দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
গাউছে পাকের কারামত ও তেনার পবিত্র গুণকীর্তি যুগে যুগে ভক্তদের হৃদয়ে নূরের আলো ছড়ায়। ওলী-আউলিয়াদের সুলতান বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির মাজার শরীফ থেকে হাত বাড়িয়ে এক ব্যবসায়ীকে মুরিদ করার পরম অলৌকিক ঘটনাটি দয়াল বাবা জালালী মাওলা অত্যন্ত রূহার্নী বর্ণনায় তুলে ধরেছেন, যা প্রমাণ করে যে, ওলীগণের কখনো মৃত্যু হয় না- তেনারা মাজার শরীফে জ্যান্ত ও জীবিত।
দয়াল বাবা জালালী মাওলার সেই হৃদয়স্পর্শী বর্ণনায় আসুন, আমরা সবাই অন্তরের কান খুলে সেই অলৌকিক ঘটনার গভীর রহস্য ও হাকিকত জানি। ওলী আল্লাহর প্রতি নিখুঁত আদব বজায় রেখে নিজেদের হৃদয়কে গাউছে পাকের ঐশী প্রেম ও রূহার্নী আলোয় চিরতরে সুশীতল ও জিন্দা করি।
গাউছে পাকের অলৌকিক কারামত
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
আজত নামের এক ব্যক্তি, যিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির দরবারে এসে মুরিদ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তখন গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁকে বলেন,
“তুমি ব্যবসার কাজে যাও, কাজ শেষ করে ফিরে এলে আমি তোমাকে মুরিদ করবো।”
আজত ব্যবসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গন্তব্যে পৌঁছাতে তাঁর তিন মাস সময় লাগে, সেখানে আরও তিন মাস অবস্থান করেন এবং ফেরার পথে আবার তিন মাস সময় ব্যয় হয়। নয় মাস পর ফিরে এসে তিনি জানতে পারেন যে, গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইন্তেকাল করেছেন।
এই সংবাদ শুনে তিনি ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলেন,
“আমাকে ব্যবসার অজুহাতে ফাঁকি দিয়ে আপনি চলে গেলেন?”
এই বলে তিনি একটি লাঠি নিয়ে গাউছে পাকের মাজার শরীফের দিকে এগিয়ে যান।
ঠিক তখনই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা-
গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি মাজার শরীফ হতে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন-
“মারো না, মারো না! আমি এসেছি তোমাকে বায়‘আতে রাসুল গ্রহণ করানোর জন্য। আমার হাত ধরো।”
এই বিস্ময়কর দৃশ্য দেখে আজত স্তম্ভিত হয়ে যান। গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তিনি গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির হাত মোবারক ধরেন এবং বায়‘আতে রাসুল গ্রহণ করে তেনার মুরিদ হয়ে যান।
উপসংহার
পরিশেষে গাউছে পাকের কারামত প্রমাণ করে, আল্লাহর প্রিয় ওলী-আউলিয়াগণ জীবন্ত, এবং তেনারা যেকোন অবস্থায় মানুষকে সাহায্য করতে সক্ষম। গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির কারামত আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করে, ভক্তি ও প্রেমের দীপ্তি জাগিয়ে দেয়। তেনার অনন্ত নূর ও আধ্যাত্মিক শক্তি যুগে যুগে মানুষকে আলোকিত করে, পথ প্রদর্শন করে এবং সত্যের দিকে আকৃষ্ট করে।










