দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়ার কারামত: হিসেবে দিল্লির বিখ্যাত বাউলি বা কুয়ার নোনা পানি মিষ্টি হওয়া এবং বাতি জ্বালানোর অলৌকিক ঘটনাটি ওলীগণের ইতিহাসের এক পরম আধ্যাত্মিক নিদর্শন। দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ৭০০ বছরের পুরোনো এই পবিত্র কুয়াটি আজও তেনার জিন্দা কারামতের সাক্ষ্য দেয়। হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন বেলায়েতের জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যাঁকে আল্লাহ তাআলা আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও কুদরত দান করেছিলেন। আজ আমরা জানবো হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়ার কারামত এর পেছনের মূল ঐতিহাসিক সত্যতা এবং নোনা পানি মিষ্টি হওয়ার সেই অলৌকিক রহস্য আসলে কী।
দিল্লির ঐতিহাসিক বাউলি ও গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের বাধা
ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা অনুযায়ী, চতুর্দশ শতাব্দীতে হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি যখন তেনার বর্তমান দরগাহ শরীফের কাছে একটি ‘বাউলি’ বা বড় কুয়া খনন শুরু করেন, ঠিক তখনই দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক তেনার নিজস্ব শহর ‘তুঘলকাবাদ’ দুর্গ নির্মাণ করছিলেন। সুলতান আদেশ দিলেন যে, দিল্লির সব শ্রমিক কেবল তেনার দুর্গের কাজ করবে এবং হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির কুয়া খননের কাজে কেউ যেতে পারবে না।
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের আশেকদের ত্যাগ
শ্রমিকরা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই মহান ওলীকে অত্যন্ত মহব্বত করতেন। তাই তাঁরা দিনের বেলা সুলতানের দুর্গে কাজ করতেন এবং রাতের বেলা গোপনে হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির কুয়া খনন করতেন। এই কথা জানতে পেরে রাগান্বিত সুলতান আদেশ দিলেন যে, ওলীর দরবারে বা কুয়া খননের জায়গায় রাতে কাজ করার জন্য কোনো তেল বিক্রি করা যাবে না, যাতে প্রদীপ জ্বালানো সম্ভব না হয়।
নোনা পানি মিষ্টি হওয়া ও বাতি জ্বলার অলৌকিক কুদরত
তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ যখন থমকে যাওয়ার উপক্রম হলো, তখন হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার উত্তরসূরি নাসিরুদ্দিন মাহমুদকে নির্দেশ দিলেন সেই কুয়ার পানি দিয়ে প্রদীপ জ্বালাতে। তেনার হুকুমে এবং আল্লাহর অশেষ কুদরতে কুয়ার সেই পানি দিয়েই প্রদীপ জ্বলে উঠল! মহাবিস্ময়ের বিষয় হলো, সেই কুয়ার পানি যা আগে নোনা ছিল, তেনারি বরকতে মুহূর্তেই সুপেয় মিষ্টি পানিতে পরিণত হলো।
তৈয়ুল আরদ ও ওলীগণের জিন্দা ক্ষমতা
প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী পানি দিয়ে আগুন জ্বালানো বা নোনা পানিকে মিষ্টি করা মানুষের সাধ্যাতীত। কিন্তু ওলীগণ যখন কঠোর সাধনার মাধ্যমে নাফসকে পবিত্র করেন, তখন আল্লাহ তাআলা তেনাদের ইশারায় এমন সব অলৌকিক ঘটনা ঘটান। এই ঐতিহাসিক কুয়াটি যা আজও দিল্লির নিজামুদ্দিন দরগাহে বিদ্যমান, কুয়ার পানি আজও অলৌকিক আরোগ্য ক্ষমতার জন্য পরিচিত। কথিত আছে, এই কুয়ার নোনা পানি মিষ্টি হওয়া ছিল দিল্লির মুসলমানদের জন্য মহান আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত।
সুফি দর্শনে তাজকিয়াতুন নাফস ও আধ্যাত্মিক মর্যাদা
সুফি সাধকগণের মতে, হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়ার কারামত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহর প্রেমই হলো শ্রেষ্ঠ শক্তি। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সর্বোত্তম উপায় হলো মানুষের সেবা করা। তেনার আধ্যাত্মিক মর্যাদা এত উচ্চ ছিল যে, দিল্লির তেরোজন শাসকের শাসনকাল দেখার পরও তেনি সাধারণ মানুষের মতোই জীবন যাপন করেছেন এবং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়ার কারামত তথা নোনা পানি মিষ্টি হওয়ার এই জিন্দা ইতিহাসটি আল্লাহর দরবারে তেনার সুউচ্চ আধ্যাত্মিক মর্যাদারই এক অনন্য প্রতীক। আজও লক্ষ লক্ষ মানুষ তেনার দরগাহে এসে রূহানী প্রশান্তি লাভ করে। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে ওলী-আউলিয়াগণের এই পরম কারামত থেকে শিক্ষা নিয়ে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি সত্যিকারের আশেক হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।
দিল্লির সেই পবিত্র কুয়া ও হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই অলৌকিক ঘটনাটি নিয়ে আপনার মনে কি কোনো বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে? কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন।










