---Advertisement---

পাক পাঞ্জাতন।

October 26, 2025 10:41 PM
পাক পাঞ্জাতন
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

“পাক পাঞ্জাতন” অর্থ কি?  পাক অর্থ পবিত্র, পাঞ্জা অর্থ ০৫ (পাঁচ), তন অর্থ শরীর বা দেহ। একথায় পাক পাঞ্জাতন অর্থ পবিত্র ০৫ (পাঁচ)টি দেহ মোবারক। তেনারা হলেন দয়াল নবীজি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলা আলী আলাইহিস সালাম, খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমা আলাইহাস সালাম, ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম।

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন- পাক পাঞ্জাতনই প্রকৃত ইমান। তেনাদেরকে ভালোবাসার মাধ্যমেই আমরা সত্যিকারের মুমিন হতে পারি। আসুন, অন্তরের চোখ খুলে মন দিয়ে পাক পাঞ্জাতন সম্পর্কে জানি এবং তেনাদের প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা রেখে হৃদয়কে আলোকিত করি।

নূরের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত আল্লাহর রহস্য

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-

আল্লাহু আহাদুন লামইয়া কুল মাহু শাই।”

যখন আল্লায় আল্লাহ, আর কেহ নাই-
আগুন নাই, পানি নাই, মাটি নাই, বাতাস নাই, আরশ নাই, কুরসী নাই, লওহ নাই, কলম নাই, বেহেশত নাই, দোজখ নাই, চাঁদ নাই, সূর্য নাই, দিন নাই, রাত নাই, পাহাড় নাই, দরিয়া নাই- নাই, নাই, কিছুই নাই।

আল্লাহ বলেন, আমি আছি, আমিত্ব নাই।
আমিত্ববিহনে “আমি” বলে ডাক দিবে কে?”

দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-

আল্লাহর নাম আসলে ১০ (দশ) হাজার। কিন্তু আপনারা ৩ (তিন) হাজার নাম আলেমের মুখে শুনতেছেন। ৩ (তিন) হাজার নামের মধ্যে থেকে ২ (দুই) হাজার ৯ (নয়) শত ৯৯ (নিরানব্বই) নাম আমার আল্লাহ আলাদা করে।

“আল্লাহ” নামের মধ্যে আল্লাহ একটা ডুব দিছে।
ঐ ডুবের মধ্যে আমার আল্লাহ ছিলেন ২ (দুই) লক্ষ ৩৩ (তেত্রিশ) হাজার ৩০ (ত্রিশ) বছর।

আল্লাহ যে আল্লাহ নামের মধ্যে খেলছে, আল্লাহ নামের নূর ঝরতে ঝরতে নূরের একটা জমাট স্তম্ভ হয়ে গেছে।

পানি যদি নিরব থাকে, আমরা যদি পুকুরের পাড়ে অথবা নদীর ঘাটে যাই- পানিতে আমাদের ছায়া দেখা যায়।

আল্লাহ পাক ২ (দুই) লক্ষ ৩৩ (তেত্রিশ) হাজার ৩০ (ত্রিশ) বছর পরে, যখন আল্লাহ তাঁর কুদরতির চোখ মেলছেন- আল্লাহ দেখতেছেন, জমাট নূরের মধ্যে আরেকটা ছায়া দেখা যাচ্ছে।

আলিফের উপর একটা খাড়া জবর আছে- এটা আল্লাহর জবর। অর্থ বুঝেন না, মজা লাগে না।

আর আলিফের নিচে একটা সোয়া জবর আছে- এটা আমার দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জবর।

খাড়া জবরের দ্বারা বুঝাইতেছে অহংকার, তকাব্বুরি, গৌরব ও ফখর- যা আল্লাহর মধ্যে আছে। আল্লাহ যদি ফখর করেন, তাতে কোনো গুনাহ হবে কি?

আর সোয়া জবরের দ্বারা বুঝাইতেছে আজিজি, এন্ডেজারি, ভদ্রতা, নম্রতা ও সভ্যতা- যা একমাত্র দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে।

আল্লাহ পাক ২ (দুই) লক্ষ ৩৩ (তেত্রিশ) হাজার ৩০ (ত্রিশ) বছর পরে, জমাট নূরের মধ্যে যখন নজর করলেন- দেখতেছেন, জমাট নূরের ভিতরে আরেকটা ছায়া দেখা যাচ্ছে।

এবার আল্লাহর মধ্যে ফখর আসছে। আল্লাহ বলতেছেন, “আমি আছি, আমিত্ব আসল কোথা থেকে?”

তখন আল্লাহ ঐ ছায়ার দিকে লক্ষ করে বলতেছেন-
“আলাসতু বি রাব্বিকুম।”

তখন যদি ছায়া বলত, “আলাসতু ওয়াসতু কুম,” তাহলে দুইজন খোদা হয়ে যেত।

আল্লাহ যখন “আলাসতু বি রাব্বিকুম” বললেন, তখন দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম একলা নন- আমাদেরকে রহমতের কোলে নিয়ে বললেন, “কালু বালা, তুমি আমার মনিব, আমি তোমার গোলাম।”

এই কথা বলতে বলতেই নূরটা ঝিলকাতে ঝিলকাতে লয় হয়ে যাইতে, আল্লাহ জমাট নূরের ছায়ার মধ্যে একটা থাপড় দিয়েছে, থাপড় দিতেই ছায়াটা একট ময়ূর হয়ে গেছে। আল্লাহ ময়ুর টাকে বুকে নেয়, গলায় লাগায়, মুখে লাগায়, মাথায় নেয়- এভাবে আল্লাহ ময়ূরকে নিয়ে খেলছে ১৯ (উনিশ) শত কোটি ৮২ (বিরাশি) লক্ষ ৯৪ (চুরানব্বই) হাজার ২৪ (চব্বিশ) শত ৮ (আট) বছর।

দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শান আল্লাহর দরবারে কত মহান।

আল্লাহর যখন জোশ কমছে, আল্লাহ ময়ূরকে সিদরাতুল একিন গাছের ডালে বসাইছে। আমাদের দেশি রাতা মোরগ আছে, রাতা মোরগের ছোট আছে। তেমনি ঐ ময়ূরেরও ছোট আছে-৪ (চার)টা

আল্লাহ কি জেনে কি ভেবে, ময়ূরের ১ম (প্রথম) ছোটের মধ্যে যখন ধরতে লাগছে সামনের দিকে একটি নূর দৌড় দিয়েছে- ঐ নূর হলো বাবা মওলা আলী।
২য় (দ্বিতীয়) ছোটের মধ্যে যখন ধরতে লাগছে পিছনের দিকে একটি নূর দৌড় দিয়েছে- ঐ নূর হলো খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমা
৩য় (তৃতীয়) ছোটের মধ্যে যখন ধরতে লাগছে ডান দিক দিয়ে একটি নূর দৌড় দিয়েছে- ঐ নূর হলো বাবা হাসাইন
৪র্থ ছোটের মধ্যে যখন ধরতে লাগছে বাম দিকে একটি নূর দ্রুত গতিতে দৌড় দিয়ে ঠাস করে পড়ছে- ঐ নূর হলো বাবা হুসাইন

বাবা হুসাইনি নূরটা ঠাস করে পড়াতে ৬টা নূর ৬দিকে ছুটছে। এই ৬টা নূরের একটি ফোটা দিয়ে আল্লাহ ৭ আসমান ও ৭ জমিন বানিয়েছেন। ঐ একটি ফোটা দিয়ে আল্লাহ মানব ও দানব সৃষ্টি করার আগে যে সময়- বেহেশত, দোজখ, কিছুই নেই- ঐ সময় আল্লাহ মিজান বানিয়েছেন।

পরিশেষে

পাক পাঞ্জাতনের মর্যাদা আল্লাহর দরবারে অপরিসীম।
পাক পাঞ্জাতন হলেন হক ও ন্যায়ের প্রতীক,
পাক পাঞ্জাতন হলেন রহমত ও নম্রতার প্রতীক,
পাক পাঞ্জাতন হলেন সাহস, ধৈর্য ও ত্যাগের প্রতীক
যারা পাক পাঞ্জাতনকে ভালোবাসে, তারাই খাটি ইমানদার মুসলমান

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment