দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কর্মকে মানবজাতির জন্য চিরন্তন ধর্ম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। নবীজির প্রতিটি কর্মের মাঝে লুকিয়ে আছে মুক্তি ও পরিত্রাণের পথ। তেনার অনুসরণ মানে কেবল অনুকরণ নয়, বরং আল্লাহর নূরকে নিজের অন্তরে ধারণ করা। কারণ, নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনই সেই আধ্যাত্মিক বাতিঘর, যা অন্ধকার হৃদয়কে ঈমান, প্রেম ও মুক্তির আলোয় পথ দেখায়।
দয়াল বাবা জালালী মাওলার ব্যাখ্যায় নবীজি ﷺ-এর কর্মই উম্মতের ধর্ম
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন,
“নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মই আমাদের প্রকৃত ধর্ম।”
তিনি এই বিষয়টি গভীরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আসুন, আমরা জানি নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই মহান শান ও মর্যাদা সম্পর্কে, যা আল্লাহর দরবারে অতুলনীয় এবং মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথপ্রদর্শক।
নূর নবীজি ﷺ-এর প্রতিটি কর্ম: উম্মতের ধর্ম ও মুক্তির বাতিঘর
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন, হে আলেম ভাইয়েরা, তিরমিযী শরীফ কিতাবুল মুজেজা খুলে দেখবা, কথাটা আছে।
আল্লাহ একটা আইন জারি করলেন। আল্লাহ বলেন,
“বন্ধু, (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার উম্মত ইচ্ছা করে যদি ১ (একটি) ওয়াক্ত নামাজ কাজা করে, আমি খোদা ২ (দুই) কোটি ৮৮ (অষ্টআশি) লক্ষ বছর দোজখ দেব।”
উম্মতের মুক্তির জন্য নবীজির দরদ | নবীজি ﷺ-এর কর্মই উম্মতের ধর্ম
আল্লাহ যখন এই আইন জারি করলেন, আল্লাহ যখন এই আইন প্রণয়ন করলেন, আল্লাহর বন্ধু (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেজার হয়ে গেলেন।
ও খোদা, কথাটা বললেন-
“কি? তুমি যা বলো তাই তো হয়। তোমার কথা ডিঙানোর মতো ক্ষমতা তো জগতে কারো নাই। আমার উম্মত ইচ্ছা করে কাজা নয়, অনেক নামাজ পড়বে না। কাজা করলে যদি ২ (দুই) কোটি ৮৮ (অষ্টআশি) লক্ষ বছর দোজখে না পড়লে, জানি তুমি খোদা কি করো।”
আরাফাতের ময়দানে রহস্যময় শিক্ষা
আল্লাহর বন্ধু সুযোগ খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ করে নবীজি ২ (দুই) লক্ষ সাহাবি নিয়ে আরাফাতে গিয়ে ইচ্ছা করে মাগরিবের নামাজ ছেড়ে দিলেন।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা এখানে বলেন,
“এখন কি উপায়? ইচ্ছে করে যদি ১ (এক)টি ওয়াক্ত নামাজ কাজা করলে ২ (দুই) কোটি ৮৮ (অষ্টআশি) লক্ষ বছর দোজখ। ও খোদা, তোমার বন্ধু একলা নয়, ২ (দুই) লক্ষ সাহাবি নিয়ে ইচ্ছা করে মাগরিবের নামাজ ছেড়ে দিলেন- উপায় কি? জানতে চাই।”
দয়াল বাবা জালালী মাওলার গভীর যুক্তি
দয়াল বাবা জালালী মাওলা আরও বলেন,
“১ (এক) লিখলাম, ১ (এক)-এর পরে হবে ২ (দুই), ১ (এক) বিনে ২ (দুই) হতে পারে না। ২ (দুই) পকেটে করে যদি মক্কা শরীফ যাই, ১ (এক)-এর সঙ্গে যাবে কি না, আমি জ্ঞানী-গুণী ভাই-বাবাদের কাছে জানতে চাই। খোদা, তোমাকে জিজ্ঞাসা করি, তোমার বন্ধু যদি দোজখে যায়, তুমি খোদা থাকবা কোথায়?”
মুজদালিফার সেই ঘোষণা: নবীজি ﷺ-এর কর্মই উম্মতের ধর্ম
আল্লাহ বলেন,
“বন্ধু, (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুজদালিফায় গিয়ে এশার সঙ্গে যদি মাগরিব আদায় করেন, কাজা আদায়ের সওয়াব হবে।”
আল্লাহ বলেন-
“লাকাদ কানা লাকুম ফি রাসূলিল্লাহি উসওয়াতুন হাসানাহ।”
“ও বন্ধু, (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার কর্মটা আমি, খোদা, আমার বান্দার জন্য ধর্ম বানাইলাম।”
পরিশেষে | নবীজি ﷺ-এর কর্মই উম্মতের ধর্ম
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন, এখন হাজী সাহেবরা হজ্জে গেলে আরাফাতে গিয়ে মাগরিব ছাড়তে হবে। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্ম আমার আল্লাহ আমাদের জন্য ধর্ম বানাইছেন।










