দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
ইসলামের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে একটি চরম সত্য চাক্ষুষ প্রমাণিত হয়েছে-মিথ্যা বা বাতিলের আস্ফালন সাময়িক, কিন্তু হকের বিজয় চিরস্থায়ী। বর্তমান ফিতনার জমানায় চারিদিকে মিথ্যার চাকচিক্য দেখে অনেক ঈমানদার পেরেশান হয়ে পড়েন। আজ আমরা জানবো কেন হকের বিজয় সুনিশ্চিত এবং কীভাবে বাতিলের তামাম অন্ধকার ভেদ করে সত্যের নূর জ্যান্ত হয়ে ওঠে।
কুরআনের ঘোষণা: সত্যের আগমন ও মিথ্যার পতন
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন- “সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়” (সূরা বনী ইসরাঈল: ৮১)। এই আয়াতটি আমাদের ঈমানকে মজবুত করে যে, যখনই কোনো সমাজে বা অন্তরে হকের নূর প্রবেশ করে, তখন বাতিলের জাল এক নিমেষেই ছিঁড়ে যায়। নিসন্দেহে হকের বিজয় সুনিশ্চিত কারণ সত্যের সাথে স্বয়ং দয়াল রবের সাহায্য থাকে।
ওলী-আউলিয়াদের সংগ্রাম ও বাতিলের পরাজয়
নবী-রাসূলগণ এবং পরবর্তীকালে ওলী-আউলিয়াগণ আজীবন হকের ঝাণ্ডা সমুন্নত রাখতে সংগ্রাম করেছেন। তেনারা শিখিয়েছেন যে, বাতিল কখনো কখনো সংখ্যায় বা শক্তিতে অনেক বড় মনে হতে পারে (যেমনটি কারবালা বা বদরের যুদ্ধে হয়েছিল), কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কুদরতে হকের বিজয় সুনিশ্চিত হয়। ওলী-আল্লাহগণের নূরানি সান্নিধ্য আমাদের শেখায় কীভাবে বাতিলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সত্যের পথে অবিচল থাকতে হয়।
কলবে হকের বিজয়
হক ও বাতিলের এই লড়াই কেবল বাইরে নয়, এটি আমাদের কলবের ভেতরেও বিদ্যমান। আপনার নফস বা অহংকার যখন আধ্যাত্মিক নূরের কাছে পরাজিত হয়, তখনই আপনার হৃদয়ে হকের বিজয় সুনিশ্চিত হয়। ওলীগণের সান্নিধ্যে গেলে মানুষের অন্তরের অস্থিরতা দূর হয় এবং সত্য চেনার রূহার্নী চোখ খুলে যায়। এই রূহার্নী জ্ঞানই মানুষকে অন্ধকার থেকে বের করে কামেলিয়াতের পথে নিয়ে যায়।
উপসংহার: সত্যের পথে অবিচল থাকা
পরিশেষে বলা যায়, বাতিলের চাকচিক্য দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ এবং ওলী-আল্লাহদের শিক্ষা আমাদের এই গ্যারান্টি দেয় যে, ইনশাআল্লাহ হকের বিজয় সুনিশ্চিত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হকের পথে থাকার এবং বাতিলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর তৌফিক দান করুন। আমীন।







