দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
নূর নবীজির শুভ আগমন হলো তামাম সৃষ্টিজগতের জন্য এক পরম সৌভাগ্য, কারণ তিনি হলেন স্বয়ং রাহমাতাল্লিল আলামিন-সমগ্র কুল-মাখলুকাতের জন্য দয়া ও হেদায়েতের অসীম ঐশী উৎস। তেনার পবিত্র শুভ আগমনের আলোয় তামাম কায়েনাত ও অন্ধকার দুনিয়া আলোকিত হয়েছে এবং আল্লাহর সৃষ্টি তেনার মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। রাহমাতাল্লিল আলামিনের এই পবিত্র শুভ আগমন আমাদের হৃদয়ে সত্য, শান্তি ও রহমতের দীপ্তি জাগায়, যা অনুসরণ করলে জীবন হয়ে ওঠে সুন্দর, পূর্ণাঙ্গ ও অর্থবহ।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র শুভ আগামনের প্রভাব, আল্লাহর সৃষ্টির মহিমা ও পবিত্র স্থানসমূহের বিশেষ মাহাত্ম্য নিয়ে অত্যন্ত গভীর ও বিস্তৃত আধ্যাত্মিক আলোচনা করেছেন। আসুন, আমরা সবাই অন্তরের কান খুলে সেই রূহার্নী আলোচনার দিকে মনোযোগ দিই এবং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেমে মগ্ন হয়ে একটি আলোকিত জীবন গড়ে তুলি।
রাত ও দিনের আলোচনা
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
রাত বলে,
“আল্লাহ, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ আগমন যেন আমার রাতে হয়।”
দিন বলে,
“আল্লাহ, মানুষ রাতকে ভয় করে। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ আগমন যেন আমার দিনে হয়।”
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিনে পদার্পণ করেননি, রাতেও আসেননি। তেনার শুভ আগমন ঘটেছে সুবহে সাদিকের সময়ে।
আসমান ও জমিনের আলোচনা
দিনে একটি ডাক দিয়ে কয়,
“রাত, তুই হতভাগা হলি?”
রাত বলে,
“কিভাবে?”
দিন বলে,
“নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শুভ আগমন হয়েছে দিনের আলোতে।”
রাত বলে,
“ফখর করো না। যারা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে, তাদের জিজ্ঞাসা করো। আমার পশ্চিম দিকের আধারকে সরাতে পারনি।”
রাতও খুশি, দিনও খুশি।
আসমান ডাক দিয়ে বলে,
“জমিন, তুমিতো হতভাগা হলে!”
জমিন বলে,
“কিভাবে?”
আসমান বলে,
“দেখো না, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ আগমন উপলক্ষে আমার আসমানে আল্লাহ কোটি কোটি তারকা, চন্দ্র, সূর্য দিয়ে সাজিয়েছেন।”
জমিন বলে,
“ফখর করো না, আমার জমিনে আল্লাহ গাছপালা, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত, সাগর, উপসাগর, মহাসাগর রেখে সাজিয়েছেন।”
আসমান ডাক দিয়ে বলে,
“জমিন, তুমিতো হতভাগা হলে!”
জমিন বলে,
“কিভাবে?”
আসমান বলে,
“দেখো না, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ আগমন উপলক্ষে আসমানে আল্লাহ কোটি কোটি ফেরেশতা দ্বয় রাখছেন।”
জমিন বলে,
“ফখর করো না, আমার জমিনে আল্লাহ আম্বিয়া-একরাম, আউলিয়া-একরাম, ওলামায়ে হক্কানি রেখেছেন।”
আসমান ডাক দিয়ে বলে,
“জমিন, তুমিতো হতভাগা হলে!”
জমিন বলে,
“কিভাবে?”
আসমান বলে,
“দেখো না, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ আগমন উপলক্ষে আসমানে আল্লাহ বাইতুল মামুর রাখছেন।”
জমিন বলে,
“ফখর করো না, আমার জমিনে আল্লাহ খানা কাবা রেখেছেন।”
আসমান ডাক দিয়ে বলে,
“জমিন, তুমিতো হতভাগা হলে!”
জমিন বলে,
“কিভাবে?”
আসমান বলে,
“দেখো না, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ আগমন উপলক্ষে আসমানে আল্লাহ আরশে আজিম রাখছেন।”
জমিন বলে,
“ফখর করো না, আমার জমিনে আল্লাহ মদিনার রওজা রেখেছেন।”
উপসংহার
পরিশেষে আল্লাহর সৃষ্টির তামাম মহিমা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র নূরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। দয়াল বাবা জালালী মাওলার এই আধ্যাত্মিক বর্ণনা আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, নূর নবীজির দেখানো পথে চলেই আমরা ইহকাল ও পরকালে চিরন্তন মুক্তি ও পরম শান্তিময় জীবনের সন্ধান পেতে পারি। আমীন।










