দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহর ডান পাশে থাকবে স্বর্ণের ৩১৮টি কুর্সি আর বাম পাশে ১টি রুপার কুর্সি– এই বিস্ময়কর ও অলৌকিক বিষয়টি ইসলামের গভীর দর্শন ও তাসাউউফের এক অনন্য বিষয়। কেয়ামতের সেই ভয়াবহ ও গৌরবময় দিন, যেদিন সমগ্র মানবজাতি মহান আল্লাহর সামনে চূড়ান্ত ন্যায়বিচারের জন্য একত্রিত হবে, সেদিন জাতে আর বাতের এক পরম রূহানী খেলা প্রকাশ পাবে। দয়াল বাবা জালালী মাওলা এই কেয়ামতের ময়দানে কুর্সির গোপন রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে এক বিশেষ তত্ত্বের কথা প্রকাশ করেছেন। আজ আমরা জানবো কেন এই কুর্সিগুলো ডান ও বাম পাশে রাখা হবে এবং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা উম্মতের প্রতি দয়ার আসল রহস্য আসলে কী।
কেয়ামতের ময়দানে কুর্সির রহস্য ও জাতে-বাতের খেলা
দয়াল বাবা জালালী মাওলার রূহানী বয়ান অনুযায়ী, আল্লাহ হলেন ‘জাত’ আর নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন ‘বাত’। কেয়ামতের দিন উপস্থিত সমস্ত মানুষ জাতে আর বাতের এই অলৌকিক খেলা নিজের চোখে দেখতে পাবেন। সেই দিন আল্লাহ তাআলার ডান পাশে ৩১৮ (তিনশত আঠারো)টি কুর্সি থাকবে, যার প্রতিটি হবে খাঁটি স্বর্ণের। অন্যদিকে, আল্লাহর বাম পাশে থাকবে মাত্র ১ (এক)টি রুপার কুর্সি।
কুর্সি বন্টন ও খোদা প্রেমের কথোপকথন
দয়াল বাবা জালালী মাওলার বর্ণনা অনুযায়ী, কেয়ামতের সেই দিনে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম খোদাতায়ালাকে জিজ্ঞেস করবেন, “আল্লাহ, তুমি আমাকে কেমন ভালোবাসো?” আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উত্তর দেবেন, “বন্ধু, আমি তো আপনি”।
তখন নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবেন, “আমি যদি তুমি হও, তবে বলেন ডান ভালো নাকি বাম ভালো?” আল্লাহ বলবেন, “বন্ধু, অবশ্যই ডান ভালো; কারণ ডানে রয়েছে বেহেশত এবং বামে রয়েছে দোজখ”। নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবারও প্রশ্ন করবেন, “স্বর্ণের দাম বেশি নাকি রুপার দাম বেশি?” আল্লাহ বলবেন, “স্বর্ণের দাম বেশি, রুপার দাম কম”।
দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবেন, ডান ভালো, ডানে ৩১৮ (তিনশত আঠারো)টি কুর্সি কার জন্য রাখছো। আল্লাহ বলবেন, বন্ধু, আমার উলুল আজম বন্ধুর জন্য। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবেন, এই বামের কুর্সিটা কার জন্য রাখছো। আল্লাহ বলবেন, বন্ধু, এই কুর্সিটা রাখছি আপনার জন্য। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবেন, খোদা আমাকে বেশি ভালোবাসো- ডান ভালো, ডানে বেহেশত, বাম খারাপ- বামে দোজখ। স্বর্ণের দাম বেশি, রুপারের দাম কম। রুপারের কুর্সিটা বামে রাখছো আমার জন্য। ডানে স্বর্ণের কুর্সি গুলো দিলা উলুল আজম নবীগণের জন্য।
কাহারিয়াত’ নামের প্রকাশ ও গরিবের বন্ধুর দয়া
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই প্রশ্নের উত্তরে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যে রহস্য প্রকাশ করবেন, তা শুনলে প্রতিটি ইমানদার উম্মতের চোখ মহব্বতের পানিতে ভিজে যাবে।
উম্মতকে বাঁচানোর গোপন চাবিকাঠি
আল্লাহ বলবেন, “বন্ধু, উলুল আজম নবীগণ আমার প্রিয় দোস্ত হলেও ইয়া রাব্বি, নফসি ছাড়া তাদের মুখে আর কিছুই আসবেনা। তবে তারা আমার দোস্ত, সেজন্য তাদের ডান পাশে রাখলাম। একটু পরে আমার কাহারিয়াত নাম আরম্ভ হবে। কাহারিয়াত নাম আরম্ভ করে জাররা পরিমান দোষ দেখলে আমি হাত দিয়ে ধরে বাম দিকে (দোজখের দিকে) ফেলবো। আপনি গরিবের বন্ধু, উম্মতের দরদী আপনি বামে বসা থাকবেন, আপনার যে উম্মতকেই দোজখের দিকে ফেলা হবে আপনি খপকরে ধরে আপনার উম্মদের ডানে বেহেশত পাঠিয়ে দেবেন।
সুফি দর্শনে তাজকিয়াতুন নাফস ও রূহের তৃষ্ণা
তাসাউউফ বা সুফি সাধকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি দৃশ্যপট নয়, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তেনার হাবীব নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতদের জন্য এক পরম আশার বাণী। কেয়ামতের ময়দানে যখন সমস্ত সৃষ্টি নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, তখন একমাত্র নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উসিলাই হবে উম্মতের পার পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি। দয়াল বাবা জালালী মাওলার এই শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমরা যেন দুনিয়াতে থাকতে আমাদের কলব বা অন্তরকে পবিত্র করি এবং সর্বদা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরূদ ও মহব্বতে ডুবে থাকি।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহর ডান পাশে থাকবে স্বর্ণের ৩১৮টি কুর্সি এবং বাম পাশে থাকবে একটি রুপার কুর্সি- এই নিগূঢ় রহস্যটি আল্লাহর দরবারে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অতুলনীয়, অসীম ও মহান মর্যাদাকেই ফুটিয়ে তোলে। তিনি তেনার গুনাহগার উম্মতদের রক্ষা করার জন্যই সেদিন সেই বিশেষ আসনে অধিষ্ঠিত থাকবেন। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে কেয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শাফায়াত নসিব করুন। আমীন।
কেয়ামতের ময়দানে কুর্সির এই নিগূঢ় আধ্যাত্মিক রহস্য নিয়ে আপনার মনে কি কোনো বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে? কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন।








