দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
ইসলামের ইতিহাসে কিবলা পরিবর্তন এর গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। মূলত কিবলা হলো সেই সুনির্দিষ্ট দিক, যার দিকে মুখ করে তামাম মুসলমানরা পবিত্র নামাজ আদায় করেন। ইসলামে কিবলা হলো মক্কাতুল মোকাররমায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরীফ। মুসলমানরা কাবার দিকে মুখ করে ইবাদত করেন, যা কেবল মহান আল্লাহর প্রতি পরম আনুগত্যের প্রতীক নয়, বরং বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য, সংহতি এবং ইমানি চেতনার এক অনন্য প্রকাশও বটে।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা এই ঐতিহাসিক কিবলা পরিবর্তন এর রহস্য নিয়ে গভীর ও প্রেরণাদায়ী আলোচনা করেছেন। আসুন, সেই অলৌকিক ঘটনার অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করি। সেই সঙ্গে কিবলা পরিবর্তন এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুমহান মর্যাদা ও মাহাত্ম্য আল্লাহ তাআলার দরবারে কত উচ্চ এবং কত বেশি মহান!
তারদোহা”- নবীজির সন্তুষ্টিতেই নির্ধারিত কিবলা।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
রদ্দুল মোকতার ও দোররুল মোকতার ফিকহের অতি প্রসিদ্ধ দুটি কিতাব। বাবুল মোকাতাদি–এর ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমস্ত আম্বিয়া-ইকরাম (নবী-রাসুলগণ) বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করেছেন, এবং এতে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৬ মাস থেকে সাড়ে ১৬ মাস পর্যন্ত বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করেছেন, এবং তাতেও আল্লাহ তায়ালা খুশি।
ইহুদিদের ব্যঙ্গ
ইহুদিরা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ব্যঙ্গ করে বলল-
“মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের খোদাকে মানেন না, কিন্তু আমাদের কিবলাকে মানেন! আমাদের খোদা ভালো না আমাদের কিবলা ভালো?”
এই কথা শুনা মাত্রই আল্লাহর বন্ধুর (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর) কলিজায় আগুন লেগে গেছে। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাররা পরিমান চোখের পাতা উপরের দিকে তাকাতেই।
আল্লাহর ঘোষণা ও কিবলা পরিবর্তন
আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করলেন:
আমি জেনেছি এবং বুঝেছি যে, আমার সমস্ত নবী-রাসুল বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করেছেন, এবং আমি তাতে সন্তুষ্ট ছিলাম। আপনি ১৬ মাস থেকে সাড়ে ১৬ মাস বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করেছেন, তাতেও আমি রাজি ছিলাম। কিন্তু এখন ইহুদিরা ব্যঙ্গ করছে-আপনার কলিজায় আগুন লাগেনি, বরং আমার খোদায়িত্বে আগুন লেগেছে।
আমার ক্ষমতা আছে, কিন্তু আমার ক্ষমতায় নয়। বন্ধু (নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে খুশি ও রাজি রাখার জন্য আমি এখন বায়তুল মোকাদ্দাসকে ছেড়ে দিয়ে দক্ষিণ দিকে খানায় কাবাকে আপনার কিবলা হিসেবে নির্ধারণ করলাম। “ফালা নুয়াল্লিয়ান্নাকা কিবলাতান তারদোহা।” অর্থ- সুতরাং অবশ্যই আমি আপনাকে ফিরিয়ে দেব ঐ কিবলার দিকে যা আপনি পছন্দ করবেন। (সূরা-বাকারা, আয়াত ১৪৪)
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
ফালা নুয়াল্লিয়ান্নাকা কিবলাতান তারদোহা। এই আয়াতে “তারদোহা” শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়েছে, যা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পছন্দ করবেন, যা নির্ধারণ করবেন, যাতে তেনার সন্তুষ্টি রয়েছে। এক কথায়, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুশি ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী কিবলা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আর যদি আল্লাহর ক্ষমতায় কিবলা পরিবর্তন করা হতো, তবে শব্দটি হতো-
“ফালা নুয়াল্লিয়ান্নাকা কিবলাতান আরদোহা। এক কথায়-যা আল্লাহ পছন্দ করেছেন যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন।
উপসংহার: নূর নবীজির সন্তুষ্টিই আল্লাহর সন্তুষ্টি
পরিশেষে, এই ঐতিহাসিক কিবলা পরিবর্তন এর ঘটনাই চাক্ষুষ প্রমাণ করে- নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরম সন্তুষ্টিই স্বয়ং আল্লাহর সন্তুষ্টি। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর পরম প্রিয় হাবিব, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুশিকে যেন এক অনন্য উচ্চতায় স্থান দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের বাণী “ফালা নুয়াল্লিয়ান্নাকা কিবলাতান তারদোহা” এই আয়াতই চিরন্তন সাক্ষ্য দেয়, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাক ইচ্ছাতেই দিক বদলে যায়, হয়ে যায় কিবলা পরিবর্তন।










