---Advertisement---

আতর বিক্রেতা ও তোতা পাখি- মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর শিক্ষামূলক গল্প।

November 3, 2025 3:38 PM
আতর বিক্রেতা ও তোতা পাখি- মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর শিক্ষামূলক গল্প।
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন- কোনো বুজুর্গ, দরবেশ বা অলি-আউলিয়াগণ-কে কখনো শুধুমাত্র বাহ্যিক অবস্থা দেখে সাধারণ মানুষ ভেবে নেওয়া উচিত নয়। তাই তিনি “আতর বিক্রেতা ও তোতা পাখির” গল্পের মাধ্যমে আমাদের শিখিয়েছেন- দরবেশ বা অলি-আউলিয়াগণ বাইরে থেকে আমাদের মতো মনে হলেও, তেনাদের অন্তরজগৎ থাকে গভীর আধ্যাত্মিক আলোয় আলোকিত

আসুন জেনে নিই সেই শিক্ষণীয় গল্পটি, যেখানে মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি সতর্ক করে বলেন- “তোমরা বুজুর্গ ব্যক্তিকে নিজের মতো করে অনুমান করো না।” কারণ, তোমরা বুজুর্গদের মাহাত্ম্য ও আধ্যাত্মিকতা অনুধাবন করা থেকে এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছ”।

আতর বিক্রেতা ও তোতা পাখির গল্প

এক আতর বিক্রেতার একটি তোতা পাখি ছিল। পাখিটি সুমধুর সুরে আওয়াজ দিতে পারত। আতর বিক্রেতা তোতাকে দোকান দেখাশোনার জন্য রাখত। তোতাটি মানুষের মতো করে খরিদ্দারদের সঙ্গে কথা বলত। কথা বলার দিক থেকে পাখিটি যেন একেবারেই মানুষের মতো ছিল। সে ছিল সচেতন, চতুর এবং সুমধুর গলায় গান গাইত

একদিন মালিক তোতাকে দোকান দেখাশোনার জন্য রেখে বাড়ি চলে গেল। হঠাৎ একটি বিড়াল একটি ইঁদুর শিকার করতে গিয়ে লাফ দিয়ে দোকানের ভিতরে ঢুকে পড়ে। তখন তোতা দোকানের মাঝখানে গদিতে বসে ছিল। বিড়ালের ভয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য তোতা লাফ দিয়ে এক পাশে গিয়ে বসে পড়ে। সেই পাশেই আতরের শিশিগুলো রাখা ছিল। তোতার পাখা ও পায়ে লেগে সমস্ত শিশিগুলো পড়ে গিয়ে ভেঙে যায়।

বাড়ি থেকে মালিক ফিরে এসে নিশ্চিন্তে দোকানে বসে পড়ে। কিন্তু তখন দেখে, পুরো দোকানজুড়ে এবং বিছানো সমস্ত ফরাশ কাপড় আতরে ভিজে সিক্ত হয়ে গেছে। নমুনা দেখে সে বুঝে ফেলে- এই সব কাণ্ড তোতার কারণেই ঘটেছে। রাগে অন্ধ হয়ে সে তোতাকে এত মারে যে তোতার পালক সব উড়ে যায়। অবশেষে তোতার মাথায় টাক পড়ে যায়

এরপর কয়েকদিন তোতা রাগ করে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। এতে আতর বিক্রেতা ভীষণ লজ্জিত ও দুঃখিত হয়ে পড়ে। সে নিজের দাড়ি ও চুল আঙুল দিয়ে মোচড়াতে মোচড়াতে আফসোস করতে থাকে-

“আহা! আমার দোকানের রৌনক চলে যাচ্ছে! যেমন বর্ষার দিনে সূর্যের আলো ঢেকে যায়, তেমনই আমার দোকানের উজ্জ্বলতা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আমি যখন ওকে মারছিলাম, তখন কেন আমার হাত ভেঙে গেল না!”

তোতা যেন আবার কথা বলে- এই আশায় আতর বিক্রেতা গরিব-মিসকিনদের দান-খয়রাত করতে শুরু করে। এভাবে তিন দিন তিন রাত কেটে যায়। বিক্রেতা দুঃখে ও হতাশায় দোকানে বসে থাকে আর ভাবে- দেখি তোতা কবে কথা বলে

সে তোতাকে নানা আশ্চর্য বস্তু দেখায়, রঙ-বেরঙের জিনিস সামনে ধরে, অবাক হয়ে দাঁতে আঙুল কাটে, এবং তোতার সঙ্গে গল্প করে- যাতে তোতা কথা বলে ওঠে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।

তিন দিন পরে, আতর বিক্রেতা চুপচাপ দোকানে বসে ছিল হতাশ হয়ে। ঠিক তখনই ছেড়া কম্বল গায়ে, মাথায় টাক পড়া এক দরবেশ দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তেনার মাথা ছিল একেবারে পরিষ্কার- যেন শকুনের মাথা!

তোতা তখন হঠাৎ বলে ওঠে-

“ওহে দরবেশ! তোমার মাথায় টাক কেন? মনে হয়, তুমিও কারও আতরের শিশি ফেলে দিয়েছিলে!”

তোতার কথা শুনে দোকানে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠে। লোকজন বলে-

“দেখো, তোতা দরবেশকেও নিজের মতো মনে করেছে! ভাবছে, এই দরবেশও নিশ্চয় আতর ফেলে দিয়েছিল, তাই মার খেয়ে মাথার চুল পড়ে গেছে!”

পরিশেষে

মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন- কাউকে বাহ্যিকভাবে বিচার করো না, বিশেষ করে বুজুর্গদের, কারণ তেনাদের রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক শক্তি। তেনারা দেখতে আমাদের মতো হলেও আমল, গুণ ও আত্মিক অবস্থানে থাকে বিস্তর পার্থক্য

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment