দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মানুষের জীবন অনেকটা সমুদ্রযাত্রার মতো। কখনো ঢেউ তীব্র হয়, কখনো চারপাশ অদৃশ্য কুয়াশায় ঢেকে যায়। সেই কুয়াশা শুধু প্রকৃতির নয়- মানুষের অন্তরেও থাকে। প্রশ্ন হলো, কে সেই কুয়াশার ভেতর আলো খুঁজে পায়? আর কে অন্ধকারেই হারিয়ে যায়?
হৃদয়ে খুঁজতে হয়
সমুদ্রতীরবর্তী একটি গ্রামে বাস করত একজন জেলে। দিনের পর দিন সে সাগরে যেত মাছ ধরতে, বাজারে বিক্রি করত, সংসার চালাত। বাইরে থেকে তার জীবন স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতা।
এক ভোরে, সাগরঘাটে কুয়াশায় আচ্ছন্ন বাতাসে জেলে একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখল।
একজন বুজুর্গ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন সাগরের ধারে। ঢেউ এসে তেনার পা ভিজিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তিনি যেন অচঞ্চল।
জেলে কাছে গিয়ে প্রশ্ন করল—
— বাবা, এত কুয়াশার মাঝে একা দাঁড়িয়ে আছেন কেন? ভয় লাগে না?
বুজুর্গ শান্তভাবে বললেন—
— ভয় তো তাদেরই লাগে, যারা ভাবে কুয়াশাই শেষ সত্য। অথচ কুয়াশা মানে হলো আলো আসার আগের পর্দা।
জেলে বিস্ময়ে বলল—
— কিন্তু আমি তো এই কুয়াশার ভেতর কোনো আলো দেখতে পাচ্ছি না।
বুজুর্গ তাঁর চোখের দিকে তাকালেন। কণ্ঠস্বর ছিল গভীর, অথচ কোমল—
— আলো চোখে নয়, অন্তরে খুঁজতে হয়। মানুষ যখন নিজের ভেতরের লোভ, হিংসা আর হতাশাকে কুয়াশা ভেবে সরিয়ে দেয়— তখন অন্তরেই সে আলো উদ্ভাসিত হয়। সেই আলোই মানুষকে সত্যিকার দিকনির্দেশনা দেয়।
এই কথা শুনে জেলের বুক কেঁপে উঠল। সে বুঝল, এতদিন শুধু মাছের জালে ভরসা করেছে, অথচ নিজের অন্তরের জাল পরিষ্কার করেনি।
সেদিন থেকে তার জীবন বদলে গেল। সমুদ্রের ঢেউ আর আকাশের নীরবতায় সে নতুন অর্থ খুঁজতে লাগল। প্রতিটি মানুষের হাসি-ক্রন্দনে সে এক অদৃশ্য আলোর স্পর্শ অনুভব করল। আর কুয়াশা তার কাছে ভয় নয়- বরং আশার প্রতীক হয়ে উঠল।
পরিশেষে
জীবনে কুয়াশা আসবেই। তা হতে পারে দুঃখ, ভয় বা ব্যর্থতা। কিন্তু এগুলো কখনো শেষ নয়- বরং আলোর আগমনের পূর্বাভাস। যে মানুষ অন্তরের কুয়াশা সরাতে শেখে, সে-ই প্রকৃত আলোর সন্ধান পায়। আর সেই আলোই তাকে মাওলার নৈকট্যে নিয়ে যায়।










