দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
আধ্যাত্মিক জগতের মহাসমুদ্রে ওলী-আল্লাহগণ হলেন সেই সব রাজকীয় নাবিক, যাঁদের ইশারায় তামাম কায়েনাত মাথা নত করে। আজ আমরা জানবো গাউসুল আজম বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতু্ল্লাহি আলাইহি-এর সেই বিস্ময়কর ও পশুপাখির সাথে রূহার্নী কথোপকথন-এর এক অলৌকিক কারামত। ওলীদের এই সৃষ্টির ওপর রাজকীয় আধিপত্যের ঘটনা কোনো কল্পনা নয়, বরং তাসাউউফ শাস্ত্রের এক পরম ও অকাট্য সত্য।
গাউসুল আজমের রূহার্নী দৃষ্টি ও বাজপাখির অলৌকিক পতন
একদা বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতু্ল্লাহি আলাইহি তেনার মুরিদ ও আশেকদের নিয়ে এক আধ্যাত্মিক বয়ানে মগ্ন ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশের ওপর দিয়ে একটি বাজপাখি চিৎকার করতে করতে উড়ে যাচ্ছিল। পাখির সেই তীব্র চিৎকার মুরিদ ও আশেকদের কলবী মনযোগ নষ্ট করলে, শাহানশাহে বাগদাদ কেবল একবার আকাশের দিকে নূরানি নজর দিলেন। সাথে সাথে বাজপাখিটি নিথর হয়ে বড়পীরের চরণে এসে লুটিয়ে পড়লো। উপস্থিত তামাম মানুষ যখন অবাক হয়ে এই দৃশ্য দেখছিলেন, তখন গাউসুল আজম তেনার রূহার্নী ফয়েজ দিয়ে সেই নিথর পাখিটিকে পুনরায় জ্যান্ত করলেন।
বনের পশুর ওপর ওলীগণের রাজকীয় আধিপত্য
সুফিদের শ্রেষ্ঠ কিতাব ‘কালায়েদ আল-জাওয়াহির’-এ উল্লেখ আছে যে, বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতু্ল্লাহি আলাইহি যখন বাগদাদের নির্জন বনে জিকিরে মশগুল থাকতেন, তখন বনের বাঘ ও সিংহ তেনার পাশে অনুগত সেবকের মতো শুয়ে থাকতো। আর পশুপাখির সাথে রূহার্নী কথোপকথন ছিল তেনার আধ্যাত্মিক মাকামের এক সামান্য বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তিনি কেবল ভাষা বুঝতেন না, বরং পশুপাখিরাও তেনারি নূরানি সিনা থেকে নির্গত ফয়েজ ও রূহার্নী নসিহত হৃদয়ঙ্গম করতো।
সৃষ্টির ওপর বেলায়েতের মহিমা
মারেফাতের পথে যখন কোনো বান্দা নিজের আমিত্বকে বিলীন করে স্রষ্টার প্রেমে মত্ত হয়, তখন তামাম মাখলুকাত তেনার অনুগত হয়ে যায়। বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতু্ল্লাহি আলাইহি-এর এই কারামত আমাদের শিক্ষা দেয় যে—
ওলী-আল্লাহগণ কেবল মানুষের পথপ্রদর্শক নন, বরং তামাম প্রকৃতির ওপর তেনাদের রূহার্নী রাজত্ব কায়েম থাকে।
পশুপাখির আর্তনাদ ও ভাষা ওলীদের কাছে পরিষ্কার থাকে।
স্রষ্টার প্রেমে লীন হওয়া মানুষের জন্য তামাম সৃষ্টি জ্যান্ত দুয়ার খুলে দেয়।
উপসংহার: ওলীগণের জিন্দা আধ্যাত্মিক শক্তির শিক্ষা
পরিশেষে বলা যায়, পশুপাখির সাথে রূহার্নী কথোপকথন এবং বড়পীর গাউসুল আজম রহমাতু্ল্লাহি আলাইহির এই জিন্দা কারামত আমাদের ঈমানকে এক সুউচ্চ মর্যাদার আসনে বসিয়ে দেয়। ওলী-আল্লাহদের এই রূহার্নী ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখা মানেই হলো আল্লাহর কুদরতের ওপর বিশ্বাস রাখা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কামেল ওলীগণের উসিলায় সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হওয়ার এবং ওলীদের মহব্বতে কলব জিন্দা করার তৌফিক দান করুন। আমীন।










