দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
খাগড়াছড়ি জেলা-মাটিরাঙ্গা উপজেলা, তাইন্দং ইউনিয়নের শান্ত পাহাড়ি জনপদে দয়াল বাবা জালালী মাওলার বহু মুরিদ বাস করেন। এ অঞ্চলে তেনার অসংখ্য সফর এবং অগণিত করামতের স্মৃতি আজও জীবন্ত। মুরিদদের কাছে তিনি ছিলেন দয়ার সাগর, আধ্যাত্মিক শক্তি ও রহমতের প্রতীক। তেনার আগমন মানেই ভক্তদের হৃদয়ে নতুন প্রাণ ফিরে আসা।”
চলুন জানি খাগড়াছড়ি জেলা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা, তাইন্দং ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া দয়াল বাবা জালালী মাওলার সেই আশ্চর্যকর করামত, যা আপনার হৃদয়ে ওলী-আউলিয়াগণের প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তি জাগিয়ে তুলবে।
এক লাথিতে বদলে গেল তালগাছের জীবন
তাইন্দং ইউনিয়নের রফিক পিয়ন ছিলেন দয়াল বাবা জালালী মাওলার একজন মুরিদ। একদিন দয়াল বাবা জালালী মাওলা তাঁর বাড়িতে আগমনের পর রফিক পিয়ন অনুরোধ করে বললেন-
“বাবা, খাগড়াছড়িতে তালগাছ কম। আমার উঠোনে একটা তালগাছ আছে, কিন্তু তাল ধরে না। আপনি যদি একটু দোয়া করেন”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা তালগাছের কাছে গিয়ে উপরে তাকিয়ে কী যেন বললেন। তারপর তিনি তালগাছের গোড়ায় একটা লাথি দিয়ে বললেন–
“এই তালগাছ, তাল ধরিস।”
পরের বছর দেখা গেল-
যে গাছে কখনো তাল ধরত না, সে গাছে সত্যিই তাল ধরেছে!
কিন্তু সমস্যা হলো-
তাল ধরে ঠিকই, থাকে না। সবই ঝরে পড়ে যায়।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা পরের বছর সফরে এলে রফিক পিয়ন আবার তেনার সামনে এসে কষ্টভরা কণ্ঠে বললেন–
“বাবা, আপনার দোয়ায় তাল ধরেছে ঠিকই, কিন্তু থাকে না-সব ঝরে পড়ে।”
দয়াল বাবা জালালী মাওলা মুচকি হেসে বললেন–
“তাল ধরতে তো বলেছি, থাকতে তো বলিনি!”
তারপর তিনি তালগাছের কাছে গিয়ে বললেন-
“তালগাছ, বেশ তাল ধরেছ তুমি। এবার তালগুলো ধরে রেখো- ঝরে যেন নষ্ট না হয়। আমার ছেলে-মেয়েরা তোমার তাল খাবে।
এরপর থেকে সেই তালগাছের তাল আর ঝরে পড়ত না। বরং সেই গাছে এখন অনেক বড় বড় তাল হয়-যা দেখে সবাই বিস্মিত হয়ে যায়।
পরিশেষে
দয়াল বাবা জালালী মাওলার এই করামত আজও তাইন্দংয়ের মানুষের মুখে মুখে আলো হয়ে জ্বলে। বিশ্বাসীদের হৃদয় তাতে উজ্জ্বল হয়, আর অবিশ্বাসীরাও অস্বীকার করতে পারে না ওলী-আউলিয়াগণের আল্লাহপ্রদত্ত অলৌকিক ক্ষমতা।








