দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মানুষের জীবন অনেকটা আয়নার মতো- যেমন হৃদয়, তেমনই প্রতিফলন। কেউ একই দৃশ্যে আলোর আভা দেখে, আবার কেউ আঁধারের ছায়া খোঁজে। এক গ্রামের নীরব রাতেই এমন এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটল, যা শুনলে যে কেউ হাসবে আবার ভেবে দেখবে।
এক রাতের গল্প
মধ্যরাত। চারপাশে কেবল পোকামাকড়ের শব্দ আর আকাশভরা তারা।
গ্রামের একজন পরহেজগার মানুষ ঘুম ভেঙে উঠে দাঁড়ালেন। হৃদয়ে আলোড়ন- আজ তাহাজ্জুদ নামাজে দাঁড়াবেন। শান্ত পদক্ষেপে তিনি এগিয়ে গেলেন পুকুরঘাটে। টলটলে পানিতে হাত ডুবিয়ে ধীরে ধীরে ওজু করতে শুরু করলেন।
ঠিক তখন পুকুরের অন্য ঘাটে এসে হাজির হলো এক চোর। কেবল মাত্র পাশের গ্রাম থেকে চুরি করে ফিরেছে। ঘাম ঝরা শরীর ধোয়ার জন্য নেমে পড়ল পানিতে।
পরহেজগার মানুষ পানির ছিটা মুখে দিতে দিতে হেসে বললেন-
“সুবহানাল্লাহ! আমি ভেবেছিলাম একাই এই এলাকায় রাতে উঠে ইবাদত করি। দেখা যাচ্ছে আরও একজন আল্লাহর বান্দা রয়েছেন যিনি ওজু করছেন।”
অন্যদিকে চোর নিজের মনে বলল-
“হায় হায়! আমি ভেবেছিলাম শুধু আমিই রাতে চুরি করি। আসলে দেখি আরও চোর আছে, যে চুরি করে গোসল দিচ্ছে!”
দু’জনেই নিজেদের ধারণায় খুশি হয়ে গেল।
একজন জায়নামাজে দাঁড়ালেন তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার জন্য
অন্যজন ঘরে ফিরল চুরির মাল নিয়ে।
পরিশেষে
ঘটনাটি ছোট হলেও শিক্ষাটা বড়। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিই তার চিন্তা-চেতনা গড়ে দেয়। পরহেজগার ব্যক্তি অন্যকে দেখেও ভালো ভেবেছিলেন, আর চোরও একই দৃশ্য দেখে মন্দ ভেবেছিল। বাস্তবে দু’জনের জীবনই ছিল একেবারেই ভিন্ন পথে।
শিক্ষা হলো- মানুষ যেমন, সে তেমনভাবেই পৃথিবীকে দেখে। নেককার আল্লাহর বান্দা সবখানে ভালো খোঁজে, আর পাপী সর্বত্র নিজের ছায়াই খুঁজে পায়।










