দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
রাগ মানুষের স্বভাবের একটি বড় পরীক্ষা। সামান্য কথাতেও রাগের আগুন জ্বলে উঠে অনেক সম্পর্ক ভেঙে দেয়। কিন্তু আল্লাহর প্রিয় বান্দারা রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে এমনভাবে প্রতিক্রিয়া দেন, যা মানুষের হৃদয় বদলে দেয়। আজকের এই গল্পে আমরা দেখব, কিভাবে একজন আল্লাহর ওলি নিজের রাগকে সংযম করে শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করেছিলেন।
ধৈর্যের জয়ে হৃদয়ের পরিবর্তন
একদিন দুপুরে গ্রামের বাজার দিয়ে যাচ্ছিলেন এক আল্লাহর ওলি। সরু গলির ভিড়ে হঠাৎ এক উগ্র স্বভাবের যুবক ধাক্কা দিয়ে তির্যক কণ্ঠে বলল-
যুবক: “এই বুড়ো! রাস্তা দেখতে পাও না?”
চারপাশের মানুষ হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। এমন সম্মানিত ব্যক্তির প্রতি এভাবে কথা বলা সত্যিই বিস্ময়কর। আল্লাহর ওলি থেমে যুবকের চোখে শান্ত দৃষ্টি দিলেন।
ওলি: “বেটা, আমি কি পথ হারিয়েছি, না তুমি ধৈর্য হারিয়েছ?”
যুবক খানিকটা থমকালো, কিন্তু মুখে কঠিন ভাব রেখে বলল—
যুবক: “আপনি হয়তো পথও হারিয়েছেন, আর চোখও।”
ওলি: “চোখ হারালে দিক মেলে না, কিন্তু ধৈর্য হারালে আলোর পথও আঁধারে ঢেকে যায়।”
যুবক ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল-
যুবক: “আপনাকে ধাক্কা দিলাম, তবু কিছু বললেন না কেন? ভয় পেয়েছেন নাকি?”
ওলি (মৃদু হাসি দিয়ে): “যে ভয় শুধু আল্লাহর, সে মানুষকে ভয় পায় না; আর যে ভালোবাসা শুধু আল্লাহর জন্য, সে রাগ দিয়ে নয়- দোয়া দিয়ে জবাব দেয়।”
তারপর ধীরে কণ্ঠে বললেন-
ওলি: “আল্লাহ তোমার অন্তরে শান্তি দিন। হয়তো তুমি কষ্টে আছ, তাই এভাবে বলেছ।”
যুবক কিছু না বলে চলে গেল, কিন্তু এই কথাগুলো তার মনে যেন কাঁটার মতো বিঁধে রইল।
সেই রাতে আল্লাহর ওলির দরজায় কড়া পড়ল। দরজা খুলে দেখেন- সেই যুবক, মাথা নিচু, চোখে জল।
যুবক: “বাবা, আমি আপনাকে অপমান করেছি। আপনার সেই কথাটি- ‘আল্লাহ তোমার অন্তরে শান্তি দিন’- আমার মনে যেন আগুন জ্বেলে দিয়েছে। আমি রাগ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনার ধৈর্য আমার অহংকার ভেঙে দিয়েছে।”
ওলি: “বেটা, রাগের জবাবে রাগ দিলে দুজনেরই ক্ষতি হয়; কিন্তু রাগের জবাবে দোয়া দিলে শয়তান লজ্জা পায় আর আল্লাহ খুশি হন।”
যুবক কেঁদে বলল-
যুবক: “আপনি আমার পথপ্রদর্শক।”
সেই রাত থেকেই সে আল্লাহর ওলির নিকট মুরিদ হয়ে গেল।
পরিশেষে
রাগ নিয়ন্ত্রণ শুধু নৈতিক গুণ নয়, এটি ঈমানেরও অংশ। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “শক্তিশালী সেই ব্যক্তি নয়, যে কুস্তিতে জয়ী হয়; বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখতে পারে।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।










