুলে দিতে পারে।
আত্মনিয়ন্ত্রণই মুমিনের সৌন্দর্য
যে ব্যক্তি অন্তরে শান্তি কামনা করে এবং আল্লাহর ভয় হৃদয়ে ধারণ করে, সে কখনোই ঝগড়াকে বড় হতে দেয় না। বরং সে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে, রাগের মুহূর্তে নিজেকে সংযত রাখে এবং অন্যকে ক্ষমা করার মানসিকতা পোষণ করে। তাই তো, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
“সত্যিকারের বীর সে নয়, যে কুস্তিতে অপরকে পরাজিত করে; বরং সে-ই প্রকৃত বীর, যে রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখতে পারে।”
হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বলেছেন: “ঝগড়া চরমে পৌঁছার আগেই থেমে যাও।”
এই মহান বাণীগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সম্পর্ক রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ।
ঝগড়ায় শয়তানের আনন্দ, সংযমে আল্লাহর রহমত
ঝগড়ার সূচনা হলে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয় শয়তান। কারণ তার মূল লক্ষ্যই হলো মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা, সম্পর্ক ভাঙা, আর হৃদয়ে ঘৃণার বিষ ঢেলে দেওয়া।
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
- “শয়তান স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া লাগিয়ে দেয়, যাতে তারা আলাদা হয়ে যায়।”
- “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হলো সে, যে সবচেয়ে বেশি ঝগড়া করে।”
অতএব, ঝগড়াকে সুযোগ দেওয়া মানে শয়তানের খেলায় তাকে জিততে দেওয়া।
পরিশেষে
রাগ দমন ও ক্ষমা- এই দুটি গুণ নিজেকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ তৈরি করে।
যে ব্যক্তি ঝগড়ায় জিতে যায়, সে হয়তো বাহ্যিকভাবে জয়ী, কিন্তু অন্তরে পরাজিত। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি ক্ষমা করে, সে হয়তো বাহ্যিকভাবে হেরে যায়, কিন্তু আল্লাহর দরবারে সে বিজয়ী।
আসুন- ঝগড়ার আগুন নয়, শান্তির বাগানে হাঁটার শপথ করি।
রাগ নয়, সংযম।
বিরোধ নয়, ভালোবাসা।
ক্ষোভ নয়, ক্ষমা দিয়ে জীবন সাজাই।










