দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মানুষের অন্তরে সবসময়ই একটি প্রশ্ন জাগে- আল্লাহকে আমি কোথায় পাবো? মসজিদে, কাবায়, তাসবিহে, না নিজের ভেতরে? এই প্রশ্ন নিয়েই একজন সাধারণ মানুষের আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরু হয়। আর সেই যাত্রাই অন্ধকার ভেদ করার রহস্য শিখিয়ে দেয়।
আলোর সন্ধান
এক পাহাড়ি গ্রামে বাস করত একজন যুবক। তার মন ছিল অশান্ত, সবসময় এক প্রশ্ন তাকে তাড়িত করত—
“হে আল্লাহ, তুমি কোথায়?”
এক রাতে সে স্বপ্নে দেখল, পাহাড়চূড়ায় আলো জ্বলছে। স্বপ্নের ভেতর থেকে এক কণ্ঠ ভেসে এল- “আলো খুঁজতে হলে অন্ধকারের পথে যাত্রা করো।”
ভোরে যুবক যাত্রা শুরু করল। ঝড়-বৃষ্টি, ক্ষুধা- কিছুই তাকে আটকাতে পারল না। অবশেষে পাহাড়ের শীর্ষে পৌঁছে সে দেখল, এক দরবেশ সাদা পোশাকে বসে আছেন, চারপাশে আলো।
যুবক হাঁপাতে হাঁপাতে বলল-
—বাবা, আমি আলো খুঁজতে এসেছি।
দরবেশ চোখ মেলে তাকালেন, মৃদু হেসে বললেন-
— আলো তো বাইরে কোথাও নেই, বাছা। আলো তোমার অন্তরের ভেতরেই বন্দি হয়ে আছে। কিন্তু অহংকার, ভয় আর লোভের অন্ধকার পর্দা তাকে আড়াল করে রেখেছে।
যুবক কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল—
— তবে আমি কীভাবে সেই আলো খুঁজে পাবো?
দরবেশ গভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বললেন—
— আলো খুঁজে পেতে তিনটি দরজা খোলার চাবি চাই।
প্রথম চাবি কৃতজ্ঞতা: আল্লাহর প্রতিটি ছোট নিয়ামতের জন্য শোকর আদায় করো।
দ্বিতীয় চাবি ধৈর্য: দুঃখ-কষ্টকে অভিশাপ মনে কোরো না, বরং পরীক্ষার দান হিসেবে গ্রহণ করো।
তৃতীয় চাবি সত্যবাদিতা: সত্যকে কখনো গোপন কোরো না, তা যদি তোমার ক্ষতিই করে।
তারপর দরবেশ হাত তুলে বললেন—
— যখন এই তিন চাবি তোমার হাতে থাকবে, তখন অন্তরের পর্দা সরে যাবে। আর তখন তুমি নিজের ভেতরেই আল্লাহর আলো খুঁজে পাবে।
যুবক কেঁদে ফেলল। তার মনে হলো, যেন বুকের ভেতর থেকে আলো বের হয়ে চারপাশ আলোকিত করছে। সে দরবেশের পায়ের কাছে বসে বলল—
— বাবা, আমি বুঝেছি। আসল যাত্রা নিজের অন্তরের গভীরে।
দরবেশ স্নেহভরে তার কাঁধে হাত রেখে বললেন—
— হ্যাঁ বাছা, যে নিজের ভেতরকে জয় করতে পারে, সে-ই আসল আলো-সন্ধানী।
পরিশেষে
সেদিন থেকে যুবক গ্রামে ফিরে এক নতুন জীবন শুরু করল। আর সে হয়ে উঠল সত্যবাদী, ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ একজন বান্দা। তার চারপাশের মানুষ দেখল, সেই সাধারণ যুবক যেন সবার অন্তরে শান্তির আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।










