দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
গাউছে পাকের কুকুর কর্তৃক বাঘ ভক্ষণ- এই বিস্ময়কর ও অলৌকিক কারামতের বিষয়টি ইসলামের ইতিহাস ও তাসাউউফের জগতের এক পরম রহস্যময় ঘটনা। ইতিহাসে ওলী-আউলিয়াগণের এমন কিছু রূহানী নিদর্শন রয়েছে যা সাধারণ জাগতিক বুদ্ধি বা বিজ্ঞানের নিয়মে ব্যাখ্যা করা যায় না, কিন্তু তা আল্লাহর ওলীগণের উচ্চ বেলায়েত ও আধ্যাত্মিক স্তরের পরিচয় বহন করে। দয়াল বাবা জালালী মাওলা গাউছে পাকের কুকুর কর্তৃক বাঘ ভক্ষণ এর পেছনের মূল ঐতিহাসিক সত্যতা এবং এই অলৌকিক ঘটনা থেকে নিগূঢ় রূহানী শিক্ষার গভীর রহস্য উন্মোচন করেছেন। আজ আমরা জানবো এর ভেতরের মারফতি রহস্য আসলে কী।
বাঘের পিঠে চড়ে গাউছে পাকের দরবারে শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন আল্লাহর এক জবরদস্ত কুতবু ও মহান ওলী। আধ্যাত্মিক শক্তির কারণে বনের হিংস্র বাঘ এবং বিষাক্ত সাপও তেনাকে মান্য করতো। তিনি বাঘের পিঠে চড়ে বেড়াতেন এবং সাপকে চাবুক হিসেবে ব্যবহার করতেন।
গাউছে পাক ও শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহির কথোপকথন
একদিন শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার বাঘের পিঠে চড়ে বড়পীর গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর পবিত্র দরবারে এসে হাজির হলেন। গাউছে পাক শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে সম্মান জানিয়ে বসার জন্য নিজের রুমাল মোবারক বিছিয়ে দিলেন। হযরত শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি সাহেনশাহ হালে গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহির পাশে বসলেন।
গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কে?” হযরত শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কিছুটা হালে এসে উত্তর দিলেন, “আমার নাম শিবলী; দেখেন না, বনের বাঘ ও সাপ আমাকে মানে!” গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুচকি হেসে বললেন, “দেখছি তো”। তারপর গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি জানতে চাইলেন, “আপনার সেই বাঘটি বর্তমানে কোথায়?” তিনি বললেন, “আমি আপনার পুকুর ঘাটের পাশে রেখে আসছি”।
ছাল নাই কুত্তার বাঘ ভক্ষণ ও অহংকার চূর্ণ
হযরত শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহির মনে কিছুটা শক্তির প্রকাশ দেখে গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনাকে বেলায়েতের আসল ক্ষমতা দেখানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
গাউছে পাকের কুকুর কর্তৃক বাঘ ভক্ষণ এর চাক্ষুষ প্রমাণ
গাউছে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “আমার দরবারে একটা সাধারণ ছাল নাই কুত্তা (চর্মরোগাক্রান্ত কুকুর) আছে; আপনি গিয়ে একটু দেখুন, সে হয়তো আপনার বাঘকে খেয়ে ফেলেছে”। গাউছে পাকের এই কথা শুনে হযরত শিবলী অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হয়ে দ্রুত পুকুর ঘাটের দিকে দৌড়ে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি যা দেখলেন, তাতে তেনার রূহের ভেতর কাঁপন ধরে গেল।
তিনি স্পষ্ট চোখে দেখলেন, গাউছে পাকের দরবারের সেই সামান্য রোগাক্রান্ত কুকুরটি তেনার বিশাল হিংস্র বাঘটিকে প্রায় অর্ধেক গিলে ফেলেছে। বনের রাজা বাঘ গাউছে পাকের কুকুরের সামনে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ করতে পারেনি। হযরত শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি সাথে সাথে তেনার ভুল বুঝতে পারলেন এবং গাউছে পাকের কদম মোবারকে হাজির হয়ে ক্ষমা চাইলেন। গাউছে পাক তেনাকে বললেন, “সাবধান হয়ে যাও, এবং বায়াতে রাসূল গ্রহণ করো”।
সুফি দর্শনে তাজকিয়াতুন নাফস ও বিনয়ের শিক্ষা
তাসাউউফ বা সুফি সাধকগণের মতে, গাউছে পাকের কুকুর কর্তৃক বাঘ ভক্ষণ এর এই ঘটনাটি কেবল একটি অলৌকিক গল্প নয়, এটি মূলত নাফসের অহংকার চূর্ণ করার এবং কলব পবিত্র করার এক পরম আধ্যাত্মিক শিক্ষা।
আসল শক্তি অহংকারে নয়
হযরত শিবলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বনের বাঘকে বশ করেছিলেন, যা নিঃসন্দেহে এক বড় কুতবিয়তের প্রমাণ। কিন্তু গাউছে পাক দেখিয়ে দিলেন যে, তেনার বেলায়েতের স্তর এত উচ্চে যে তেনার দরবারের একটি তুচ্ছ পশুর রূহানী শক্তির কাছে অন্য ওলীর বশ করা বাঘও খড়কুটোর মতো উড়ে যায়। দয়াল বাবা জালালী মাওলার এই শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আধ্যাত্মিক পথের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো নিজের শক্তির অহংকার। আসল বেলায়েত বা শক্তি অহংকারে প্রকাশ পায় না, বরং তা প্রকাশ পায় বিনয়, আনুগত্য, তাসফিয়াতুল কলব এবং মুর্শিদের প্রতি নিখাদ ভক্তিতে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, গাউছে পাকের কুকুর কর্তৃক বাঘ ভক্ষণ তথা এই অলৌকিক ঘটনাটি আল্লাহর দরবারে বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির অদ্বিতীয় ও অতুলনীয় আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রমাণ করে। তেনার রূহানী ক্ষমতা মানুষের সীমা ছাড়িয়ে সমস্ত জীবজন্তু এবং প্রকৃতির প্রতিটি অণু-পরমাণুর ওপর বিস্তৃত ছিল। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে গাউছে পাকের এই পরম কারামত থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের নাফসকে পবিত্র করার এবং ওলী-আউলিয়াগণের প্রতি সত্যিকারের আদব ও মহব্বত রাখার তৌফিক দান করুন। আমীন।
গাউছে পাকের কুকুরের এই অলৌকিক বাঘ ভক্ষণের কারামত এবং দয়াল বাবা জালালী মাওলার এই রূহানী শিক্ষা নিয়ে আপনার মনে কি কোনো বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে? কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন।










