দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মেঘনার তলদেশে ১২ ঘন্টা দয়াল বাবা জালালী মাওলা তেনার এই অলৌকিক পানির নিচের জিন্দা কারামত ও বেঁচে থাকার ঐতিহাসিক ঘটনাটি তাসাউউফ ও ওলীগণের ইতিহাসের এক পরম আধ্যাত্মিক নিদর্শন। সাধারণ বৈজ্ঞানিক বা জাগতিক বুদ্ধিতে কোনো রকম অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া পানির নিচে এত দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকা সম্পূর্ণ অসম্ভব। কিন্তু মহান আল্লাহ যখন তেনার বিশেষ ওলী বা বন্ধুদের দুনিয়াতে পাঠান, তখন তেনাদের মাধ্যমে প্রকৃতির চেনা নিয়মকে ওলট-পালট করে দেন। আজ আমরা জানবো ১৯৮৬ সালের সেই ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা এবং মেঘনার তলদেশে ১২ ঘন্টা দয়াল বাবা জালালী মাওলা তেনার জিন্দা কারামতের মাধ্যমে কীভাবে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছিলেন এবং এর ভেতরের মারফতি রহস্য আসলে কী।
১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা ও মেঘনা ফেরিঘাট
ঘটনাটি ছিল ১৯৮৬ সালের। দয়াল বাবা জালালী মাওলা একটি ধর্মীয় মাহফিল সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন। তেনাকে বহনকারী বাসটি যখন পথিমধ্যে মেঘনা ফেরিঘাটে পৌঁছায়, তখন যাত্রীবাহী বাসটিকে ফেরির ওপরে ওঠানো হয়।
ফেরির চেইন ছেঁড়া ও অতল মেঘনায় পতন
ফেরিটি ঘাট ছেড়ে নদীর মাঝপথের দিকে কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। বাসটির ব্রেক আচমকা বিকল বা ফেল হয়ে যায় এবং তীব্র গতিতে ফেরির পেছনের চেইন ছিড়ে পুরো বাসটি উত্তাল মেঘনা নদীতে পড়ে যায়। ওই বাসে দয়াল বাবা জালালী মাওলাসহ প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন সাধারণ যাত্রী ছিলেন, যাঁরা মুহূর্তের মধ্যেই নদীর অতল গভীরে তলিয়ে যান।
১২ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান ও ডুবুরিদের মহাবিস্ময়
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তৎকালীন সময়ে ঢাকা থেকে বিশেষ ডুবুরি দল (Divers) এবং ক্রেন মেশিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে দীর্ঘ ১২টি ঘণ্টা পার হয়ে গেছে এবং বাসটি নদীর তলদেশেই নিমজ্জিত ছিল।
“ইয়া রাসুল আল্লাহ” ধ্বনি ও ওলীর জিন্দা প্রমাণ
ডুবুরিরা অত্যন্ত কষ্টের পর ক্রেন মেশিনের সাহায্যে নদী থেকে বাসটি ওপরে তুলতে সক্ষম হয়। বাসের ভেতরে গিয়ে ডুবুরিরা দেখল, পানির তীব্র চাপে এবং অক্সিজেনের অভাবে বাসের সমস্ত যাত্রী ইতিমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন বা মারা গেছেন। ডুবুরিরা এক এক করে লাশগুলো বাইরে বের করছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা এক অলৌকিক দৃশ্য দেখে মহাবিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল! তারা দেখল-বাসের একদম পেছনের আসনে দয়াল বাবা জালালী মাওলা সম্পূর্ণ জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় বসে জিকির করছেন এবং বলছেন, “ইয়া রাসুল আল্লাহ।”
ডুবুরিরা তেনাকে জড়িয়ে ধরে বিস্ময়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল, “বাবা, আপনি কে আমরা জানি না, তবে ১২ ঘণ্টা পানির নিচে আল্লাহর ওলী ছাড়া কোনো সাধারণ মানুষ এভাবে জিন্দা বাঁচতে পারে না।”
সুফি দর্শনে তাজকিয়াতুন নাফস ও কুদরতের শিক্ষা
তাসাউউফ বা সুফি সাধকগণের মতে, মেঘনার তলদেশে ১২ ঘন্টা অবস্থান করার এই ঘটনাটি কেবল একটি চাক্ষুষ বিস্ময় নয়, এটি মূলত মানুষের নাফসের অহংকার চূর্ণ করার এবং তাসফিয়াতুল কলব বা অন্তর পবিত্র করার এক পরম শিক্ষা।
প্রকৃতির উপাদান ওলীর অনুগত
বিজ্ঞান কাজ করে কার্যকারণ (Cause and Effect) অর্থাৎ-“যেকোনো ঘটনার পেছনে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে” নিয়মের ওপর ভিত্তি করে। বিজ্ঞান বলে পানিতে ডুবলে মানুষ অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না। কিন্তু সুফি দর্শনের গভীর মারফতি শিক্ষা হলো- .পানি, বাতাস বা মাটি প্রকৃতির কোনো উপাদানই নিজে নিজে চলে না, বরং তারা আল্লাহর ওলীগণের রূহানী শক্তির ইশারার অনুগত হয়ে কাজ করে। দয়াল বাবা জালালী মাওলার এই শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমরা যেন দুনিয়াতে থাকতে আমাদের কলবকে পবিত্র করি এবং সর্বদা মুর্শিদের প্রতি নিখাদ ভক্তিতে ডুবে থাকি।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, মেঘনার তলদেশে ১২ ঘন্টা দয়াল বাবা জালালী মাওলার জিন্দা কারামত এর এই অলৌকিক ঘটনাটি আল্লাহর দরবারে তেনার অদ্বিতীয় ও অতুলনীয় আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং সর্বোচ্চ মর্যাদাকেই ফুটিয়ে তোলে। তেনার রূহানী ক্ষমতা জাগতিক সব নিয়মের ঊর্ধ্বে ছিল। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে দয়াল বাবা জালালী মাওলার এই কারামত থেকে শিক্ষা নিয়ে ওলী-আউলিয়াগণের প্রতি সত্যিকারের আদব ও মহব্বত রাখার তৌফিক দান করুন। আমীন।
মেঘনা নদীর তলদেশে কাটানো দয়াল বাবা জালালী মাওলার এই অলৌকিক রূহানী কারামত এবং ১৯৮৬ সালের এই ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা নিয়ে আপনার মনে কি কোনো বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে? কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন।










