দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
স্বপ্নে নূর নবীজি ﷺ বসালেন মগজ- এই বিস্ময়কর ও অলৌকিক সুস্থতার ঘটনাটি তাসাউউফ এবং ওলী-আউলিয়াগণের ইতিহাসের এক পরম ঈমান উদ্দীপক নিদর্শন। চিকিৎসা বিজ্ঞান বা সাধারণ জাগতিক বুদ্ধিতে মাথার মগজ বের হয়ে যাওয়ার পর কোনো বড় অপারেশন ছাড়া অলৌকিকভাবে সুস্থ হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। কিন্তু মহান আল্লাহ তেনার প্রিয় হাবীব নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যে অসীম কুদরত ও জিন্দা রূহানী শক্তি দান করেছেন, তেনার উসিলায় প্রকৃতির চেনা নিয়ম মুহূর্তেই ওলট-পালট হয়ে যায়। আজ আমরা জানবো কুমিল্লার চান্দিনার সেই ঐতিহাসিক ঘটনা এবং স্বপ্নে নূর নবীজি ﷺ বসালেন মগজ তেনার সেই পবিত্র হাত মোবারকের স্পর্শে দয়াল বাবা জালালী মাওলা কীভাবে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছিলেন।
চান্দিনার মাহফিল ও ওহাবীদের বর্বরোচিত হামলা
দয়াল বাবা জালালী মাওলার এক ঐতিহাসিক মাহফিল ছিল কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়নের রানীছড়া গ্রামে। মাহফিলে দয়াল বাবা জালালী মাওলা একটানা প্রায় ৩ ঘণ্টা অত্যন্ত তেজস্বী ও আধ্যাত্মিক বয়ান করেন, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল-“নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির মানুষ নন, তিনি হলেন নূরের নবী।”
পৌষ মাসের সেই শীতের রাতের নৃশংসতা
মাহফিল শেষে ফেরার পথে দয়াল বাবা জালালী মাওলার ওপর ওহাবীরা অতর্কিত হামলা চালায় এবং মাথায় ধারালো লোহার শাবলের আঘাতে তেনার মাথার মগজ বের হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা তেনার মৃত্যু অবধারিত জানালেও, ভক্তরা পরম মহব্বতে তেনাকে কাদুটি গ্রামে নিয়ে যান, যেখানে তিনি দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা সম্পূর্ণ সংজ্ঞাহীন ও বেহুশ অবস্থায় ছিলেন।
১৭ ঘণ্টার বেহুশ হাল ও রূহানী জগত থেকে সান্ত্বনা
এই দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টার বেহুশ হালে দয়াল বাবা জালালী মাওলা রূহানী জগতে প্রিয় নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দর্শন লাভ করেন।
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্পর্শ
তখনই রূহানী জগতের সেই অলৌকিক দৃশ্য প্রকাশ পায়। স্বপ্নযোগে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত মোবারক দিয়ে দয়াল বাবা জালালী মাওলার বের হয়ে যাওয়া মগজটি পুনরায় মাথার ভেতরে স্থাপন করে দেন এবং পরম মমতায় সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “জালালী, তোমার কোনো ভয় নেই। আমি স্বয়ং তোমার সঙ্গে আছি।” নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই মহান মুজিযার পর দয়াল বাবা জালালী মাওলা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং মাথার সেই মারাত্মক ক্ষত অলৌকিকভাবে চিরতরে মিলিয়ে যায়।
নবীপ্রেমের হাকিকত ও অন্তরের পবিত্রতা
তাসাউউফ বা সুফি সাধকগণের মতে, স্বপ্নে নূর নবীজি ﷺ বসালেন মগজ এর এই ঘটনাটি কেবল একটি শারীরিক আরোগ্য নয়, বরং এটি মূলত নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জিন্দা রূহানী শক্তির এক অকাট্য প্রমাণ। মুর্শিদের কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আল্লাহর বন্ধু হওয়ার এই অলৌকিক খেলা মূলত ওলীর প্রতি নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অসীম করুণা ও নিখাদ ভালোবাসারই এক পরম নিদর্শন, যা আমাদের নফস পবিত্র করতে (তাজকিয়াতুন নাফস), তাসফিয়াতুল কলব করতে এবং নবীপ্রেমের পথ দেখায়।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, স্বপ্নে নূর নবীজি ﷺ বসালেন মগজ-এই অলৌকিক ঘটনাটি নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অসীম কুদরত এবং তেনার প্রতি দয়াল বাবা জালালী মাওলার নিখাদ প্রেমের এক অনন্য দলিল। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে ওলী-আউলিয়াগণের এই পরম কারামত থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের নাফসকে পবিত্র করার এবং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি সত্যিকারের আদব ও মহব্বত রাখার তৌফিক দান করুন। আমীন।
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই অলৌকিক মগজ স্থাপনের জিন্দা মুজিযা নিয়ে আপনার মনে কি কোনো বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে? কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন।










