দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
এক সময় পৃথিবীর জ্ঞান-বিজ্ঞানের মশাল ছিল মুসলিম উম্মাহর হাতে। বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমাহ’ থেকে শুরু করে কর্ডোভার লাইব্রেরি পর্যন্ত- তামাম দুনিয়া তখন মুসলমানদের প্রজ্ঞায় আলোকিত ছিল। কিন্তু আজ সেই দৃশ্য চাক্ষুষ বিপরীত। মুসলিম উম্মাহর জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা আজ আমাদের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। কেন আমরা আমাদের সেই সোনালী অতীত হারিয়ে আজ অবক্ষয়ের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছি, তার এক রূহার্নী ও বাস্তবধর্মী বিশ্লেষণ আজ আমরা জানবো।
সোনালী অতীত: যখন বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিল মুসলমান
ইতিহাস চাক্ষুষ সাক্ষ্য দেয় যে, আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন মুসলিম মনীষীরাই। জাবির ইবনে হাইয়ান (রসায়ন), আল-খোয়ারিজমি (গণিত), ইবনে সিনা (চিকিৎসা) এবং আল-হাইসামের (আলোকবিজ্ঞান) মতো জ্ঞান তাপসেরা পৃথিবীকে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। মুসলিম উম্মাহর জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা তখন ছিল কল্পনাতীত। তখন কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণা ও চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চাকে ইবাদত মনে করা হতো।
বর্তমান অবক্ষয়ের বাস্তবতা: কেন এই অনীহা?
আজকের দিনে মুসলিম উম্মাহর জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা এর পেছনে প্রধান কারণ হলো আমরা ইসলামের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছি। আমরা কেবল বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতাকে ধর্ম মনে করছি, অথচ পবিত্র কুরআনের প্রথম বাণীই ছিল ‘ইকরা’ বা পড়ো। জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ হলেও, আজ আমরা আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণাকে অবহেলা করছি। মাওলানা রুমির দর্শনে যেমন বলা হয়েছে- প্রজ্ঞা হলো সেই নূর যা আত্মাকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করে, কিন্তু আজ আমাদের হৃদয়ে সেই অন্বেষার প্রদীপ যেন নিভে যাচ্ছে।
অবক্ষয় থেকে উত্তরণের পথ: ইমান ও বিজ্ঞানের সমন্বয়
ধর্মীয় অবক্ষয় ও বাস্তবতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে শক্তিশালী না হওয়া পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর হারানো গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের কেবল কিচ্ছা-কাহিনীতে মগ্ন থাকলে চলবে না, বরং আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে। লোকমান হাকিম-এর সেই প্রজ্ঞাময় নসিহতগুলো আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত ঈমানদার তিনিই যিনি দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের জ্ঞানে সমৃদ্ধ।
উপসংহার: হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার আহ্বান
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের অলসতা ঝেড়ে ফেলে পুনরায় জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করতে হবে।মুসলিম উম্মাহর জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা দূর করে আমাদের যুব সমাজকে গবেষণাগারে ফিরিয়ে আনতে হবে। যেদিন আমাদের হাতে তসবিহর সাথে কলম আর দূরবীক্ষণ যন্ত্র থাকবে, সেদিনই ইনশাআল্লাহ আমরা পুনরায় বিশ্বজয়ী উম্মাহ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবো। আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন। আমীন।










